November 20, 2018

চীনের শবদাহ প্রতিযোগিতা!

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  এ সপ্তাহের শুরুতে চীনা সরকার একটি ব্যতিক্রমি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। যে সমস্ত মানুষ শবদেহ দাহ করেন তাদেরকে বলা হয় শবদাহকারী বা ইংরেজিতে ক্রিমেটর। প্রতিযোগিতাটা হয়েছিল মূলত এই শবদাহকারীদের মধ্যে। চীনের ৫০টিরও বেশি দাহকারী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাত্র তিনজন সেরা দাহকারী হিসেবে মুকুট জিতে নেন।

এটা ছিল চীনের প্রথম অনুষ্ঠিত জাতীয় শবদাহ প্রতিযোগিতা। কিন্তু এই অনুষ্ঠান মৃত্যুর ব্যাপারে চীনা ধ্যান-ধারণা যেমন বদলে দিয়েছে তেমনি ব্যতিক্রমি একটি পেশা থেকে কিভাবে জাতীয় খ্যাতি অর্জন করা যায় তার একটি আকাঙ্ক্ষা ও দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই শবদাহ প্রতিযোগিতায় কিভাবে একজন দাহকারী অংশ নিতে পারে এবং জিততে পারে?

এই প্রতিযোগিতার নিয়ম কানুনের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে খুব সামান্যই প্রচার করা হয়েছে। তারপরও যেটুকু প্রকাশ হয়েছে তাতে বলা হয়, প্রতিযোগীদের হাতে কলমে কাজের দক্ষতা থাকতে হয় এবং তাদেরকে পেশাগত জ্ঞানের উপর একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

চীনের বেসামরিক নাগরিক সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও ওয়েবসাইটে চীনা ভাষায় লেখা একটি ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতিযোগীদের করণীয় কিছু সাধারণ নির্দেশনার কথা উল্লেখ ছিল। যেমন, চুলা প্রস্তুতি, শবদেহ গ্রহণ ও দাহকরণ, দেহভস্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ইত্যাদি।

মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জিনহুয়া সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘একজন ভালো শবদাহকারী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিশ্রমী হওয়া এবং সংগৃহীত দেহভস্ম দায়িত্বের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা।’ নিহতের পরিবারের সদস্যরা যাতে যতখানি সম্ভব বিশুদ্ধরূপে এই দেহভস্ম পায় সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগীদের মধ্যে বিজয়ী প্রথম তিনজনের মধ্যে দুইজন হচ্ছেন বেইজংয়ের বাবাওশান গোরস্থানের এবং অপরজন নানছাং শহরের দাহকারী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার উপরে কিছু গল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিযোগীরা যে কক্ষের ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন সেখানের তাপমাত্রা থাকে ৫০ ডিগ্রি এবং চুলার তাপমাত্রা দাড়ায় ৬শ’ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

সাংহাই শবদাহ কেন্দ্রের এক কর্মী লুই ইয়ং বলেছেন, ‘সাধারণত আমাদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা এক নাগাড়ে কাজ করতে হয়। এরমধ্যে ২৫০ থেকে ২৬০টি শবদেহ দাহ করা যায়।’

বর্তমানে চীনে প্রতিবছর যে এক কোটি মানুষ মারা যান তার অর্ধেককেই দাহ করা হয়। কাজেই এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জাতীয় দাহ কাজের সাথে যুক্ত মানুষদের পেশাবৃত্তিকে উতসাহিত করা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts