September 22, 2018

চালু হচ্ছে না বেসরকারি চাকুরেদের পেনশন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মজীবীদের জন্য পেনশন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বাজেটে। বলা হয়েছিল, আগামী অর্থবছর থেকেই পাইলট ভিত্তিতে ওই পেনশন স্কিম চালু হবে। তবে সর্বশেষ তথ্য হলো, সরকারের সেই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্বব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও বেসরকারি পেনশন মার্কেট উন্নয়নে যে প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল— সেটা থেকে আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে পেনশনের বিষয়টি। অর্থ বিভাগ বলছে, এ বিষয়টি আরও পর্যালোচনার পর বাস্তবায়নকারী সংস্থা চূড়ান্ত করে তারপর বেসরকারি পেনশনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। জানা গেছে, আগামী ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তখন সরকারের এ অবস্থান আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটিকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে গতকাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত বেসরকারি পেনশন মার্কেট উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ নেওয়া হবে না। তবে সংস্থাটি চাইলে পেনশনের বিষয়টি বাদ দিয়ে শুধু বীমা উন্নয়নে ঋণ দিতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বেসরকারি পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগের আপত্তি রয়েছে। যেহেতু সরকারি পেনশন স্কিম অর্থ বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়, তাই বেসরকারি খাতের পেনশন বাস্তবায়নের দায়িত্বও তারাই নিতে চাইছে। এ কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন প্রস্তাবিত প্রকল্পটি থেকে বেসরকারি পেনশনের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর ফলে পুরো প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, যেহেতু বীমা উন্নয়ন ও বেসরকারি পেনশন মার্কেট উন্নয়নে একটি প্যাকেজ প্রকল্পে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল বিশ্বব্যাংক, তাই পেনশন বাদ দিয়ে এখন তারা বীমা খাতের উন্নয়নে ঋণ দেবে কিনা- সেটি দেখার বিষয়। ২৮ আগস্ট বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এলে তাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানা যাবে। প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বীমা ও বেসরকারি পেনশন মার্কেট উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেয় গত বছর।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ বছরের প্রথমদিকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়। ৭৯০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫৮ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে ৬৩২ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে প্রকল্পটির টিপিপি (টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রোফর্মা) চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়। এরপরই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সংশয় দেখা দেয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

গত ৬ জুন অর্থ বিভাগ থেকে এক চিঠিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে ‘বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যান্ড প্রাইভেট পেনশন মার্কেট ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, তাই এ পর্যায়ে প্রকল্পের অন্য কম্পোনেন্ট অক্ষুণ্ন রেখে এর অন্তর্গত পেনশন কম্পোনেন্টটি স্থগিত রেখে ঋণ নেগোসিয়েশনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা যায়।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট কর্মবলের ১০ শতাংশ প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সেবা পাচ্ছেন। বাকি ৯০ শতাংশই এর বাইরে। বেসরকারি খাতের ওই ৯০ শতাংশ কর্মজীবীকে পেনশনের আওতায় আনার বিষয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। গত বছর এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের (অর্থ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী একটা অঙ্গীকার ছিল যে, আমরা বেসরকারি খাতেও পেনশন ব্যবস্থা চালু করব। এ বিষয়টি নির্বাচন পরবর্তীকালে দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে। এটাকে আবার জাগ্রত করতে হবে।’

Related posts