November 21, 2018

চার্জশিট থেকে ‘গরুর গোশত’ বাদ

গরুর গোশত খাওয়া ও রাখার গুজবে ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়দার দারদির বিশাড়া গ্রামে উগ্রবাদী হিন্দুদের দ্বারা মুসলমান আখলাক হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। তবে চার্জশিটে গরুর গোশতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়নি।২৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গতকাল বুধবার স্থানীয় একটি আদালতে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়।

চার্জশিটে গরুর গোশতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ না করার কারণ হিসেবে জানা যায়, সেদিন আখলাকের বাড়ি থেকে যে গোশত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সেগুলোর চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া। এ কারণে এটিকে সাধারণ ‘গোশত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাথুরার একটি ল্যাবে টেস্টে উক্ত গোশত গরুর ছিল না, খাসির ছিল বলে অক্টোবরে সরকারের একটি সূত্র টাইমস অব ইনডিয়াকে নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অনুরাগ সিং জানান, গরুর গোশত খাওয়া ও রাখার গুজবে আখলাক নিহত হয়েছিল। সে সময় তার বাড়ি থেকে পাওয়া কিছু গোশত পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। সে রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। এবং পাওয়া গেলে সেগুলো শুধু আদালতেই উপস্থাপন করা হবে।

মামলার এফআইআরেও গরুর গোশতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি উত্তর প্রদেশ সরকার থেকে কেন্দ্রে যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে সেখানেও বিষয়টি উল্লেখ নেই। আখলাকের পরিবার বলছে সেগুলো গরুর গোশত ছিল না, ছিল খাসির গোশত।

বুধবার আদালতে জমা দেয়া দুই পৃষ্ঠার চার্জশিটে পুলিশ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করেছে। তবে একজনকে দেখিয়েছে কিশোর হিসেবে। অবশ্য তার বয়স পরীক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। চার্জশিটে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাকি চার জনের নাম পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আখলাকের পক্ষের কৌসুলি ইউসুফ ‍সুফী বলেছেন, চার্জশিটে একজনকে কিশোর হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সে আসলে কিশোর নয়। আমরা তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। সে যে স্কুলে পড়ত সেখানকার অধ্যক্ষের কাছ থেকে তার জন্মতারিখ আমরা সংগ্রহ করেছি। আমরা সেটি আদালতে উপস্থাপন করেছি। তদন্ত কর্মকর্তাও তার বয়সটি পরীক্ষার জন্য আদালতে দরখাস্ত করেছেন।

একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে- আখলাকের বাড়ির পাশে একটি ট্রান্সফর্মারের নিকট লোকজন জড়ো হয়। এরপর তারা আখলাক ও তার ছেলে দানিশের উপর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় তিনজনকে মূল হোতা হিসেবে পাওয়া যায়। তারা হলো- স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানার ছেলে বিশাল, শিবরাম ও রূপান্দর। এদের মধ্যে একজন পার্শ্ববর্তী একটি মন্দিরের গুরুকে মাইকে ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছিল যে, আখলাক গরুর গোশত খাচ্ছে।

এ ঘোষণা শোনার পর অন্যরাও এসে জড়ো হয় এবং তাদের উপর বর্বরোচিত হামলা করে। ঘোষণা দেয়া হয়েছিল সকাল সোয়া দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে। এ সময় আখলাকের পরিবারটি ঘুমিয়ে ছিল। সমবেতরা এ সময় গেইট ভেঙ্গে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts