September 26, 2018

চট্টগ্রাম কারাগারের ভেতরেই চলছে জামায়াতের কার্যক্রম

ঢাকাঃ  চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এখন কানায় কানায় ভরপুর। প্রতিদিন আসে নতুন নতুন আসামী। তবে এসব আসামীদের মধ্যে বেশিরভাগ আসামী জামায়াত-শিবির কর্মী। সম্প্রতি সাড়াশি অভিযানের কারণে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তিন গুনের চেয়ে বেশি কয়েদী রয়েছে। এসব কয়েদীদের মধ্যে বেশির ভাগ কয়েদি জামায়াত-শিবির। কারাগারের অভ্যন্তরে জামায়াত শিবিরের জন্য আলাদা সেল থাকলেও কারাগারের অভ্যন্তরের তাদের আধিপত্য পুরো কারাগার জুড়ে। কারা অভ্যন্তরের চলছে তাদের কার্যক্রম।

কারাগারে কোন নতুন আসামী আসলে কৌশলে তাদের তালিম দেয়া হয়। আর এসব তালিম দেন জামায়াত শিবিরের সিনিয়র নেতারা। কারাগারের অভ্যন্তরে কোন সমস্যা হলে তারা তাকে ঐক্যবদ্ধ। অনেক ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা কারাগারের মধ্যে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় , এছাড়াও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কারা অভ্যন্তরের বিভিন্ন ব্যসস্যা বাণিজ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে তাদের কারা অভ্যন্তরের খরচ ও মামলার খরচ আসে জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় ফান্ড থেকে। এমনকি শুধু কারাগারের খরচ ও মামালার খরচ নয় যারা কারাগারে বন্দি রয়েছেন তাদের পরিবারকেও আর্থিক সহযোগীতা করা জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় ফান্ড থেকে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের গত পাঁচ মাসে প্রায় তিন হাজার জামায়াত শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি সাড়াঁশি অভিযানে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ফলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এখন জামায়াত-শিবির কর্মীতে ভরা। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ কয়েদি রয়েছে বলে জানা যায়। এরমধ্যে নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ৮ হাজার শিবির নেতাকর্মী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। এক্ষেত্রে সারাদেশের হিসেবে জামায়াত-শিবিরের প্রায় ৬০ হাজার নেতাকর্মী জেলে রয়েছে বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে জামায়াতের এ ৮ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে কারাগারেরর অভ্যন্তরে থাকলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা কারা অভ্যন্তরেও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। এখানে তারা নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে নতুন কোন কয়েদি বা নতুন আগত কোন জামায়াত শিবির কর্মীর মনোবল চাঙ্গা রাখতে তালিম দেন জামায়াত শিবিরের সিনিয়র নেতারা।

এক্ষেত্রে যেসব সেলে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী রয়েছে তারা সব সময় ঐক্যবদ্ধ তাকে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা কারা অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করে। তবে যারা পুরাতন কয়েদি তাদের হাতেই তাকে এ ব্যবসা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে জামায়াত শিবিরের যেসব নেতাকর্মী জেলে রয়েছে তাদের মামলা ও কারা অভ্যন্তরের খরচের যোগান দেয় জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় ফান্ড থেকে।

এমনকি যেসব জামায়াত-শিবির নেতা কারাগারে রয়েছে তাদের পরিবারের খরচ চালানো হয় জামায়াত শিবিরের পক্ষ থেকে। তাই অনেকে জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় ফান্ডের টাকা কোথা থেকে আসে আর তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা কোথায় যায় তা তদন্তের দাবি জানান।

জানা যায়, জামায়াত ও শিবিরের কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশে এই দলের সব কার্যালয় তিন বছর ধরে বন্ধ। কোথাও কেউ প্রকশ্যে কোনো মুভ করতে পারছেন না নেতা-কর্মী বা সমর্থকরা। শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই অবস্থান ফাঁসির দড়ির নিচে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, দেশব্যাপী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দমন নীতি চালানো হয়েছে।

জামায়াত শিবির কর্মীদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে প্রকাশ্যে বের হওয়া দূরের কথা, ঘরের ভিতরেও পাঁচজন সদস্য এক হতে পারছেন না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে। চট্টগ্রামের গত পাচঁ মাসে দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, চট্টগ্রামে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ভালই চলছে জামায়াত। অজ্ঞাত স্থান থেকে নিয়মিত মিডিয়ায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠাচ্ছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। মোবাইল ইন্টারনেট ফেসবুকের মাধ্যমে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের সমর্থিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে খরচ বহন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে তাদের পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এরমধ্যে বেশি আয়া আসে কোচিং সেন্টার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে। আরো রয়েছে বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আসা আয় দিয়ে মামলা ও তাদের নিজেদের খরচ বহন করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছে জামায়াত-শিবির। নিষিদ্ধ দলের মতোই চলছে তারা। কোনো নেতা-কর্মীর অফিসে আসা-যাওয়া নেই। তালা ঝুলছে সব কার্যালয়ে। কোনোটিতে তদারকি করে যাচ্ছেন কর্মচারীরা। নেতা-কর্মীরা অফিসে গেলেও গোপন বৈঠকের অভিযোগে তাদের আটক করা হয় তাদের। তবে তারা বাসা, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অনেক ঝুঁকি নিয়ে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এক নেতা বলেন, দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর বাসা আর ব্যবসায়িক কার্যালয়ই এখন জামায়াতের অফিস। তিনি বলেন, জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করছে। দেশের সংবিধান ও আইন অনুসরণ করেই নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে নিবন্ধন দিয়েছে। এরইমধ্যে জামায়াত গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড থেকেই চলবে জামায়াতের রাজনীতি।

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী জানান, কারাগারে জামায়াতের কার্যক্রম চলার কোন সুযোগা নেই। কারা অভ্যন্তরে তারা সময় সর্তক নজরে তাকে।

Related posts