November 18, 2018

চাঁদপুরে দু’ সহস্রাধিক গাছের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

এ কে আজাদ
চাঁদপুর থেকেঃ  
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে বাংলাদেশ। এই জলবায়ুর পরিবর্তনরোধে ও পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব যে কতটুকু তা বলা বাহুল্য। অথচ এমন বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর আ লিক মহাসড়কের দু’ পাশের বিভিন্ন প্রজাতির দু’ সহরাধিক গাছের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে কুমিল্লার সড়ক ও জনপথের সামাজিক বনায়ন বিভাগ। নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনে নয়, সুবিধাভোগীরদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ২ হাজার ৩শ’ ৯৬টি গাছের মার্কিং করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই গাছ কেটে ফেলা হবে। এদিকে নতুন করে বনায়নের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে দৃষ্টিনন্দন ও ছায়া সুনিবিড় এই আ লিক মহাসড়কের দু’ পাশের গাছ কেটে ফেলা হলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন লোকজন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের চাঁদপুর সদরের বাগাদী থেকে ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সীমান্তের বর্ডার বাজার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কের দু পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাল কালি দিয়ে মার্কিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট বড় সব ধরনের গাছই রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সফিকুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন বিভাগকে না জানিয়ে সড়ক ও জনপথের সামাজিক বনায়ন বিভাগ এ মার্কিং করেছে। তিনি জানান, চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের চতুরা এলাকা থেকে ৪ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশ বনবিভাগের হলেও সওজ কর্তৃপক্ষ সেগুলো মার্কিং করেছে। ইতিমধ্যেই তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

চাঁদপুর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুর্বত দত্ত জানান, গাছের বিষয়টি কুমিল্লার তাদের অফিসের সামাজিক বনায়ন বিভাগ দেখভাল করে, আমাদের নয়।

বৃহত্তর কুমিল্লা অ লের সওজ’র সামাজিক বনায়ন বিভাগের এসও জহিরুল ইসলাম জানান, এই আ লিক মহাসড়কটির ২২ কিলোমিটার এলাকার দু’ পাশের গাছ ১৯৯৫ সালে বাগাদী এলাকার জনৈক মঞ্জু পাটওয়ারী ৩৫ বছরের জন্য লিজ নেন। সম্প্রতি সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি আবেদন করায় কাটার জন্যে ২শ’ ৯৬টি গাছ মার্কিং করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে গাছগুলো নিলামে বিক্রি হবে। বিক্রি হওয়া অর্থের অর্ধেক পাবেন তিনি এবং বাকি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। পুরাতন গাছগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, লিজ প্রাপ্ত ব্যক্তির লাগানো গাছের বাহিরে অন্য গাছ কাটা হবে না। কিন্তু সরজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নতুন ও পুরাতন সব গাছেই মার্ক করা হয়েছে।

পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রতন কুমার মজুমদার বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটার কারণে মাটি ক্ষয়ের ফলে প্রতি বছর রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও নষ্ট হয়। অতিরিক্ত বৃক্ষ নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে গিয়ে বাসযোগ্য পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের সংগঠন এ ধরনের কাজের প্রতিবাদ করে। তাই আমি বলবো, উপযুক্ত পরিবেশ করা ছাড়া গাছগুলো কাটা উচিৎ নয়।

গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবদিন জানান, হাইওয়ের গাছের সাথে উপজেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট নয়। তারপরেও পরিবেশ বিপন্ন হবে এমন কাজ আমরা সমর্থন করি না। তাছাড়া, গাছগুলো অপরিপক্ক হলে তা না কাটাই উচিৎ। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে জানান।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট নাগরিক আবুল খায়ের পাটওয়ারী চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের দু’প্রান্তের সবুজ ঘেরা গাছ কাটার পরিকল্পনার কথা শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার যেখানে পরিবেশবান্ধব সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ গড়ার কাজে যখন ব্যস্ত, তখন একটি চক্র অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের সুন্দর পরিবেশকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। এই হীন কাজ করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহেব্বুল্লাহ খান বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার ভয়াবহ উষ্ণতায় এমনি এ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় বিপন্ন। তার উপর আমাদের এলাকার সুন্দর পরিবেশের হাজার হাজার মানব উপকারী বৃক্ষগুলো কেটে ফেললে আমরা দারুণভাবে কষ্ট পাবো।

ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠক রফিকুল আমিন কাজল এ ধরনের পরিবেশ বিরোধী কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। সুতরাং অন্যায়ভাবে গাছ কাটতে দেয়া হবে না। সম পরিমাণ গাছ লাগিয়ে এবং তা বড় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তার পার্শ্রে কোনো গাছ কাটতে আমরা দিতে পারি না। প্রয়োজনে এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাবো

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২২ মে ২০১৬

Related posts