September 20, 2018

চা-দোকানি বাবুল হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ

86
ঢাকাঃ  পুলিশ সোর্সের দেয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে চা-দোকানি বাবুল মাতুব্বরের করুণ মৃত্যুতে বেজায় ক্ষুব্দ মিরপুর শাহ আলী থানার গুদারাঘাটের বাসিন্দারা। এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকাবাসির মধ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাস্তায় আগুন ধরিয়ে ও অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। সম্ভাব্য যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে গুদারাঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে পুলিশের দাবি পূরণ না করায় ফুটপাতের এ চা-দোকানির গায়ে কেরসিন তেলের চুলার (স্টোভ) উত্তপ্ত তেল ছুঁড়ে মারে পুলিশের সোর্স। এতে পুড়ে যায় বাবুল মাতুব্বরের শরিরের ৯৫ শতাংশ। পুড়ে যাওয়া বাবুল মাতুব্বরকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে চলে যান না ফেরার দেশে।

ঘটনার তিনদিনেও শাহ আলী থানার ওসিসহ ক’জন পুলিশ সদস্যের সাময়িক বরখাস্তের পদক্ষেপ খুশি করতে পারেনি এলাকাবাসিকে।তারা বলছেন, এটা নিয়মিত পদক্ষেপের অংশ।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে সব মিইয়ে যাবে। অভিযুক্তরাও পার পেয়ে যাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহ আলী থানা পুলিশ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক সেবনও করে পুলিশ সদস্যরা।নিহত বাবুলের পরিবার প্রস্তুতি নিচ্ছে আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার।

গত বৃহস্পতিবারই রাত ১১টার দিকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বাবুলের মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমশিনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ও প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তিন এসআইসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে বৃহস্পতিবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এসআই মোমিনুর রহমান খান, নিয়াজ উদ্দিন মোল্লা, শ্রীধাম চন্দ্র হাওলাদার এবং এএসআই দেবেন্দ্র নাথ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদের মধ্যে শ্রীধাম ছাড়া বাকি চারজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরেই প্রত্যাহার করা হয়। পরে রাতে এসআই শ্রীধাম চন্দ্র হাওলাদারকে প্রত্যাহার করা হয়।

এ ঘটনায় আটক পারুল বেগম যার বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনিক স্বার্থে শাহ আলী থানার ওসি একেএম শাহীন মন্ডলকে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অফিসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার নিহত বাবুলের বড় ছেলে রাজু বলেন, ‘পুলিশ আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।’

পুলিশের পোশাকেতো নাম লেখা থাকে, তাহলে আপনারা পুলিশের বিরুদ্ধে কেন মামলা করেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় হুলস্থূলের মধ্যে পুলিশের নাম খেয়াল করতে পারিনি।’

এসময় রাজুর খালা শামসুন্নাহার বুচি বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে পুলিশ মামলা করতে চাপ দেয়ায় আমার ভাগ্নি (বাবুলের মেয়ে) রোকসানা মামলা করেছে। তখনো আমরা বলেছি পুলিশ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা শোনেনি। পরে আমরা জেনেছি এসআই মোমিনুল ও এএসআই দেবেন্দ্র নাথসহ ৪/৫ জন পুলিশ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে থানার ওসি, ডিসি ও এডিসি স্যাররা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে পুলিশের কেউ যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। ওই সময় দায়িত্বে থাকা ও এ ঘটনায় জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে আমরা সিএমএম আদালতে মামলা করবো। থানার কয়েকজন পুলিশ মদ-গাঁজা খায় বলে পারুলের সঙ্গে তাদের খাতিরও বেশি। পারুলের কথা শোনে তারা আমার বোনের স্বামীকে মেরে ফেলেছে।’

বাবুলের বড় ছেলে রাজু বলেন, গত বছর ১৫ আগস্ট রাতে পারুলসহ অন্যদের মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সোর্স খুন হয়। ওই ঘটনায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এলাকার অনেকেই সাক্ষ্য দেয়ায় আমি জামিন পাই। কিন্তু ওরা আমার বাবাকে খুন করে আমাদেরকে পথে বসিয়ে দিল।

বাবুলের ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাকি বুক ফাটা আর্তনাদ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। ছোট মেয়ে লাবনী এবার এসএসসি পরক্ষার্থী, ও কীভাবে পরীক্ষা দিবে। ৪ বছরের ছেলে জোনায়েদকে কীভাবে মানুষ করবো। আমাদেরকে ওরা পথে বসিয়ে দিল। এর আগেও সোর্স খুনের ঘটনায় আমার বড় ছেলেকে গ্রেপ্তার করলেও আমরা গরিব বলে থানা পুলিশসহ কেউ আমাদের কথা শোনেনি। সত্যের জয় হয়, আমার ছেলে জামিন পেয়েছে। আমার স্বামীকে যারা পুড়িয়ে মারলো আমি আপনাদের কাছে তাদের বিচার চাই।’

প্রত্যাহার হওয়ার আগে শাহ আলী থানার ওসি একেএম শাহীন মন্ডল জানিয়েছেন, চা দোকানি মৃত্যুর ঘটনায় এজাহার নামীয় আসামি পারুল বেগমকে শুক্রবার আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন। পারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল ঘটনা ও পলাতকদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে পুলিশের এই জঘন্য আচরনের নিন্দা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে সংসদেও দাবি উঠেছে। তবে সংসদের বাইরে এক অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’বাংলামেইল

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts