November 17, 2018

চাঁদপুরে নেশার টাকার জন্য কলেজ ছাত্র স্বজলকে হত্যার অপরাধে দুই বন্ধুর মৃত্যুদন্ড

163এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুরে নেশার টাকার জন্য কলেজ ছাত্র মো. আল-আমিন স্বজলকে হত্যা করার অপরাধে তারই দুই বন্ধু হাবিব গাজী নিশান (২৪) ও নাজমুল ইসলাম বেপারী সুমন (২৬) কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে আল-আমিন কে হত্যা করে দুটি মোবাইল সেট চুরি করে নেয়ার অপরাধে উভয়কে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ এই রায় দেন। মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ত হাবিব গাজী চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর রালদিয়া গ্রামের বকাউল বাড়ীর মানিক গাজীর ছেলে এবং নাজমুল ইসলাম একই বাড়ীর বাবুল বকাউলের ছেলে।

হত্যার শিকার আল-আমিন চাঁদপুর শহরের বিপনবাগ এলাকার বাসিন্দা মির্জা মোঃ অজি উল্যাহর ছেলে। সে শহরের পুরাণ বাজার ডিগ্রি কলেজের বি.বি.এ (অনার্স) ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিল।

মামলার বিবরনে জানাযায়, ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে তার বন্ধুরা তাকে ফোন করে বাসা থেকে নিয়ে যায়। সে বাসায় ফিরে না আসায় পরিদনি ১ নভেম্বর আল-আমিনের পিতা চাঁদপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পরদিন ২ নভেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে পুলিশ নিশানকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামী নাজমুলকে আটক করেন। এরপর তারা উভয়ে ঘটনাস্থল সদর থানার রালদিয়া গ্রামস্থ মিয়াজান প্রধানিয়ার বাড়ীর পশ্চিম উত্তর কোনে বাগানে পুলিশকে নিয়ে যান। তারা সেখানেই ঘটনার দিন নেশার টাকার জন্য গলায় রশি প্যাঁচিয়ে শ^াসরুদ্ধ করে হত্যা করে মৃতদেহ বাগানে মাটি চাপা দেন বলে জানান। পরে পুলিশ বাগানের মাটি খুড়ে স্বজলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ের চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রব তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারী আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবালিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ জানান, আসামীদের উপস্থিতিতে ৫৫ মিনিট মামলাটি শুনানি হয়। দীর্ঘ ৫বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় অভিযোগে অন্তর্ভূক্ত ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এতে আসামীদ্বয় অপরাধ স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদন্ড এবং মোবাইল চুরির অপরাধে প্রত্যেককে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ অভি এবং আসামীদের পক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন জয়নাল আবেদীন।

Related posts