September 21, 2018

চাঁদপুর পুলিশ সুপারের প্রচেষ্টায় ২৫ বছর পর সন্তান ফিরে পেল তার বাবাকে

milon-e1492978841879এ কে আজাদ,চাঁদপুর ঃ সৃস্টির সেরা জীব মানুষের অসাধ্য বলতে কিছু নেই। সত্যের মৃত্যু নেই,কথাটি যেমন সত্য,তেমনি বাস্তব। ’কপালে যদি থাকে লেখা তোমার সাথে একদিন হবেই আমার দেখা’ এমনই একটি ঘটনা ঘটলো চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। জন্মের ২৫ বছর পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের সহযোগীতায় পিতাকে খুঁজে পেলো মোঃ সুমন মিয় নামের এক যুবক। এই ঘটনাটি জেলার সকলকে আবেগ আপ্লুত করে তুলেছে।

জন্মের পর থেকে ২৫টি বছর জন্মদাতাকে দেখেনি একটি ছেলে, কেঁদে কেঁদে অনেক খুঁজেছে বাবাকে, । পথহারা নাবিক যেমন সঠিক গন্তব্যে পৌঁচানোর জন্য আঁকা বাঁকা হয়ে পথ খুঁজে বেড়ায়। তেমনি দির্ঘ ২৫ টি বছর খুঁজে বেড়িয়েছে নিজ জন্মদাতা পিতাকে তিন্তু পায়নি সে। তবুও তার লক্ষ্য একটাই জন্মদাতার সন্ধান খুঁজে বের করবেই।

দির্ঘ ২৫ বছরের অসম্ভব এই কাজটিকে সম্ভব করে দিয়েছেন, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার পিপিএম। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতায় পথহারা এক নাবিক খুঁজে পেল তার সঠিক পথের গন্তব্য।

ঘটনাটির সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের দিকে চাঁদপুরের কচুয়া থানায় কোর্ট পুলিশ হিসাবে কর্মরত ছিলেন আব্দুল ওয়াদুদ নামের এক পুলিশ সদস্য। তিনি নিজের ঠিকানা গোপন করে কচুয়া পৌরসভার করইশ গ্রামের সিরাজ মিয়া নামের এক ব্যক্তির মেয়ে কে বিয়ে করেন যার নাম খোশনেয়ারা বেগম।
বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন শুরুর মাত্র ৫/৬ মাস পার না হতেই আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ওই সময় টিতে পুলিশ সদস্য আব্দুর ওয়াদুদের বদলি জনিত কারণে কিছু দিন পরিবারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তীতে খোশনেয়ারা বেগমের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এরই মাঝে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান, তার নাম রাখা হয় মোঃ সুমন মিয়া, যার বর্তমান বয়স ২৫এর উপরে। ছেলেটির জন্মের পর তার বাবা কাছে না থাকায় তার মামার বাড়িতে মায়ের সাথেই বেড়ে ওঠে সুমন।
এরি মধ্যে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ব্যাপক অনুসন্ধান করে সুমন তার বাবা আব্দুল ওয়াদুদের মূল ঠিকানা খুঁজে পায়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে কচুয়া থানার মাসিক ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক বক্তব্য পর্বে যুবক সুমন মিয়া দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহরের কাছে এক মিনিট বক্তব্য দেয়ার দাবি জানান।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে শুনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেখানে সুমন মিয়া পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের কাছে তার পিতার সন্ধানের আকুতি করেন। উপস্থিত পুলিশ সুপার যানতে চান কোন সালে তার পিতা কচুয়া থানায় কর্মরত ছিল।
পরে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ১৯৮৭ সালে কচুয়া থানায় কর্মরত আব্দুল ওয়াদুদের ঠিকানা সূত্রে নেত্রকোনার সদর উপজেলার ১১নং কেয়ারঘাটি ইউনিয়নের আগুনকাঠি গ্রামে ঠিকানা খুঁজে পান।
পুলিশ সুপারের দেয়া তথ্য ও আন্তরিক সহযোগিতায় গত ২০ এপ্রিল সুমন মিয়া তার পিতার ভিটে মাটিতে পৌঁছে যায়। কচুয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আতাউল করিম, কচুয়া পৌরসভার অফিস সহকারী নাসির আলম নসু ও মানবাধিকার কর্মী আবু বকর মিয়া সেদিন সুমনের সাথে ছিলেন।
নেত্রকোনার সেই পল্লী এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুমনের একমাত্র চাচার উপস্থিতিতে আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া পুত্র সুমন মিয়াকে ছেলের স্বীকৃতি দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে দির্ঘ ২৫ বছরের এই বাস্তবতাকে মেনে নেন।
কচুয়ায় নানার বাড়িতে বড় হওয়া সুমন মিয়া দীর্ঘ ২৫ বছর পর তার জন্ম দাতা বাবাকে ফিরে পাওয়ায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কৃতজ্ঞতা ও চাঁদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন

Related posts