September 21, 2018

চেয়ারম্যানদের মতামত উপেক্ষা করে পাবনা জেলার সকল ইউপি সচিবদের বদলী

আমিনুল ইসলাম হিরু,
পাবনা সংবাদদাতাঃ
পাবনার জেলা প্রশাসন ইউপি চেয়ারম্যানদের সুপারিশ উপেক্ষা করে ৬১ জন ইউপি সচিবকে বিভিন্ন ইউপিতে বদলী করেছেন। ইউপি সচিবদের বদলীর কথা জানতে পেরে ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বর্তমান ও নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা ১৫-১৬ অর্থবছরের অডিট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ও দায়িত্বভার না নেওয়া পর্যন্ত বদলীর আদেশ স্থাগিতের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের আবেদন উপেক্ষা করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ইউপি সচিবদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে ইউনিয়নে পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ড বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি স্বশাসিত স্থানীয় সরকার ভাবনাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের গত ৩ জুলাই ১৫ তারিখের এক আদেশ বলে জেলা প্রশাসন তাদের বদলী করেছেন। উপরিউক্ত আদেশে বলা হয়েছে ইউনিয়ন উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে সাধারণ ও রাজস্ব প্রশাসনে নিয়োজিত ৩(তিন) বৎসরের অধিককাল যাবৎ নিয়োজিত কর্মচারীদের বদলী করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য ইউপি সচিবদের বেতন রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয় না। তাদের বেতনের ৭৫% কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য খাত থেকে এবং ২৫% ইউনিয়ন পরিষদের খাত থেকে দেওয়া হয়। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী নন। তারা স্থানীয় সরকারের কর্মচারী। সে কারণে তারা ইচ্ছে করলে সরকারের অন্যান্য বিভাগে বদলি হতে পারেন না। তাদের বদলি শুধু মাত্র ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাদের চাকুরি অন্যান্য সরকারি চাকুরির মতো না হওয়ায় তাদের কোনো পেনশন সুবিধা নেই। ফলে মন্ত্রী পরিষদের উপরিউক্ত আদেশ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের এ.সি.আর লিখে থাকেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদের বেতন বর্দ্ধিত করা সহ বদলি করার নিয়ম রয়েছে। অথচ বর্তমান জেলা প্রশাসক পূর্বেকার সকল নিয়মকে উপেক্ষা করে তাদেরকে একযোগে বদলি করেছেন। জনৈক ইউপি সচিব এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ‘তাদের চাকুরি জাতীয়করণের কথা বললে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘তোমরা স্থানীয় সরকারের কর্মচারী। তোমাদের চাকুরি সরকারীকরণ হয় কীভাবে! অথচ বদলি কিংবা শাস্তির বেলায় সরকারি চাকরির নিয়ম মেনে করা হয়’। জনৈক ইউপি চেয়ারম্যান অনুরুপ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-‘আমলারাই স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।

তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগসাজস করে স্থানীয় সরকারকে শিকলবন্দী করে রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড.তোফায়েল আহমেদ বলেন- ‘তাদের বদলীর ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যানদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। উন্নত বিশ্বে স্থানীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগ- পদোন্নতি স্থানীয় সরকারিই করে থাকে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হাত থাকে না’।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts