November 21, 2018

চুরির অপবাদ দিয়ে অন্তসত্তাকে ৯ ঘন্টা নির্যাতন!


রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঝর্না বেগম (২৫) নামে ৫মাসের এক অন্ত:সত্তা গৃহপরিচারিকাকে চুরির অপবাদ দিয়ে ৯ঘন্টা  আটকে রেখে নির্যাতনের দায়ে এক দম্পত্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলো নাসিক ১নং ওয়ার্ডের পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকার মৃত আব্দুল হক মোল্লার ছেলে মোঃ গোলাম সরোয়ার (৪০) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৫)। ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে ২টা থেকে পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকার মারফত আলীর বাড়িতে ।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোজাম্মেল  ওই বাড়ি থেকে নির্যাতিতা অন্তসত্তা গৃহপরিচারিকা ঝর্নাকে উদ্ধার করে দম্পত্তি সরোয়ার ও মনোয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নির্যাতিতার স্বামী সালাউদ্দিন বাদি হয়ে ৩জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিতা ঝর্ণা নারায়ণগঞ্জ ৩শত শয়্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

নির্যাতিত অন্তসত্তা গৃহপরিচারিকা ঝর্না জানান, প্রায় ১বছর ধরে সে সরোয়ারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছে। গৃহকর্তি মনোয়ারা বেগম গত ৩দিন আগে তার বাবার বাড়িতে যায়। এ সময় সে সরোয়ারের দোকান থেকে ঘরের চাবি নিয়ে বাসায় কাজ করতো। আবার কাজ শেষে চাবি সরোয়ারকে দিয়ে আসতো। বুধবার দুপুরে সরোয়ার ও তার স্ত্রী তাকে ডেকে নিয়ে এসে বলে তাদের রুম থেকে ১০ভরি স্বর্নের গয়না ও ১০ হাজার টাকা সে চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি ঝর্ণা জানেনা বললে তারা তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। সে অন্তসত্তা বিষয়টি তাদের বললে তারা নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। তারা কাঠ দিয়ে ঝর্ণার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে আহত করে। হাতের নখে সূঁচ ফুটো করে চুরির শিকারোক্তি নিতে চেষ্টা করে।

পরে মনোয়ারা তার আরেক বোন তাসলিমাকে খবর দিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। তাসলিমা ঝর্ণাকে এলোপাথারী মারপিটন করে। পরে তাসলিমা ঝর্ণার তল পেটে লাথী মেরে গুড়ো মরিচ পানিতে মিশিয়ে এনে গোপনাঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করলে সে জোরে জোরে ডাক চিৎকার করলে এলাকাবাসী বাড়িটিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানালে তারা ঝর্ণাকে ভেতরে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ সরোয়ারের মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে ঝর্ণার বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলে আসতে বলে। সরোয়ার না এসে তার স্ত্রী মনোয়ারাকে পাঠায়। পরে পুলিশ কৌশল করে সারোয়ারকে আনায়।

সরোয়ারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এলোমেলো অসংগত কথা বলে জানায় তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বাসায় ঝর্ণা ছাড়া কেউ আসেনি। এ ঘটনায় এলাকাবাসী জানায় সরোয়ার বাসায় একা থাকেনি। সে রাতে বাসায় আরো লোকজন রাত্রিযাপন করেছে। এক পর্যায়ে নির্যাতন ও অন্যলোকজন নিয়ে বাসায় রাত্রিযাপনের কথা স্বীকার করলে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি) মু. সরাফত উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৫ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts