September 21, 2018

চুলার আলোয় পড়েছে ওরা কত রাত!

ঢাকাঃ  দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বিজয়ী হয় দুই ভাই বোন। দারিদ্র্য কখনও তাদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছিল না ভালো খাবার, থাকার স্থান আর পোশাক। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাদের দুর্লভ সাফল্য এনে দিয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে মেধাবী ভাইবোন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। তারা উচ্চশিক্ষা অর্জন করে মানুষের সেবা করতে চায়। ভালো এই ফল নিয়েও চিন্তিত তাদের অসহায় বাবা মা। আব্দুল্লাহ আন-নাজমুস ও মানামাম মাঞ্জিলা ভাইবোন। উপজেলার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে নাজমুস ও থানাহাট এ ইউ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে একসঙ্গে ভাই ও বোন বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তারা চিলমারী উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের দরিদ্র মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান মাছুদের সন্তান। তিনি আগ্রাবালিয়াদিঘী গাফুরিয়া দারুসছুন্নাত দাখিল মাদরাসায় চাকরি করতেন। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, প্রায় ১২ বছর আগে একটি মিথ্যা অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে শুরু তার দুঃখের জীবন। বর্তমানে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের দেয়া একটি ঘরে তাদের ৪ জনের বসবাস। সম্পদ বলতে ৩ শতক বাড়িভিটা। তার অভাব অনটন ছেলেমেয়ের মেধাকে আটকে রাখতে পারেনি। গ্রামবাসী বলছেন, তাদের রাত গেছে তেলের অভাবে, কুপিবাতিও জ্বালানো সম্ভব হয়নি। ফলে মায়ের কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি রান্নাঘরে চুলার আগুনের আলোয় পড়তে হয়েছে অনেক রাত।

রান্না শেষ পড়াও শেষ। কখনও কখনও রাতে চাঁদের আলোয় পড়েছে। বছরের অধিকাংশ দিন খাবার জুটতো না। জোটেনি স্কুলে যাওয়ার ভালো ড্রেস। কতদিন গেছে না খেয়ে নিজেরাও বলতে পারে না। আর বই খাতা কলম দিয়েছে বন্ধু বান্ধবী ও শিক্ষকরা। তাদের অদম্য মেধা দেখে শিক্ষক আ. রউফ, মো. জিয়াউর রহমান, তৈয়ব বাবুল, লুৎফর রহমান ও জগদীস বাবু বিনা পয়সায় প্রাইভেটসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেছেন। এমনটি গর্বের সঙ্গে জানায় আব্দুল্লাহ ও মাঞ্জিলা। তারা আরো জানায়, তাদের বন্ধু বান্ধবীরাও অনেক সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও ফুলকলি মেরিট কেয়ার স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্রি কোচিং করার সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা এখন ভালো ফল অর্জন করেও হতাশ কিভাবে তাদের উচ্চশিক্ষা হবে। অর্থনৈতিক কারণে যেন উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ। মানামাম মঞ্জিলার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এবং আব্দুল্লাহ আল-নাজমুস সাকিবের ইচ্ছা প্রকৌশলী হওয়ার।

মা সাদেকা বেগম একজন গৃহিণী। তিনি বোঝেন না গোল্ডেন জিপিএ-৫ কী। শুধু বোঝেন আর শুনেছেন তার ছেলেমেয়ে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু তিনিও হতাশ। কোথায় পাবেন পড়াশোনার খরচ। কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ। তবে পিতার স্বপ্ন- তাদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। ভিক্ষা করতে হলেও লজ্জা করবেন না। এরপরও তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি যা ভাবছেন তা কি পারবেন। নাকি স্বপ্ন তার অধরাই থেকে যাবে? পিতা হয়ে এ অক্ষমতার কষ্ট, লজ্জা তাকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মানব জমিন

Related posts