November 14, 2018

চট্টগ্রাম হয়ে ট্রেন যাবে কক্সবাজার!

ঢাকাঃ  ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ট্রেন যাবে কক্সবাজার। থাকছে ৯টি রেল স্টেশন। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, রামু, ঈদগাহ হয়ে কক্সবাজার এরপর উখিয়া। সবগুলো রেল স্টেশনের ডিজাইন করা হয়েছে সেখানকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের উপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে কক্সবাজার রেল স্টেশনের ডিজাইন করা হয়েছে সমুদ্রের ঝিনুকের আদলে। ২০২২ সালের মধ্যে এই পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন শুরু হবে। রেল সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপন করা হবে। সাথে থাকছে ২৬ কিলোমিটার লুপ লাইন। এ ছাড়া ৪৭টি ব্রিজ, ১৪৯টি কংক্রিট বক্স কালভার্ট ও ৫২টি কংক্রিট পাইপ কালভার্ট নির্মিত হবে।

সূত্র জানায়, বহু চেষ্টা তদবিরের পর অর্থ মিলেছে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুনধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে। পাঁচ বছর আগে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও দাতা সংস্থা না পাওয়ায় এতদিন এ প্রকল্পটির কাজ আটকে ছিল। বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে সম্মত হওয়ায় বাস্তবায়নের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের আওতায় এই রেলপথ সিঙ্গাপুর, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও কোরিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি বিস্তৃত হবে ব্যবসা বাণিজ্যও।

সূত্র জানায়, ১৮৯০ সালে মিয়ানমার রেলওয়ে চট্টগ্রাম থেকে রামু এবং কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সার্ভে করে। চট্টগ্রামের সঙ্গে আকিয়াবের (মিয়ানমার) রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দোহাজারী হতে রামু হয়ে আকিয়াব পর্যন্ত ১৯১৭ সাল থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে পুনরায় সার্ভে করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মিটার গেজ রেল লাইন স্থাপন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কক্সবাজার হতে রামু পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলা রেলওয়ে চট্টগ্রামের দক্ষিণ দিক থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য সার্ভে পরিচালনা করে। যার উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করা। জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস (জেআরটিএস) ১৯৭১ সালে রেলওয়ে লাইনটি ট্রাফিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জেআরটি ১৯৭৬-৭৭ সালে ডাটা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করে।

১৯৯২ সালে ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক কমিশন অধিবেশনে সম্মতিপ্রাপ্ত এশিয়ান ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট নামের প্রকল্পের আওতায় ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের তিনটি ইউরো-এশিয়া সংযোগ বোর্ডের মধ্যে সাউদার্ন করিডর অন্যতম রুট। সেই থেকেই এই রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা ভাবনা চলছিল। রেল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চট্টগ্রাম জেলায় ২৮০ একর এবং কক্সবাজার জেলায় ৯৯৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দাবিকৃত ৩৯১ কোটি টাকার মধ্যে ৩১২ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। গাছপালা এবং বাড়িঘর ছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণের জন্য দাবি করেছে ৩১৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

তখন ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। পরে নতুন করে জরিপ করা হয়েছে। দ্বিতীয়বারের জরিপে দোহাজারী-ঘুনধুম রেললাইনের খরচ বেড়েছে প্রায় চারগুণ। বর্তমান জরিপে প্রকল্পের ব্যয় (সম্ভাব্য) প্রস্তাব করা হয়েছে ১১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হলেই রেলপথ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর আগে ২০১৩ সালে প্রকল্পটির সম্ভাবতা যাচাই শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি সম্ভাব্য যাচাই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts