November 16, 2018

চাঁদপুরে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে মাঠের ধান

P-1এ কে আজাদ,চাঁদপুর : টানা বৃষ্টিতে চাদপুরে জলাবদ্ধতায় পানিতে ভাসছে ধান। হতাশায় ভুগছে কৃষক। প্রকৃতিই বাধা। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। ডুবে যাওয়া আলুর ক্ষতি কাটতে না কাটতে এবার পানিতে ভাসছে ধান। এমন চিত্র জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ফসলী মাঠে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃতি যেনো আরো নড়েচড়ে বসেছে। সরছে না পানি। ঝরছে পাকা ও আধা পাকা ধান। কৃষকদের এই ব্যাপক ক্ষতি সাধনে কৃষি বিভাগের নেই কোন ব্যবস্থা। ধান সংরক্ষণের বিকল্প কোন ব্যবস্থা জানা নাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের?

ধান গাছের চেয়েও পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় কৃষকগণ শরিরের অর্ধেক পরিমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে দেখা গেছে। কাটা আধা পাকা ধান কলা গাছের ভেলাতে করে উঁচু স্থানে নিয়ে আসতে দেখা গেছে কৃষকদের। এমন চিত্র হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায়ও রয়েছে।

জানা গেছে, ‘উপজেলার ফসলী মাঠে এ বছর ৯ হাজর ৯’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তিন মাস পূর্বে চলতি বছরের শুরুতে ব্রি-ধান চাষ করে কৃষকরা। বর্তমানে ফলন ঘরে তুলতে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবাহওয়ার মধ্যেও ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। দূর্যোগ যেনো তাদের নিত্যসঙ্গী। চলতি বছর ৫০ হেক্টর জমি কম চাষ হলেও কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতিই বাধা। বিগত কয়েক বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ইরি আবাদে বাম্পার ফলন হলেও চলতি বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চৈত্রের শেষ দিক থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলা নতুন বছরে পুরোদমে এখানকার কৃষক-কৃষাণীসহ তাদের সন্তানরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধান কাটা থেকে শুরু করে ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করে আসছে। কেউ জমিতে খলা বানিয়ে, কেউবা বাড়ির আঙ্গিণায় খলা বানিয়ে সেখানে ধানের ঘের তৈরি করে মেশিন ও মটকার (মাটির বড় হাঁড়ি) উপর ধান ঝরিয়ে সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এ বছর বৃষ্টি আর ঝড়ের তীব্রতা দেখে অনেকে আগ থেকেই ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে। অনেক কৃষকের ঘরে চাউল না থাকায় দেখা যায় নতুন ধান পেয়ে সিদ্ধ করার কাজও শুরু করে দিয়েছে। ধান কাটা থেকে শুরু করে খড়ের স্তুপ তৈরী করা পর্যন্ত যে পরিমান শ্রমিক প্রয়োজন সে তুলনায় সংকট দেখা দিয়েছে তাই উত্তর বঙ্গ থেকে কিছু মৌসুমী শ্রমিকও কাজ করতে অত্র এলাকায় এসেছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখে এখানকার কৃষকের দুশ্চিন্তা ও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।
চলমান আবহাওয়া লেগে থাকলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর আশংকা করছে।

সরজমিনে আরও দেখা যায়, ‘উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বেশ কিছু মাঠের কৃষকরা জমিতে ধান কেটে ফেলে রেখেছে। বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন ধরে জমিতে পড়ে আছে। আবার অনেকে ধানের ঝাঁক দিয়ে রেখেছে কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান মাড়াই করে ঘরে উত্তোলন করতে পারছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘উপজেলার উত্তর অঞ্চলের তুলনায় বেশি হুমকির মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি মাঠগুলো। ধান জমিতে পেকে রয়েছে যা একটু ঝড় আহওয়ায় ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় কৃষকরা। তাদের এ দুর্ভোগ ও চিন্তায় মাথায় হাত ছাড়া আর বিকল্প কিছু বলতে পারছে না। তার পরেও তাদের কাজের গতি থেমে নেই। সুযোগ পেলেই ধান কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকরা জমি পরিচর্যার কাজ থেকে শুরু করে পোকা দমনে ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাল ফলনের আশাবাদী রয়েছে। সেই সাথে সরকারি বীজের প্রজেক্টগুলোতেও ভাল ফলন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ‘সরকারি প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে আনুমানিক ৩০টি প্রদর্শনী হয়েছে । এই ৩০টি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পুরো উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের কাজ করেছি। এমন দূর্যোগপূণ আবহাওয়ায় ধান সংরক্ষণে প্রচলিত নিয়ম ব্যাতীত আমাদের কাছে আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

Related posts