November 18, 2018

চাঁদপুর ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র চরাঞ্চলবাসীর জীবনমান পাল্টে দিয়েছে

DSCN3894এ কে আজাদ, চাঁদপুর প্রতিনিধি : ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। তৃনমুলের মানুষের কাছে সবচেয়ে কাছের একটি সরকার হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। সারা বিশ্ব যখন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে তার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার,তথ্য সেবাকেন্দ্র
এর মধ্যে চাঁদপুরের পাঁচটি চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে চলছে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র। এতে কওে এসব চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে উত্তাল পদ্মা-মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর শহরে আসতে হচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত চরাঞ্চলবাসী এসব সেবা কেন্দ্রে থেকে তাদের দৈনন্দিন সেবাগুলো গ্রহণ করছেন। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাগুলো নিয়ে চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রা যেন পাল্টে গেছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল জানান, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের ফলে ‘‘জনগণ সেবার পেছনে ছুটবে না, সেবাই পৌঁছে যাবে জনগণের দৌড়গোড়ায়’- এই স্লো­াগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সাপোর্ট টু ডিজিটাল বাংলাদেশ: প্রোগ্রামের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্থবায়ন হচ্ছে।
কম খরচে সহজেই কোনো ঝামেলা ছাড়াই যাতে জনগণ বিভিন্ন তথ্য ও সেবা পেতে পারে সেটা নিশ্চিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে দেশের ৮৭টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র।
চাঁদপুরের চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে এসব সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে পদ্মা-মেঘনার ওপারে অবস্থিত পাঁচটি চরাঞ্চলের মানুষকে এখন আর আধুনিক সেবা পেতে জেলা সদরে আসতে হয় না।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হজরত আলী বেপারী জানান, চাঁদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনার পাহাড়সম ঢেউ পাড়ি দিয়ে আসতে হয় এই ইউনিয়নে। এক সময় এই ইউনিয়নে বসবাসকারী মানুষগুলো ছিল অত্যন্ত অবহেলিত। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে যুগ-যুগ ধরে ছিল বঞ্চিত। কিন্তু বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পাল্টে দিয়েছে এই ইউনিয়নবাসীর জীবন চিত্র। তথ্য-প্রযুক্তিসহ প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে সৌর বিদ্যুতের আলো। এখন তাদের কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করতে হচ্ছে না। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে হাত বাড়ালেই নিজেদের জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সকল কাজগুলো পেয়ে যাচ্ছেন তারা। চরাঞ্চলের মানুষের কাছে যে কাজটি ছিল অসম্ভব একটি ভাবনা, সেই ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিল তথ্য সেবা কেন্দ্র।
তিনি আরও জানান, এখন এখানেই বসেই মানুষ জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ, মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং, বিদেশে থাকা আপনজনের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি কথাবলাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন। তাছাড়া কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অনেকের।
তিনি আরো বলেন, শুধু তাইনয় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ ডা. দীপু মনি চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষগুলোর ভাগ্যউন্নয়নে নতুন-নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছেন, তিনি শিক্ষা,স্বাস্থ্য,বাসস্থান এসব বিসয়ে চরাঞ্চলে ব্যাপক কাজ করেছেন।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা খদিজাতুল মুক্তা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই ইউনিয়নটিতে কাজ করছেন তিনি। এই চরাঞ্চলের মানুষকে এখন আর জেলা সদরে যেতে হয় না। এখান থেকেই সব কিছু সংগ্রহ করছেন। তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সকল কাজ এখানে এসে সমাধান করছেন। বিশেষ করে, অনলাইনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, চাকরির তথ্য, ছবি তোলা, কৃষি তথ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সংবাদসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেয়ে আসছেন। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ সেবা নিতে তথ্য সেবা কেন্দ্রে আসেন। এ থেকে মুক্তার আয় হয় ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা।
চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারাও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

Related posts