September 22, 2018

চাঁদপুরে গৃহবধু হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড শ^শুরের যাবজ্জীবন

p (3)17-07-18-এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাদীপুরা গ্রামে যৌতুকের দাবীতে শ^াসরোধ করে গৃহবধু শাহিনুর বেগম (২০) কে হত্যার অপরাধে স্বামী এরশাদ উল্যাহকে মৃত্যুদন্ড ও চাচা শ^শুর আবু তাহের মুন্সীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন এই রায় প্রদান করেন। হত্যার শিকার শাহিনুর বেগম একই উপজেলার পাশ^বর্তী গ্রামের শহীদুল্লাহ মিয়াজীর কন্যা। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এরশাদ উল্যাহ সাদীপুরা গ্রামের মুন্সী বাড়ীর রুহুল আমিনের ছেলে এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আবু তাহের মুন্সী একই বাড়ীর আব্দুল খালেক মুন্সীর ছেলে। এরশাদ উল্যাহ সম্পর্কে আবু তাহেরের ভাতিজা।

মামলার বিবরণ থেকে জানাযায়, ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারী এরশাদ উল্যাহর সাথে শাহিনুর বেগম এর বিবাহ হয়। ওই সময় ছেলেকে কনের পিতা আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দেন। কিন্তু আরো যৌতুকের দাবীতে এরশাদ উল্যাহ নিজ বাড়ীতে পরিবারের লোকজনসহ শাহীনুরকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করেন। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারী দুপুরে এরশাদ উল্যাহ ও শাহিনুর বেগম এর মধ্যে যৌতুক নিয়ে জগড়া বিবাদ হয়। এ সময় এরশাদ উল্যাহ তার চাচা আবু তাহের মুন্সীর সহযোগিতায় শাহিনুরকে মারধর করে এবং শ^াসরোধ করে হত্যা করে।

শাহিনুরের পিতা শহীদুল্লাহ মিয়াজী জানান, ঘটনার পর চাচা আবু তাহের তাঁর মেয়ে অসুস্থ্য বলে সংবাদ দেন। কিন্তু তারা এসে শাহিনুরকে এরশাদ উল্যাহর বসত ঘরের বারান্দায় ছাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় আবু তাহের ও এরশাদ উল্যাহ বলেন শাহীনুর আত্মহত্যা করেছে এবং কোন মামলা করার প্রয়োজন নেই বলে চাপ প্রয়োগ করেন। এরপরে শাহীনুরের বাবা শহীদুল্লাহর বিষয়টি সন্দেহ হলে কচুয়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় ১ মার্চ ২০১৫ তারিখে শাহিনুরের পিতা শহীদুল্লাহ কচুয়া থানায় এরশাদ উল্যাহ ও আবু তাহের মুন্সীকে আসামী করে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন।

Related posts