September 20, 2018

চাঁদপুরে এক প্রতিবন্ধী বাবা তার তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন

poti-bondi-e1507230051428

এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাঁসা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে পাঁচ সদস্যের মধ্যে বাবাসহ চারজনই প্রতিবন্ধী।

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত শারীরিক প্রতিবন্ধী লোকমান মিজি তার প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের এবং সন্তানদের চিকিৎসা করাতে সর্বস্ব হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। বেঁচে থাকার জন্য ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন প্রতিবন্ধী লোকমান মিজি।

লোকমান মিজি জানান, তিনি ৪ বছর বয়স পর্যন্ত সুস্থ ছিলেন। বয়স যখন ৫ বছর তখন থেকেই তার দুই পায়ের মাংস পেশী শুঁকিয়ে যেতে থাকে। পা দুটি অবশ হয়ে চলাফেরা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে দুই হাতকে ব্যবহার করে দর্জির কাজ শিখেন। পরে এক সময় বাড়ির পাশে হাঁসা মাদরাসার সামনে রাস্তার পাশে একটি দোকান দেন। এরপর বাবা-মায়ের অনুরোধে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বিয়ের পর তার ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম হলেও তারা শারীরিক প্রতিবন্ধী। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তার সন্তানদের সুস্থ করতে নিজের সবকিছু বিক্রি করেও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। ধীরে ধীরে নিজেও চলার শক্তি হারিয়ে ফেলায় আয়ের পথটুকুও বন্ধ হওয়ার পথে।

লোকমান মিজি আরও জানান, তার দোকান ও বাড়ির দূরত্ব বেশি না হলেও রিকশা ছাড়া আসা-যাওয়া করতে পারেন না। একই অবস্থা তার ছেলে রাকিব (২১), দুই মেয়ে নিশু (১৯) ও মুক্তার (১৭)। তারা বসে থাকলে উঠতে পারে না। আবার দাঁড়িয়ে থাকলেও নিজে নিজে চলতে পারে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, চলনশক্তি হারানো রোগটি দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ের মাংস পেশী শুঁকিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ধীরে ধীরে চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়ে। জন্মগতভাবেপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সন্তানরাও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

এদিকে লোকমান মিজি নিজের ও সন্তানদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

এমতাবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন প্রতিবন্ধী লোকমান মিজি।

Related posts