September 25, 2018

চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগ-১ এর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ


নিজেস্ব সংবাদদাতাঃ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগ-১। গত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে প্রথম স্থানে ছিল গণপুর্ত বিভাগ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মাত্রা কিছুটা কমলেও গণপুর্ত বিভাগ রয়ে গেছে টিক জায়গায়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সরকারী কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্ষা না করে ৯ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়,২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য গণপুর্ত বিভাগকে ক্রয় পরিকল্পনা(এপিপি) খাতে সাড়ে ৫ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে দেড় কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে থোক বরাদ্ধ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকাসহ মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়। এই বরাদ্ধের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম তার একান্ত বিশ্বস্ত কিছু টিকাদারী প্রতিষ্টানের যোগসাজশে নামে মাত্র কাজ দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেই লাভবান হয়েছে। তথ্যাবধায়ক প্রকৌশলী সংস্থাপন শাখার স্বারক নং-সশা-১/২ই-১/২০১৩/৯৮৪(১৫০) তারিখ-২/৬/২০১৪ইং মুলে মেরামত খাতে বরাদ্ধের ২০ শতাংশ ই-টেন্ডারিং করার নির্দেশ থাকলেও চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের কোন তোয়াক্ষা না করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কে স্লিপের মাধ্যমে কাজের দায়ীত্ব দেয় ।

এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় ঢাকা। স্বারক নং-সিপিটিউ/আইএমইডি/২২৬/২০১১-২৬১ তারিখ ৯/৩/২০১৪ ইং তারিখে প্রেরিত এক নির্দেশনায় জানাযায়, সংবাদ পত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২/১০২০১৩ ইং তারিখে আন্ত:মন্ত্রনালয় সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় বাস্তবতার আলোকে ও বহুল প্রচারের প্রয়োজনে প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর ৯০(২) (গ) বিধি রহিত করে সকল প্রকার টেন্ডার পত্রিকায় প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরও প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম পত্রিকায় কোন প্রকার বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো নিজ পচন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে কাজ দিয়েছে। ফলে কাজের চেয়ে নিজে লাভবান হয়েছে বেশী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগের সাথে সংস্লিষ্ট অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মালিক এই প্রতিনিধিকে জানান, বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম কোন কাজের টেন্ডার প্রচার করে না। গোপনে স্লিপের মাধ্যমে তার পছন্দের প্রতিষ্টানকে কাজ দিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ করে।

সুত্র আরো জানায় চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগে ৬০-৬৫টি টিকাদারী প্রতিষ্টান রয়েছে। সকল প্রতিষ্টানকে টেন্ডারে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিলে একদিকে যেমন দরপত্র বিক্রি হয়ে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা হতো অপরদিকে নিন্ম দরের ফলে বছরে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মেরামতের ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার কাজ গত ৮ মে ২০১৬ ইং তারিখে প্রশাসনিক অনুমোদনে পত্রিকা বা নোটিশ বোর্ডে কোন নোটিশ প্রকাশ না করে লুটপাঠের উদ্দেশ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের আরকিটেক্ট লিঃ ও মজুমদার ট্রেডিং কর্পোরেশন নামক একই মালিকের দুই প্রতিষ্টানকে কাজের দায়ীত্ব দেয়। এ ব্যাপারে গত ২১ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ১৬ জন ঠিকাদার স্বাক্ষরিত একই দপ্তরে একটি অভিযোগ দেন। এছাড়া জুন ক্লোজিং এর অজুহাতে কোন প্রকার কাজ না করে কাজের বিপরিতে বিলের টাকা তুলে নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এই প্রকৌশলী।

এই বিলের টাকা ভাগবাটোয়ারা ও হয়ে গেছে এমন গুজব মুখে মুখে। এই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্টান আগে কোন সময় চট্টগ্রাম গণপুর্ত বিভাগ-১ এ কাজ করেছে এমন রেকর্ড নেই বলে অনেকেই দাবী করেন। তারা বলেন বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদান করার পর হঠাৎ করে এই দুই প্রতিষ্টানের আর্বিভাব হয়। অনেকে আবার এই দুই প্রতিষ্টান নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বত্তাধিকারী প্রতিষ্টান বলেও দাবী করে বলেন, এই দুই প্রতিষ্টানের পক্ষে দরপত্র ক্রয় ও চেক উত্তোলনসহ সব কাজ নিজ দায়ীত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সম্পাদন করেন। অন্য এক সুত্র জানায় এই প্রকৌশলী ঠিকাদার আবদুল জলিল(রং চুন মেস্ত্রি) এর প্যাডে ভুঁয়া বিল ও ভাওচার এর মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।এ সব অভিযোগের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এর সাথে ফোনে কথা বললে তিনি অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। অপর দিকে অভিযোগকারীরা দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে সব সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবী করেন।

Related posts