September 24, 2018

নায়িকা দিতি নেইঃ এশার পর জানাজা, সোমবার দাফন

ঢাকাঃঃ ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে চলে গেলেন দেশিয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়িকা দিতি।পারভিন সুলতানা দিতি।

আজ রবিবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন(ইন্না…..রাজিউন)। খবরটি নিশ্চিত করেন ইউনাইটেড হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ডা. সাগুফতা।

দিতির মৃত্যুর খবরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে গেছেন শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ ও তার আত্মীয় স্বজনেরা। সেখানে দিতির পরিবারের মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমকে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, আজ (রোববার) এশার নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে দিতির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দিতির মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। সেখান থেকে সোমবার সকালে নিয়ে যাওয়া হবে দিতির জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। এরপর দুপুরে আরেকটি জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতেই সমাহিত হবেন নন্দিত এই চিত্রনায়িকা।

এ মুহুর্তে দিতির মরদেহ রয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে গোসল দিয়ে জানাজার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

দিতিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন রিয়াজ, চয়নিকা চৌধুরী, মৌসুমী, ওমর সানি, মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাঁধনসহ আরো অনেকেই।
টানা তিন মাস ক্যানসার চিকিৎসার পর ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতাল থেকে গেল ৮ জানুয়ারি অসুস্থতা নিয়েই দেশে ফিরেন অভিনেত্রী দিতি। একই দিন সরাসরি ভর্তি করানো হয় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে। এতদিন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯শে জুলাই চেন্নাইয়ে মাদ্র্জা ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে (এমআইওটি) দিতির মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এর আগে ঢাকায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দিতি। তখন তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর ২৫ জুলাই তাকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের ২০শে সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন দিতি। চেন্নাই থেকে ফিরে আসার পর বাসায় ছিলেন তিনি। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ৩০শে অক্টোবর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় ফিরে বেশ কিছুদিন সুস্থ ছিলেন। এরপর মস্তিষ্কে পানি জমায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত দিতিকে দ্বিতীয়বারের মতো চেন্নাইয়ে নেয়া হয়। ৩রা নভেম্বর আবারও তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার হয়। এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্মছিলেন দিতি। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো আজমল হুদা মিঠু পরিচালিত ‘আমিই ওস্তাদ’।

জীবদ্দশায় প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দিতি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে দারুণ অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

ছোট পর্দায়ও দিতি ছিলেন নিয়মিত। অনেক একক নাটক, টেলিছবি ও ধারাবাহিক নাটকে দেখা গেছে তাকে। এ ছাড়া রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন। গায়িকা হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন দিতি। বেরিয়েছে তার একক অ্যালবামও।

Related posts