September 19, 2018

চীন সফরে তালেবান, মার্কিন দখলদারিত্ব নিয়ে আলোচনা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি মাসের শুরুর দিকে চীন সফর করেছে তালেবানের একটি দল। কাতারে দলটির রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান আব্বাস স্তানাকজাইয়ের নেতৃত্বে চীন সফর করা হয়েছে বলে তালেবানের একটি সূত্র জানিয়েছে।

চীন সরকারের আমন্ত্রণে জুলাই মাসের ১৮ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে বেইজিং সফরে গিয়েছিল তালেবানের দলটি। নাম না প্রকাশের শর্তে তাদের জ্যৈষ্ঠ এক সদস্য বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গেই আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। চীন তার মধ্যে অন্যতম।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী বাহিনীর দখলদারিত্বের ব্যাপারে আমরা চীন সরকারকে অবহিত করেছি এবং আফগানদের ওপর তাদের নৃশংসতার বিষয়টি বলেছি। আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তোলার জন্য আমার চীনা নেতাদের সহায়তা চেয়েছি। এছাড়া দখলদার বাহিনী থেকে মুক্তির জন্যও সহায়তা চেয়েছি।’

একাধিক তালেবান নেতাই চীনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কাতারের রাজনৈতিক দপ্তরের পক্ষ থেকে অনুমোদন না থাকায় তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি। এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হয়নি চীনা কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি তালেবানের কাছে ভূখণ্ড হারাচ্ছে আফগান সরকার। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ‘স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর রিকনস্ট্রাকশন’র (সিগার) জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তালেবানের কাছে পাঁচ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে আফগানিস্তান সরকার। বর্তমানে আফগানিস্তানের মোট জেলার দুই-তৃতীয়াংশেরও কম জেলার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সরকারের হাতে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে হামলা করে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে বর্তমানে সবচে বেশি ভূখণ্ড এই সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান অভিযান শেষ করে দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের সমর্থিত সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তালেবান।

সিগারের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছর মোট ১০টি জেলার দখল নিয়েছে তালেবানরা। এতে আরো বলা হয়, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, সরকার ‘নিয়ন্ত্রিত অথবা প্রভাবিত’ ভূখণ্ডের পরিমাণ চলতি বছরের শুরুতে ছিল ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা মে মাসের শেষ নাগাদ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিত ৬ শতাংশ।

Related posts