November 19, 2018

চাঁদপুর শাহরাস্তির ২৪ সঃপ্রাঃবি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫ হাজার শিশুর পাঠদান

11এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় ৫ হাজার ৫শ’ ৪৬ জন কমল মতি শিশু শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণ করছে। উপজেলার ২৪টি সঃপ্রাঃবি’র জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনে ঝুঁকির মাঝে এ পাঠগ্রহণ চলছে। শ্রেনী কক্ষগুলোর নিরাপদ সুরক্ষার কথা না জেনে শিক্ষার্থীরা ছুটছে বই, কাগজ, পেন্সিল নিয়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে শিশুরা না জানলেও অভিভাবকরা ঠিকই জেনে প্রতি নিয়ত থাকছেন চিন্তিত হয়ে। ক্ষতিগ্রস্ত সপ্রাবির ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৪ থেকে ৪২টি বিদ্যালয় পূর্ব থেকেই অবকাঠামোগত সমস্যার মাঝে রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সপ্রাবিগুলোর ব্যাবহারের উপযোগী ৪৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মেরামত যোগ্য ৭১টি কক্ষ রয়েছে। ১৭টি জরাজীর্ণ ও ৯টি পরিত্যক্তসহ ২৬টি কাঁচা পাকা ভবন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিকে বর্ষায় শ্রেনীকক্ষগুলোর ভবনের ফাটল দিয়ে অঝর ধারায় পানি ঝড়ে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই পূর্বের টিনসেটের ঘরটি সংস্কার করে যেনতেনভাবে একই কক্ষে ৫শ্রেণির পাঠদান দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত সপ্রাবির ভবনের তালিকা ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ছিল ২০টি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৪ থেকে ৪২টি ক্ষতিগ্রস্ত সপ্রাবির ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রেজওয়ানুর রহমান এমনটাই দাবী করছেন। এখন প্রেরিত বিদ্যালয়গুলোর তালিকার অনুকূলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এলে সমস্যা নিরশন করা যাবে। শাহরাস্তি নিজমেহার মডেল সরকারী সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার বিদ্যালয়ের ২টি মূল ভবনের বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় ৬শ’ ২৯শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। বর্তমানে একটি ভবনে গাদাগাদী করে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ করতে হয়। ইছাপুরা সপ্রাবির শিক্ষিকা নুরে হাসনা জানান, বিদ্যালয়টির মূল ভবন জরাজীর্ণ, একমাত্র টিনসেট শ্রেনী কক্ষটিও পরিত্যক্ত। এখন ২শ’ ১৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিদিন পোহাতে হয় বিড়ম্বনা। ভাটনীখোলা সপ্রাবির শিক্ষিকা মোসাৎ ফৌজিয়া সুলতানা জানান, প্রতিদিন ৪শ’ ৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে জটিল সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মূল ভবনের বিভিন্ন জরাজীর্ণ অংশ দিয়ে পানি ঝড়তো, বর্তমানে পরিত্যক্ত একমাত্র টিনসেট শ্রেণী কক্ষটি মেরামত করে দায়সার কাজ চলছে। উঘারিয়া সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক রহুল কুদ্দুছ জানান, তার প্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ একটি ভবনে ব্যাপক ফাটল প্রলেপস্তর খসে পড়ছে। তাতে ৩শ’ ২০ জন শিক্ষার্থী ঝুঁকিরমধ্য পাঠ গ্রহণ করছে। তেতৈশ্বর সপ্রাবির প্রধান শিক্ষিকা মন্জুমা বেগম জানান, তার বিদ্যালয়ের ভবনের শ্রেনীকক্ষ ভেঙ্গে ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে। সেই জরাজীর্ণ ভবনে ২শ’ ৮জন শিক্ষার্থী এখন পাঠ গ্রহণে ভয় পাচ্ছে। এছাড়া উপজেলার অবশিষ্ট ফটিকখিরা আমেনা স্মৃতি সপ্রাবির ১শ’ ৫৮, সুরসই সপ্রাবির ২শ’ ৮, দক্ষিণ নোয়াগাঁও সপ্রাবি’র ১শ ১০, ধোপল্লা সপ্রাবির ৪শ’ ৪৮, কাইথড়া সপ্রাবির ২শ’ ৯, হোসপনপুর সপ্রাবি’র ৩শ’ ৫, পীর শাহ্শরীফ সপ্রাবির ১শ’ ৬২, কাজিরকাতা সপ্রাবির ২শ’ ১৮, পরানপুর কমিউনুটি সপ্রাবির ১৭, পানচাইল সপ্রাবির ১শ’ ৯৮, ইছাপুরা সপ্রাবির ২শ’ ১৫, পূর্ব পাথৈর আলোকদিয়া রেজিঃ বেঃ সপ্রাবির ১শ’ ১৭, পশ্চিম উপলতা সপ্রাবির ১শ’ ৬৬, রাগৈ শিশু মঙ্গল সপ্রাবির ১শ’ ৮৫, চেংগাচাল সপ্রাবির ২শ’ ৯, হাড়াইরপাড়া সপ্রাবির ২শ’, দিগধাইর সপ্রাবি’র ১শ’ ৪৭, দৈয়ারা সপ্রাবির ১শ’ ৫২, কেশরাঙ্গা সপ্রাবির ২শ’ ৫৫,পূর্বখেড়িহর সপ্রাবির ১শ’ ৩৩ জন শিক্ষার্থী জরাজীর্ণ-পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সপ্রাবি’রগুলো চিহ্নিত শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী অর্থবছরে আমরা নতুন ও পুরাতন ভবনের সস্কারের জন্য বরাদ্ধ পাব।

Related posts