December 13, 2017

চাঁদপুর ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা

1এ কে আজাদ, চাঁদপুর : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর মেঘনা তীরে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো জেলা ইজতিমা শেষ হয়েছে। হেদায়েতি বয়ান,ধর্মীয় আলোচনা ও ইবাদতের মধ্যদিয়ে ৩ দিন কাটানো পর ২ ডিসেম্বর শনিবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। এসময় ইজতিমা মাঠ সহ আশপাশের এলাকাজুরে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে । মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা হাফেজ মাওলানা জুবায়ের সাবেহ।

মোনাজাতে অতীতের সব ভুলের জন্য মহান আল্লাহ’রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতি সহ বিশ্বের সকল মুসলমাদের মঙ্গল কামনায় দোয় করা হয়।

আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে জেলা ও পাশ্ববর্তি জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার মুসল্লি ইজতিমা মাঠে সমবেত হয়। আগত মুসল্লিরা যে যেখানে পেরেছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নেয়। এবং চোখের পানি ছেড়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এদিকে শনিবার (২ ডিসেম্বর) ইজতিমার মাঠে আখিরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো.আব্দুস সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমনা গণি পাটওয়ারী,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আমমেদ মানিক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

ইতজিমা শেষ হওয়ায় বিভিন্নস্থান থেকে আগত মুসল্লিরা তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরতে শুরু করে। এসময় মেঘনার পাড় ও রাস্তাগুলোতে যেনো মানুষের ¯্রােত বইতে থাকে।

প্রসঙ্গত,বিশ্ব ইজতিমার তত্ত্বাবধানে এ প্রথমবারের মতো চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জাফরাবাদ এমদাদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মেঘনাপাড়ে ইজতিমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই এলাকার মেঘনা নদী তীরে ৪০ একর জমিতে ইজতিমার প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল।

ইজতিমা মাঠে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথি সহ সকল মুসল্লিদের থাকার জন্যে আলাদা প্যান্ডেল ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। ইজতিমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় র‌্যাব,ডিবি, ডিএসবি,সহ পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকের প্রায় ৩শ’৯০ জন আইন-সৃঙ্খলা সদস্য মাঠে সার্বক্ষনিক তদারকি করেছে।

২৮ নভেম্বর বুধবার থেকে ইজতেমা মাঠে চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম, পাড়া-মহল্লা থেকে দল বেঁধে ইজতেমা মাঠের জড়ো হয়েছেন মুসল্লিরা। নদী ও সড়ক পথে প্রতিদিনই হাজার হাজার মুসল্লি ইজতেমা মাঠে শরিক হয়েছেন। এছাড়া এ জেলার বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকেও বহু মুসল্লি চাঁদপুরের এই ইজতেমায় শরিক হয়েছেন। এদিকে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, যুক্তরাজ্য থেকেও অনেক মেহমান মুসল্লিরা এসেছেন এই ইজতেমায় শরিক হওয়ার জন্য। ইজতেমা মাঠ এবং মাঠের বাইরে যে যেখানে পারছেন সেখানেই অবস্থান নিয়ে মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি অর্জনে দুনিয়া ও আখেরাতের বয়ান শুনছেন।

Related posts