November 20, 2018

চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে সিএনজি স্কুটার চালকদের হাতে যাত্রীরা জিম্মি

IMG_1359এ কে আজাদ,চাঁদপুর : চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি চরম আকার ধারন করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। একদিকে সিএনজি স্কুটার চালকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে যাত্রীরা । ইচলী পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় চাঁদপুরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের ভারি মালামাল নিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। চাঁদপুর-ঢাকা প্রতিদিন প্রায় ১৫/ ২০ টি যাত্রীবাহী লঞ্চ সরাসরি চলাচল করছে। নাড়ির টানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন লঞ্চযোগে চাঁদপুর ঘাটে আসা-যাওয়া করছে। এসব যাত্রীর অধিকাংশ চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে এসে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-নোয়াখালী-রামগঞ্জসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লঞ্চযাত্রীরা চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে নামার পর এক শ্রেণীর দালাল ও সিএনজি স্কুটার চালক তাদের লাগেজ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। তাদের এ অত্যাচারে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে প্রতি নিয়ত। সিএনজি স্কুটার চালকরা তাদের যানবাহনে জোরপূর্বক উঠিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। নৌ-টার্মিনালে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা পুলিশ সদস্যরা পর্যন্ত সিএনজি স্কুটার চালকদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে ৫/১০ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ মানছেনা কোন আইন। অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীণ হয়ে পরা চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটটিতে প্রতিদিন যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে অথচ নৌ কর্তৃপক্ষ এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যানবাহন থেকে টোল আদায় করে লাভবান হচ্ছে। সড়জমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১টা ঢাকা থেকে এমভি মিতালী লঞ্চটি চাঁদপুর নৌ-টর্মিনালে এসে ভিড়ে। যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নামার সাথে সাথে, সিএনজি স্কুটার চালকরা যাত্রীদের লাগেজ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে দিয়েছে। এক সাংবাদিক কেমেরার ব্যাগ কাঁধে নিয়ে এই দৃশ্য ধারন করতে গেলে যাত্রী ভেবে তার কেমেরার ব্যাগধরে টানা হেচরা শুরু করে দেয়। সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কোন ভাবে রক্ষা পায় তাদের হাত থেকে। নিয়ন্ত্রনহীন চাঁদপুর লঞ্চঘাটি যেন যাত্রীদের মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। লঞ্চঘাট অভিমুখে যেভাবে সিএনজি অটোরিক্সাগুলো রাখা আছে মনে হয় যেন সিএনজি অটো-রিক্সা ষ্ট্যান্ড। যাত্রী ছাউনিটি লঞ্চ ঘাট থেকে অনেকটা দুরত্বে হওয়ায় যাত্রীরা সময় মতো লঞ্চে উঠতে না পারার ভয়ে পল্টুনে যাওয়ার পথে বসে সময় অতিবাহিত করছে। যাত্রী ভাড়ার চার্ট টানানোর কথা থাকলেও তা টানানো দেখা যায়নি। ট্রলার যোগে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রীরা লঞ্চে উঠছে। সিএনজি অথবা অটো যোগে লঞ্চ ঘাটে পৌছলে সেখানে প্রতি সিএনজি ও অটো থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আদায়কারিদের কিসের টাকা উঠানো হচ্ছে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই। প্রতিবার যে কোন গাড়ী বের হওয়া ও প্রবেশের সময় টাকা উঠাচ্ছে তারা। যাত্রীরা লঞ্চঘাট থেকে বের হওয়া মাত্রই পরতে হয় তোপের মুখে একদিকে নিএনজি চালক, অটো চালক, রিক্সা চালকের বেরিকেট, অন্যদিকে কুলি সহ ষ্টেসনের কর্মকর্তাদের খবরদারি। সবমিলিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। যাত্রীদের এসব হয়রানি থেকে মুক্তির পথ বের করতে উর্ধতন কতৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল।

Related posts