November 17, 2018

চাকরি’তে ভালো করার ১০ কৌশল


চাকরির ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন? কিভাবে চাকরি ক্ষেত্রে আরও ভালো করা যায় তা নিয়ে চিন্তিত? ভালো ক্যারিয়ার গড়তে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। ক্যারিয়ার ভালোভাবে গড়তে জেনে নিন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল:

ইতিবাচক মনোভাব: আমরা সবাই জানি নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক কাজ ও মনোভাব সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তে ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি কাজেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রাধান্য বেশি। আমি অথবা আপনি এটা ভালো করেই জানি। উপদেশ দেয়া সহজ কিন্তু পালন করাটাই কঠিন। সেই সঙ্গে আমরা এটা জানি ইতিবাচক অবস্থান একজন মানুষকে কোলাহল, উত্তেজনা, উগ্রতা, দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখে। আপনি যখন মনের দিক থেকে সৎ থাকবেন, তখন এমনিতেই মন প্রফুল্ল থাকবে। নিজের সঙ্গে বোঝাপাড়াটাও ভালো হবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারলে স্বপ্নের শুধু না, যে কোনো কাজে সফলতা পেতে পারি আমরা।

নিজেকে জানুন: হরহামেশাই দেখা যায় ভালো বেতনের চাকরি সবাই প্রাধান্য দেয়। আবার বেশি বেতনের চাকরি করলে সমাজে কদরটাও একটু বেশি হয়। তাই সবাই ঝুঁকে পড়ে বেশি বেতনের চাকরির দিকে। তবে ব্যাপারটা এমন না হয়ে যদি নিজের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া হতো তাহলে ব্যাপারটা ঈর্ষণীয় হতো। তাই আগে জানতে হবে, কোন পেশার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। অন্যের পেশাকে দেখে লাভ নেই। নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে কোন পেশাকে বেছে নেয়া যায়। মনের তৃপ্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সে জন্য দরকার নিজেকে জানা। নিজের উপর যতটা নির্ভরশীল হওয়া যাবে সাফল্যের পথে সে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে।

চাহিদা ও দক্ষতা নির্ধারণ: প্রত্যেক্যের উচিত অবসর সময়টাতে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করা। এইচএসসি পাস একজন নিশ্চয় ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি পাবেন না। তাই নিজের দক্ষতার ওপর নির্ভর করেই চাহিদার চাকরিগুলোকে বেছে নিতে হবে। তারপর সর্বোচ্চ কাঙ্ক্ষিত চাকরিটা পেতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে হবে। আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কোন বিষয়টি আপনার মনকে বেশি টানে। ধরুন, আপনি কম্পিউটারে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করেন। কম্পিউটারের সামনে বসলে আর উঠতে ইচ্ছা করে না। আর কম্পিউটারো ভালো জানা আপনার। কম্পিউটারে দক্ষতা এবং আগ্রহ এই দুই মিলালে বলা যায় আপনার উচিৎ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া। সে চেষ্টাটাই আপনাকে করতে হবে।

ব্যক্তিত্ব নিরূপণ: কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করার দায়িত্বটাও আপনারই। ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করার জন্য আপনি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন তৈরি করে নিতে পারেন। অথবা কারও তৈরি করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে নিজেকে যাচাই করে নিতে পারেন।

নমনীয়তা: উগ্রতা সবসময়ই খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কোনো কাজই জোরপূর্বক করে দেয়া যায় না। আর জোরপূর্বক করে নেয়া হলেও পরবর্তীতে তার কুফল ভোগ করতে হয়। তাই উগ্রতা নয়, নমনীয়তায় জীবন গড়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পরামর্শ গ্রহণ: অনেক সময় আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগী। এটা নয় ওটা ভালো। আসলে কোনটা যে ভালো তা খুঁজে বের করতে পারি না আমরা। তাই আমাদের উচিত পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় কিংবা বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে সঠিক ও উপযুক্ত চাকরিটা বেছে নেয়া। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞরা চাকরির বাজার সম্পর্কে প্রচুর জানেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্র, ক্রমোন্নতি ও বেতন সবদিক সম্পর্কেই একজন একজন বিশেষজ্ঞই আপনাকে সঠিক চাকরিটি বেছে নিতে সহায়তা করতে পারবেন।

সময় সচেতনতা: প্রত্যেকটি মানুষেরই উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারলে যে কোনো ব্যক্তিই তার ক্যারিয়ারকে সফল স্থানে নিয়ে যেতে পারবে। অযথা সময়ক্ষেপণকারী একজন ব্যক্তি প্রয়োজনের সময় এসে হাঁপিয়ে ওঠে। ফলে সে তার কাজ ভুল করে। পরে করব বলে ফেলে রাখলে কোনো কাজেরই সফল সমাধান সম্ভব নয়। তাই সময় সচেতন হয়ে উঠুন।

নেটওয়ার্ক তৈরি: সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে অবশ্যই একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। তবে নেটওয়ার্কটি অবশ্যই সৎ উদ্দেশ্যবহুল হওয়া চাই। নানাজনের সঙ্গে কথা বলে ও বন্ধুত্ব করাটাও সফল ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করতে পারবে।

ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসা: আপনি যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তবে কিন্তু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আপনার তখন সম্ভব হবে না স্কুলে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে পড়াশোনা করে অন্যক্ষেত্রে সফল হওয়ার। তাই আপনার উচিত সঠিক কোনো ক্যারিয়ার কলেজ বা ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করা। কারণ ক্যারিয়ার কলেজ বা ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে আপনি আপনার ক্যারিয়ারের নানা সমস্যার উত্তর খুঁজে পাবেন। আপনি নিজেও ক্যারিয়ার জিজ্ঞাসার মাধ্যমে আপনার নানা সমস্যার সমাধান করে নিতে পারেন। নতুন নতুন সব আইডিয়া তৈরি করে তার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সফলতা ক্যারিয়ারে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

সহিষ্ণুতা: প্রবাদ আছে, ভালো জিনিস একটু দেরিতেই আসে। কোনো কাজেই তাড়াহুড়া করাটা ভালো না। ত্বরিত যে কোনো কাজের মধ্যে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

Related posts