November 17, 2018

চাঁদপুরে জঙ্গল থেকে সুলতানি আমলের প্রাচীন মসজিদ উদ্ধার

33
এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুরের একটি গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে বেড়িয়ে এল প্রাচীনতম একটি মসজিদ। জঙ্গলটি পরিষ্কার করার পর মসজিদটি এখন দৃশ্যমান হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ি এলাকায় মসজিদটির অবস্থান। বুধবার বিকেলে মসজিদটির দৃশ্যমান হয়। বৃহস্পতিবারও শ্রমিকরা সেখানে জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী বলেন, ‘জঙ্গলের ভিতর একটি মসজিদ পাওয়াগেছে এই তথ্য পেয়ে আমি মসজিদটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরে ভেতরে ঢুকে দেখি, এটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। দেয়াল ঘেঁষে চারপাশে চারটি ছোট মিনার রয়েছে, বাইরের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং এরপ্রস্থ ১৫ ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য আট ফুট ১০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ সাত ফুট তিন ইঞ্চি। মসজিদটির একটি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোঁপ রয়েছে। দেয়ালের দুরুত্ব প্রায় ৩৩ ইঞ্চি। পোড়া ইট, বালি, চুনা এবং শুরকি দ্বারা ভবনটি নির্মিত।

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার প্রয়াত মুরব্বিরা জানিয়েছিলেন সেখানে একটি পুরনো স্থাপনা আছে। কিন্তু কেউই সেখানে যেতেন না। কারণ, মসজিদটির উপরে একটি বিশাল জির গাছ ও তার শেকড়, বাঁশঝাড়, অন্যান্য বনলতা যা ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছিল। পরে আজিজ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি ১০-১২ বছর আগে জির গাছটি কেটে সেটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা করতে পারেননি । কারণ, এটি এতোই ভেতরে ছিল যে সম্পূর্ণ মসজিদটিকে দৃশ্যমান করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি অবশ্য স্থানীয় লোকজনকে স্থাপনাটি সম্পর্কে জানান। কিন্তু ভয়ে কেউ মসজিদটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেননি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি বিষয়টি জানার পর এটিকে দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, ৪-৫ বছর আগে কোনো একটি বইতে মসজিদটির বিষয়ে তথ্য পেয়েছিলাম। কিন্তু কোথায় তার অবস্থান সেটি ঠিক করতে পারিনি। মসজিদটি সংরক্ষণের বিষয়ে প্রতœতাত্তিক অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলবো।

স্থানীয়রা জানান, ২০-২৫ বছর আগে এই মসজিদের পাঁচ কিলোমিটার দূরে উলিপুর গ্রামে একই রকম দুটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। নতুন আবিস্কৃত মসজিদের গায়ে কোনো লেখা না পাওয়া গেলেও ওই দুটি মসজিদের শিলালিপিতে স¤্রাট আওরঙ্গজেবের আমলের কথা উল্যেক্ষ্য ছিল। নতুন দৃশ্যমান মসজিদটি তিনশ বছর আগের বলে ধারণা করছে স্থানীয়দের।

প্রতœতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের পরিচালক রাখি রায় ওই গ্রামেরই সন্তান। তিনি জানান, জঙ্গল পরিষ্কারের আগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে মসজিদ এলাকায় নিয়ে যান। মসজিদটি সুলতানি আমলের বলে ধারণা করছেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবেদন করলে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান রাখি রায়।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শওকত ওসমান জানান, মসজিদটি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। শুক্রবার এটি দেখতে যাবো। মসজিদটি রক্ষায় যা যা করণীয় তা করবো

Related posts