September 21, 2018

চাচা হাত পা বেধে পুড়িয়ে মারলো দুই ভাতিজা ও ভাগ্নেকে!

ঝিনাইদহের শৈলকুপারয় চাচা হাত পা বেধে পুড়িয়ে মারলো দুই ভাতিজা ও ভাগ্নেকে। ছবিঃ সংগৃহীত

শিপলু জামান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ   ঝিনাইদহের শৈলকুপার কবিরপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন নামের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কোন্দল চলে আসছিল। তারই জের ধরে আজ রোববার সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে বড়ভাই ইকবাল তার ছোটভাই দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে মোস্তফা সাফিন মিম (৯) ও মোস্তফা আমিন সেতু (৭) এবং ভাগ্নে ফাহিম (১২) কে ঘরের মধ্যে হাত-পা বেধে পিটেয়ে মারাত্বকভাবে আহত করে। পরে তাদেরকে গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘাতক ইকবালকে আটক করেছে।

ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার গোপিনাথ কানজিলাল জানান, জেলার শৈলকুপা উপজেলার পৌর এলাকা কবিরপুর গ্রামের  ইকবাল হোসেন ও দোলেয়ার হোসেন নামের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। তারই জের ধরে আজ রোববার সন্ধ্যার দিকে  ফাকা বাড়ি পেয়ে বড়ভাই ইকবাল হোসেন আপন ছোট ভাই স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার এর ৩য় শ্রেনীতে পড়–য়া ছাত্র মোস্তফা সাফিন মিম ও ১ম শ্রেনীর ছাত্র মোস্তফা আমিন সেতু ও তাদের ভাগ্নে ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ফাহিমকে ঘরের মধ্যে দড়ি দিয়ে হাত পা বেধে হুাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করে। পরে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে আগুন ধরিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।

আগুন দেখে প্রতিবেশিরা চিৎকার করলে তারা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে দমকল বাহিনী এসে বারান্দার গ্রীলের ও ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে। তাদেরকে প্রথমে শৈলকুপা হাসপাতালে আনা হলে আপন দুই ভাই মোস্তফা সাফিন ও মোস্তফা আমিনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করে। মারাত্বক আহত ফাহিমকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত ৮টার দিকে সেও মারা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘাতক বড়ভাই ইকবাল হোসেন ঐ গ্রাম থেকে আটক করে। এ ঘটনায় অত্র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিশুদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতের একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষ হাসপাতালে ভীড় জমাচ্ছে। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts