November 19, 2018

চবি‘র ছাত্র তাপস হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রামঃ  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী তাপস সরকার হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে চবির ২৯ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তাপস সরকার হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বভার নেওয়ার ৮ মাসের মাথায় আজ সোমবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে পিবিআই।

ছয় পৃষ্টার অভিযোগপত্রে তাপস সরকারকে ৭ দশমিক ৬৮ ক্যালিবারের যে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল সেটি মূলত চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক  আশরাফুজ্জামান আশার বলে উল্লেখ করা হয়।

ফলে অভিযোগপত্রে আশরাফুজ্জামান আশাকে মূল খুনি হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল দে, শাহরিদ শুভ, প্রদীপ চক্রবর্তীকে দন্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (হত্যা চেষ্টা) অভিযুক্ত করা হয়েছে।

৫ থেকে ২৮ নম্বর পর্যন্ত অভিযুক্তদের সাধারণ ধারায় (১৪৩ ও ৩২৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মামলার ২৯ নম্বর আসামি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক এরশাদ হোসেনকে হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

পিবিআই সূত্র জানায়, ৩০ জনের জবানবন্দি, ৩২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে অভিযোগপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ব্যালিস্টিক রির্পোর্ট ও বেনাপোল ইমিগ্রেশন অফিস এবং সিআইডির আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিয়েছে পিবিআই।

সূত্র আরও জানায়, ময়নাতদন্তে রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা গেছে গুলির আঘাতেই তাপস সরকারের মৃত্যু হয়। ব্যালিস্টিক রিপোর্ট বলছে ৭ দশমিক ৬৮ ক্যালিবার পিস্তলের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। আর এ পিস্তলটি ব্যবহার করেন আশরাফুজ্জামান আশা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর ইনসপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, জবানবন্দি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিভিন্ন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা অভিযোগপত্র তৈরি করেছি। পিপি মহোদয়ের মতামতের ভিত্তিতে তা সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত করার পর মামলার আসামি শাহরিদ শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এখন জামিনে আছেন। এছাড়া আশাসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গেত, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাসে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থিত ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপ এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত বিজয় গ্রুপের সংঘর্ষে গুলি করে খুন করা হয় সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকারকে।

এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা করেন তাপসের সহপাঠি হাফিজুল ইসলাম। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। যার মামলা নম্বর ১৭ (১২) ১৪। এ মামলায় আশরাফুজ্জামান আশাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২ মে ২০১৬

Related posts