September 24, 2018

চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে দ্বৈতশাসন চালু ও শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালি ব্যাংকে আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগের ফলে এই চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বর্তমান সরকারি শাসনের বাইরে আলাদা একটি শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ দ্বৈতশাসন চালু হতে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা এবং চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া, এই নিয়োগকে অর্থমন্ত্রণালয় এবং সরকারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন অনেকেই। কারণ, বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, প্রশাসক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক- এদের সবাইকে নিয়োগ দেন অর্থমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ইতিপূর্বে শিক্ষক বা অন্যান্য পেশার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভালো ফলাফল না পাওয়ায় এখন সচিব, তাও আবার সিনিয়র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই চারটি ব্যাংকের মধ্যে তিনটি ব্যাংকেই বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সরকারের অবসরপ্রাপ্ত তিনজন সিনিয়র সচিব। সেই তূলনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের যাদেরকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এরা যোগ্যতার দিক থেকে অনেক নিচের পর্যায়ের। অথচ, এদেরকে যে ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে, তাতে তারা পুরো ব্যাংকটির ওপর, এমনকি চেয়ারম্যান-এমডির কার্যক্রমের ওপরও খবরদারি করতে পারবেন।

আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) এর পরামর্শে এসব পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু, ইতিপূর্বে দেখা গেছে, আইএমএফের পরামর্শে সরকারের বিভিন্ন খাতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কোনো খাতেই তেমন ভালো ফল আসেনি। বরং আইএমএফ যেখানেই হস্তক্ষেপ করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক এমনিতেই ব্যাংকগুলোর ঋণদান প্রক্রিয়াসহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করছে। সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেকটি ব্যাংকেরই কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে তারা। এই কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের জনবলের একটি বড় অংশ নিয়োজিতও রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পর্যবেক্ষণের মধ্যেই বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারিগুলো ঘটে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই চারটি ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হবে এখন। অথচ, আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এভাবে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু না করেও সহজেই ব্যাংকগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব, যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু দেখা যায়, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। আর এ কারণেই ঘটে চলেছে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের মতো ঋণ কেলেঙ্কারির ভয়াবহ কাহিনীগুলো। বস্তুত, আইএমএফের দোহাই দিয়ে এই ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু অর্থাৎ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য। আর এ কারণেই এভাবে আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠিয়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা জানিয়ে দেয়।

চারটি ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া চারজন পর্যবেক্ষকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহি পরিচালক পদের। এদের মধ্যে নওশাদ আলী চৌধুরীকে সোনালী ব্যাংকে, আহমেদ জামালকে জনতা ব্যাংকে, নির্মল চন্দ্র ভক্তকে অগ্রণী ব্যাংকে এবং রূপালী ব্যাংকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে আব্দুর রহীমকে।

এদের কার্যপরিধি ও ক্ষমতা সম্পর্কে আদেশে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, অডিট কমিটি ও ক্রেডিট কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এসব বৈঠকে উপস্থাপিত মেমো দেখে মতামত দিবেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই পর্যবেক্ষকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে খবরদারি করার সুযোগ পাচ্ছেন। আর এতেই সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে।
সূত্রঃ শী.নি.
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts