September 21, 2018

চাকরি না হওয়ার কারণগুলো জেনে নিন


ঢাকাঃ  যোগ্যতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনি একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিলেই যে চাকরি হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই। চাকরির ইন্টারভিউ সফল হতে হলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগী হতে হয়। অন্যথায় যোগ্য হওয়ার পরেও হারাতে হতে পারে চাকরির সুযোগ। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১. অতিরিক্ত আকুতি ইন্টারভিউ বোর্ডে চাকরির জন্য অতিরিক্ত আকুতি অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। আপনার যদি চাকরির প্রয়োজন থাকে তাহলে তা সঠিকভাবে যোগ্যতার মাধ্যমেই তুলে ধরতে হবে। অন্যথায় এটি আপনার চাকরি হারাতে হতে পারে।

২. দেরিতে শিক্ষা, অভিজ্ঞতা নেই চাকরির জন্য শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার যদি এ দুটি বিষয়ে কোনো ঘাটতি থাকে তাহলে চাকরি হওয়া কঠিন। এক্ষেত্রে আপনার দেরিতে শিক্ষা গ্রহণ শেষ হওয়া কিংবা অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকা হতে পারে বড় বাধা।

৩. বাবা-মায়ের হস্তক্ষেপ আপনার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আপনাকেই সংগ্রহ করতে হবে। আপনার চাকরির খোঁজখবর যদি আপনার বাবা-মা নেন তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাজনক নাও মনে হতে পারে।

৪. সিভিতে বানান ভুল চাকরির সিভিতে সঠিক বানান লিখতে হবে। কোনোভাবে ভুল বানান চলে আসলে তা চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে।

৫. মিথ্যা তথ্য আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা উচিত নয়। যদি এ ধরনের কোনো মিথ্যা ধরা পড়ে কিংবা সন্দেহ হয় তাহলে চাকরি হারাতে হতে পারে।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসঙ্গত পোস্ট চাকরি দেওয়ার আগে অনেক নিয়োগকর্তাই আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চেক করে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি যদি অসঙ্গত কোনো পোস্ট দেন তাহলে সেজন্য চাকরি হারাতে হতে পারে।

৭. ইন্টারভিউতে দেরি করা চাকরির জন্য ইন্টারভিউতে সঠিক সময়ে যাওয়া উচিত। ইন্টারভিউতে দেরি করে ফেললে সেজন্য চাকরি হারাতে হতে পারে।

৮. সঠিক পোশাক না পরা ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে সঠিকভাবে পোশাক না পরা হলে তাতে চাকরি হারাতে হতে পারে। এক্ষেত্রে চাকরিদাতারা সাধারণত কোনো ছাড় দেয় না।

৯. ইন্টারভিউতে নিরব থাকা ইন্টারভিউতে কোনো প্রশ্ন করা হলে তার সঠিক জবাব দিতে হবে কিংবা উত্তর জানা না থাকলে তা জানিয়ে দিতে হবে। নিরব থাকার কোনো যুক্তি নেই। আপনি যদি ইন্টারভিউতে কোনো প্রশ্নের উত্তরে পুরোপুরি নিরব থাকেন তাহলে আপনার চাকরি নাও হতে পারে।

১০. অতিরঞ্জিত তথ্য আপনার সিভিতে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের গুরুত্ব রয়েছে। সিভি যদি অতিরঞ্জিত বলে মনে হয় তাহলে চাকরি নাও হতে পারে।

১১. হাস্যকর ইমেইল ঠিকানা পেশাদারী কাজে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাও পেশাদারী হওয়া চাই। আপনার ইমেইল ঠিকানা যদি হাস্যকর হয় তাহলে তাতে চাকরিদাতাদের মন নাও গলতে পারে।

১২. ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি পেশাদারী জীবনে ধর্ম নিজের মাঝে রাখাই রীতি। এক্ষেত্রে সিভিতে ও ইন্টারভিউতে তা নিয়ে বাড়তি আলোচনা কিংবা উল্লেখ করা চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে।

১৩. অতীত চাকরির বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য অতীতে চাকরির নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে। কিন্তু ইন্টারভিউতে সেই চাকরির বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে নিয়োগকর্তারা আপনাকে নেতিবাচক মানসিকতার মানুষ ভাবতে পারেন।

১৪. প্রতিষ্ঠানের ইমেইল থেকে আবেদন আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন তাহলে তা নিজের ব্যক্তিগত ইমেইল থেকেই দেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের ইমেইল ব্যবহার করলে তা গৃহীত নাও হতে পারে।

১৫. ইন্টারভিউতে ফোন বন্ধ না করা আপনার চাকরির ইন্টারভিউতে মোবাইল ফোন বন্ধ করে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই প্রবেশ করা উচিত। মোবাইল ফোন চালু রেখে ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর যদি কোনো ফোন রিসিভ করতে হয় তাহলে তা নিয়োগকর্তাদের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

১৬. মুখে ও দেহে দুর্গন্ধ ইন্টারভিউতে যদি ঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে না যাওয়া হয় তাহলে বোর্ড সদস্যরা আপনাকে পছন্দ নাও করতে পারেন। এজন্য আগেই সতর্ক হতে হবে।
১৭. ইন্টারভিউতে চুইং গাম অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে সারাক্ষণ চুইং গাম চিবুনো। কিন্তু এটি ইন্টারভিউ বোর্ডে কোনোভাবেই করা যাবে না। অন্যথায় তা চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে।

Related posts