September 22, 2018

চারুকলার শোভাযাত্রার আকর্ষন ট্যাপা পুতুল


রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জ:  প্রবহমান ধারায় নানা লোকাচার উৎসবে প্রাণ পেয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বাঙালির কৃষ্টি। বাঙালির প্রাণের এই উৎসব মূলত বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার প্রতীকী উপস্থাপনা। এসব উৎসবের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষ বাঙালিত্বের মন্ত্রে দীক্ষিত হয় আরো একবার। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম মহোৎসব পহেলা বৈশাখ।

বাঙালির প্রাণের উৎসব এ দিনটি। প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়েছে যে বৈশাখ, পুরনোকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করে নিতে বছর শেষে আবার আসছে সেই বৈশাখ। দিবসটিকে সাদরে বরণ করে নিতে নারায়ণগঞ্জে নানা আয়োজন।

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। ১৪২৩ বাংলা বছরের প্রথম দিন। বৈশাখের প্রথম দিনটিকে ঘিরে গান-বাদ্য আর উৎসব আমেজে মেতে ওঠা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য। সে হিসেবে প্রতিবারের মতোই দিনটিকে বরণ করে নিতে চারুকলায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। কারণ শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা জিনিস বিক্রি করেই হয় পহেলা বৈশাখের আয়োজন। তাই দিবসটি ঘিরে চারুকলার কারো চোখে ঘুম নেই। এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে থাকছে চারুকলার বিভিন্ন আয়োজন। তাদের নানা দিক-নির্দেশনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছেন চারুকলার শিক্ষকরা।

বাংলা বছরের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জও সাজে ভিন্ন সাজে। পহেলা বৈশাখের মূল আয়োজনে থাকে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন। যেখানে অংশ নেয় জেলার প্রতিটি বাঙালি। ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজন শেষ হতেই মানুষের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে এই শোভাযাত্রায়। আর এর বিশেষত্ব হলো প্রতিবছর সমসাময়িক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তোলা।

চারুকলা অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অবিরাম ব্যস্ততা। নিরলস পরিশ্রম। নানারকম ছবি আঁকছেন তারা। চারুকলায় প্রবেশ করেই দেখা যায় শিক্ষার্থীরা যার যার ওপর অর্পিত কাজ নিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত। কেউ ছবি আঁকছেন, কেউ মুখোশ গড়ছেন, কেউ বা আবার হাঁড়ি-পাতিলের ওপর কারুকার্য তৈরি করছেন।

চমৎকার এসব শিল্পকর্ম অপরূপ সৌন্দর্যে সাজিয়ে তুলেছে পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণকে। শিক্ষার্থীরা এসব তৈরি করছেন মূলত বিক্রির জন্য। আর এসব বিক্রির টাকা দিয়েই তৈরি হচ্ছে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশাল বিশাল মোটিফ।

শত কর্মব্যস্ততার মাঝেই কথা হয় এক ছাত্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা এগুলো তৈরি করে বিক্রি করছি। আর বিক্রির টাকা দিয়েই শোভাযাত্রার আয়োজন হবে। কারণ, আমরা দিনটি ঘিরে কোনো স্পন্সর নেই। প্রতিবারের মতো এবারো মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তৈরি হচ্ছে নানা আকৃতির মুখোষ। সাথে থাকছে মাটির হাঁড়ি। তবে বিশেষ আয়োজনের মধ্যে আছে কালো রংয়ের ট্যাপা পুতুল। যার উচ্চতা ১৫ফিট (ভ্যানসহ)। পুতুলের এক কোলে থাকবে মাটির কলস, আর আরেক কোলে থাকবে শিশু সন্তান।

শিক্ষার্থীরা জানান, দেশ ব্যাপী যে হারে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন চলছে তা বাংলার সংস্কৃতিতে নেই। দেশের অনেকেই এখন বিদেশী কালচারে চলাফেরা করছে। তাই দেশে বাংলার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে এবং এ ধরণের কোন কুকর্ম না হয় তাই ট্যাপা পুতুলটি তৈরি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের দিনেই সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা মূল আকর্ষন হিসেবে শোভা পাবে পুতুলটি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts