September 23, 2018

চামড়া প্রক্রিয়াজাতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা ॥ কম দামে কিনেও লোকশানের আশঙ্কা

111এ কে আজাদ, চাঁদপুর : কোরবানির চামড়া নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। দিন-রাত মিলে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করনে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা অর্জন না হলেও কাছাকাছি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

এবারে চাঁদপুরে কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অনেক কম মূল্যে। ছোট বড় সকল গরুর চামড়া প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫শ’ টাকায়।

এ বছর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল একে বারেই কম। পূর্বের ঈদুল আযহার দিন গুলোতে দেখা যেত মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা সকাল থেকেই প্রতিটি বাসা বাড়িতে চামড়া ক্রয় করার জন্য অগ্রিম বলে যেত। এবার ছিল সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র, ঈদের দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অনেকেরই চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্যবসায়ীদেও জন্য। যারা এসেছেন তারা গড়ে প্রতিটি গরুর চামড়া ক্রয় করেছেন ৩শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। আর ছাগলের চামড়া অনেকে ক্রয় করতে আগ্রহ দেখাননি ।

শহরের স্থায়ী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী এ বছর নিজেরাই চামড়া ক্রয় করে মৌজুদ করেছে। নিজেরাই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রাজধানীর ট্যানারিগুলোতে নিয়ে গেছে এবং তারাই ভালো লাভবান হবে। আমরা এবার এ ধরনের মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারনে তেমন একটা চামড়া সংগ্রহ করতে পারিনাই।

তারা আরো জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ট্যানারির মালিকরা জেলার স্থায়ী চামড়া ব্যবসায়ীদে চামড়া ক্রয়ের জন্য ২০/২৫লাখ টাকা অগ্রিম দিত। কিন্তু এবারের ঈদে ২লাখ টাকাও দিতে চায়না তারা। আমরা স্থায়ী ব্যবসায়ীরা এ বছর তেমন একটা চামড়া ক্রয় করতে পারি নাই। কেউ কেউ বলছেন যতটুকু চামড়া সংগ্রহ হরেছি ব্যবসা হবে তবে কম।

ব্যবসায়ী অনেকেই জানান, ১টি চামড়া লবন দিয়ে সংরক্ষণ করতে কমপক্ষে ১০ কেজি লবনের প্রয়োজন । লোকাল লবনের ৫০ কেজি ওজনের ১বস্তার দাম ১৪শ’ টাকা। চামড়া ক্রয় বিক্রয়সহ চামড়া সংরক্ষণে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী না হলে আমাদের লোকসান ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না। ক্রয় মূল্যসহ চামড়া সংরক্ষণ খরছ করে, বিক্রি করতে লোকশান হবে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। আর এ কারণেই সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার হাজার হাজার চামড়া বিক্রেতারা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও শহরের সবচাইতে বড় চামড়ার আড়ৎ পালবাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন জানান, এই ইউনিয়নে গত বছর সাত থেকে আটজন ব্যবসায়ী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেছে। গত বছর চামড়া কিনে তাদের লোকশান হয়েছে আর এ বছর দাম কম হওয়ায় অনেকেই এ ব্যবসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। গত বছর যে চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, সেই একেই ছাইজের চামড়া এ বছর ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কিনেছি। কাঁচা হিসেবে বিক্রি হবে সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি ফুট ২৫ টাকা।
সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ্ আলম খান বলেন, এ বছর কোরবানির গরু কিনেছেন লাখ টাকা দিয়ে। চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৫শ’ টাকা। ২৫ টাকা দরে ৩২ ফুট চামড়ার দাম হয় ৮শ’ টাকা। ৮শ’ টাকা দাম চাওয়া হলে ব্যবসায়ীরা চলে যায়। পরে বাধ্য হয়ে কম মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর শহর ও আশপাশের এলাকার চামড়া কিনেন শহরের পালবাজারের বড় আড়তদার আকবর গাজী, এমদাদ পাটওয়ারী, মো. নজরুল ইসলাম, বাচ্চু হাজী ও জসিম গাজী।

এছাড়াও শহরের পুরাণ বাজার বড় আড়তদার হচ্ছেন মো. শাহাদাত হোসেন। এসব আড়তদাররা এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঈদের দিন প্রায় ৮/১০হাজার গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

Related posts