September 21, 2018

চুয়াডাঙ্গায় ৬ গরু ব্যবসায়ীর গণপিটুনি; ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা!

শামীম রেজা,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ   চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চোর সন্দেহে ৬ গরু ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি দিয়ে  গুরুত্বর আহত করার ঘটনায় থানায় ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলেছে আহত ৬ গরু ব্যবসায়ীর।

জয়পুরহাট জেলার পাচবিবি পশুর হাটে গরু কেনার জন্য পিকআপ ভ্যানযোগে যাচ্ছিল চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ৬ ব্যবসায়ী। পথিমধ্যে শুক্রবার রাত তিনটার দিকে পিকআপ ভ্যানটি আলমডাঙ্গার জামজামি এলাকার ভোদুয়া গ্রামে পৌছুলে গরু চোর সন্দেহে ধরে এদের গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসি। এতে গুরুত্বর আহত হয় তারা। এ সময় এ ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা সাড়ে দশ লাখ টাকাও খোয়া যায়। এরপর পুলিশ এদের উদ্ধার করে  আলমডাঙ্গার হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত গরু ব্যবসায়ীদের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার বড়দুধপাতিলা ও উজিরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা শহরে।

এরা হচ্ছেন-গরু ব্যবসায়ী বড়দুধপাতিলা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে ইমদাদুল (২৮), একই গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে গাফ্ফার (২৬), মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সাহেব (৩০), মৃত ইসমাইলের ছেলে আবুল কালাম (৩২), উজিরপুর গ্রামের আফসারের ছেলে খাকসার (৫৫) ও পিকআপ ট্রাক চালক চুয়াডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়ার মিনারুলের ছেলে শামীম (২৮)।

এ ঘটনার পর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ রহস্যজনক কারনে প্রকৃত  বিষয়টি ধামাচাপ দিয়ে উল্টো এসব আহত গরু ব্যবসায়ীদের গরু চোর বানিয়ে এদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া করে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্র-পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনে স্বয়ং মাঠে নামেন চুয়াডাঙ্গার পুরিশ সুপার রশীদুল হাসান। তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ছুফি উল্লাহ কে স্পেশাল দায়িত্ব দেন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে। এরপর তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। বেরিয়ে আসে প্রকৃত গরু ব্যবসায়ীদের গরু চোর বানিয়ে কিভাবে নির্মম নির্যাতন করে তাদের কাছে থাকা সাড়ে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এলাকার কতিপয় দাঙ্গাবাজ। এরপর রবিবার সন্ধ্যায় মুক্তি দেয়া হয় আহত ৬ গরু ব্যবসায়ীর। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের কবল  থেকে মুক্তি পেয়ে আহত গরু ব্যবসায়ীদের হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ৪ জনের অবস্থা এখনও শঙ্কিন।

এদিকে এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় রবিবার সন্ধ্যায় আহ গরু ব্যবসায়ী গাফ্ফার বাদী হয়ে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩’শ জনের বিরুদ্ধে এটেম টু মার্ডার এবং ছিনতাই ও জখম ধারায় মামলা দায়ের করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান। মামলা নং-৫, তাং ০৩/০১/১৬ ইং।

আলমডাঙ্গা থানার সাব ইন্সপেক্টর আফজাল হোসেনকে এ মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা আলমডাঙ্গার ভদুয়া গ্রামের বাংলা মেম্বার ও আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts