December 19, 2018

চার বছরের সন্তানকে হত্যা করেছে পাষন্ড বাবা-মা!

মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
চার বছরের শিশু কন্যা সুখুমনিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মা মতিজন বেগম। শনিবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় নীলফামারীর চিফ জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিচারক আকরাম হোসেনের নিকট শিশুটির মা মতিজান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে। ঘটনায় মরদেহ গর্তে ফেলে রাখার জন্য তার স্বামী সহযোগীতা করেছে বলেও জানান তিনি। আদালত মতিজান বেগমকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিমলা থানার সাবইন্সপেক্টর শাবুদ্দিন আহম্মেদ আজ রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মতিজান বেগমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার রাতেই হত্যার শিকার শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী ইনছান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।তারও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী রেকড করা হবে।

পুলিশ জানায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিন বালাপাড়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড় হতে গলাকাটা চার বছরের শিশু সুখুমনি মরদেহ উদ্ধার করা হয় গত ২৪ আগষ্ট বুধবার মধ্য রাতে। এ ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা ইনছান আলী বাদী হয়ে গ্রামের চারজন কে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। কিন্তু তদন্তে হত্যার আলামত খুঁজে পায় পুলিশ বাদীর বাড়িতেই। ফলে মামলার বাদী ইনছান আলীর স্ত্রী মতিজান বেগমকে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় গলাকাটার কাজে ব্যবহৃত কাস্তে ও লাশ বহনের তুষের বস্তা।

সন্তান হত্যার বিষয়ে মা মতিজান তার জবানবন্দীতে বলেছেন, ঘটনার দিন সকাল অনুমান ১১টায় দিকে পুত্র ইয়াছিন ও কন্যা সুখুমনি ঝগড়া ও মারামারি করছিল। এ সময় তাদের থামাতে গিয়ে সুখুমনির গলা চেপে ধরলে শিশুটি তাৎক্ষনিক ভাবে মৃত্যর কোলে ঢোলে পড়ে। সুখুমনির মৃত্যু হলে মতিজান বেগম ও তার স্বামী ইনছান আলী সুকৌশলে গোয়াল ঘরে লাশটি খড় দিয়ে ঢেকে রেখে মেয়ে নিখোঁজের প্রচারনা চালায়। এরপর সন্ধ্যার পর শিশুটির গলা কাস্তে দিয়ে কেটে তুষের বস্তার ভিতর ভরে রাখে। রাত ৮টার দিকে গ্রামের মানুষজনের চোখ ফাকি দিয়ে বাড়ীর ২০০ গজ দক্ষিনে গ্রামের একটি বাঁশঝাড় সংলগ্ন গর্তে ফেলে এসে স্বামী স্ত্রী গোসল করে নেয়। এ সময় লাশ রাখা বস্তা ও কাস্তে পরিস্কার করে রেখেছিল তারা।

জানা গেছে, ইনছান আলীর পরিবারের ৭টি মেয়ে ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে ৪টি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সাত বছরের মেয়ে আয়শা আক্তার নামে একজনকে লালন পালন করার জন্য দক্তক দিয়েছেন। বাড়ীতে ইনছান আলী (৬০), স্ত্রী মতিজন বেগম (৫০), ছয় বছরের মেয়ে নাছিমা বেগম, চার বছরের মেয়ে সুখুমনি ও দুই বছরের ছেলে ইয়াছিন থাকতো।

Related posts