November 22, 2018

চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ীতে বৈশাখী মেলা

ছাইদুর রহমান নাঈম,কিশোরগঞ্জ থেকেঃ  কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের মসুয়া গ্রামে ১১’ই মে বুধবার থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িতে ৭ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। মেলা উপলক্ষে অত্র এলাকাতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা বিরাজ করছে। সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষ হরি কিশোর রায় চৌধুরী প্রায় ২’শ ১০ বছর পূর্বে শ্রীশ্রী কাল ভৈরব পূজা উপলক্ষে এ মেলার প্রচলন করেন বলে জানা গেছে।

প্রতি বছর বৈশাখের শেষ বুধবার এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৯৪৭ সালের পূর্বে সত্যজিৎ রায়ের পরিবার ভারতে চলে যাবার পর থেকে এলাকাবাসী মেলা টি উদযাপন করে আসছে। এ বাড়িতে প্রায় ৪ একর ভুমি সহ পাশ্ববর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে মেলার আয়োজন। প্রায় সহস্ত্রাধিক স্টল বসে মেলায়। রকমারী কাঠের জিনিসপত্র খেলনা, মিষ্টি তৈজসপত্র, কসমেটিকস সহ নান বিধ স্টল রয়েছে। প্রতিদিন ই দূর দুরান্ত থেকে হাজার মানুষ মেলাটি পরিদর্শনে আসে।স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মী ও সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম বলেন, মেলাটি কটিয়াদী বাসীর গর্ব। দিন দিন মেলাটি এখানকার অবিচ্চেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। মেলা উপলক্ষে এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম জুড়ে বাড়িতে জামাই ও আত্নীয় স্বজনরা বেড়াতে আসে। এটা গ্রামের  ঐতিহ্য।

ঐ বাড়িতে ১৮৬০ সালে জন্ম গ্রহন করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতা মহ প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক  উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এবং ১৮৮৭ সালে জন্ম গ্রহন করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতা ছড়াকার সুকুমার রায়। দেশ বিভাগের পূর্বে উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী সপরিবারে কলকাতা চলে যান।

বর্তমানে বিশাল বাড়িটি সরকারের রাজস্ব বিভাগের  তত্ত্বাবধানে রয়েছে।  বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বড়িতে একটি পর্যটন স্পট নির্মান করেছে।  ২০১২ সালে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্ট হাউজসহ বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও রাস্থাঘাট সংস্কার করা হয় । প্রতি বছর মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কবি সাহিত্যিক সহ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। চিওবিনোদনের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। এছাড়াও বাউল গানসহ সুকুমার রায় আবৃতি পরিষদের উদ্যোগে কবিতা পাঠের আসরও রয়েছে ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১১ মে ২০১৬

Related posts