September 19, 2018

‘চট্টগ্রামের চেহারা পালটে যাবে’

530

নিজেকে সফল দাবি করে চসিকের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর চেহারা পালটে যাবে। তা ছাড়া আমি কাউকে চিনলেও এখন আর চিনি না। বিষয়টি স্পষ্ট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছি। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমি অনড়।

গতকাল সকালে সিটি করপোরেশন কে বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ-পরবর্তী ১০০ কর্মদিবসে সম্পাদিত উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম অবহিতকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস বিফিংয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এসব কথা বলেন।

ক্রমান্বয়ে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কোনো কাজ করা হবে না। পরিকল্পিতভাবে নগর উন্নয়নে কাজ করবো, আগে কোনো সমন্বয় ছিল না। এখন নগরীর সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যে সমন্বয় সভা করেছি। প্রতি তিন মাস পর পর সমন্বয় সভা করা হবে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে। নগরীর মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি ডিজিটাল করা হবে। তখন ট্রাফিক পুলিশকে আর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে না।

পানিবদ্ধতা নিরসনসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত আশাবাদী উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমি যে দল করি, সে দল ক্ষমতায়। আমার অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেন, মহানগরীর উন্নয়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কাজ করে যাব। মেয়র নাছির বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার এ সবুজ চট্টগ্রাম মহানগরীকে বিশ্বের সামনে একটি বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে কাজ শুরু করেছি। আমি যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি তা আসলে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নই।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকাজে নগরবাসীর সহযোগিতা পুরোপুরি পাচ্ছেন কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, অস্বীকারের উপায় নেই নগরবাসীর মাইন্ডসেট পরিবর্তন আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে ২০ লাখ লিফলেট বিলি করেছি। ১ কোটি লিফলেট বিলির পরিকল্পনা আছে, দরপত্র হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে নিয়ম মেনে ময়লা না ফেললে স্পটে জরিমানা, মামলা এমনকি গ্রেপ্তারও করা হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার কাজে শতভাগ সফল হতে হবে। তিনি বলেন, নালা-নর্দমা উচ্ছেদে ১০-১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ ইস্যু করা হবে। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও অপসারণ করা হবে।

একাজে যে খরচ হবে তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং মামলা দেয়া হবে। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের অলস পড়ে থাকা প্রচুর অর্থ থেকে মহেশখাল, চাক্তাই খালসহ নগরীর প্রধান চারটি খালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে বলে জানান। মেয়র বলেন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের ৫টি ডিভিশনের মাধ্যমে ১১১.৮৩৮ কিমি রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। সড়ক সংস্কার ও মেরামতকাজে দেশি বিটুমিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে কাজ হবে সেখানে দৃশ্যমানভাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নম্বরসহ প্রকল্পের তথ্য সাঁটাতে হবে। শিডিউল রাখতে হবে। কাউন্সিলর ও আমাদের কাছে শিডিউল থাকবে। যে কেউ প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে পারবে। তিনি বলেন, আমি অপরিকল্পিত কাজ করতে চাই না। সম্মিলিতভাবে সমন্বিত কাজ করতে চাই।

মেয়র লিখিত বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত চসিকের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখায় কাজে অবহেলা, অনিয়ম ও উদাসীনতার কারণে ৩১ কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির জন্য সংশ্লিষ্টদের নতুন মোটরসাইকেল প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০টি নতুন হুইল ব্যারো সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০৫টি নতুন হুইল ব্যারো পরিচ্ছন্ন বিভাগে যুক্ত হয়েছে। ২টি পে-লোডার ভাড়া করা হয়েছে। ২৫টি এসএস কনটেইনার কেনা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন বিভাগের সবাইকে রেইন কোট ও সেবকদের রেডিয়েন্ট জ্যাকেট দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা বিভাগের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৪০ জনকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একটি শিক্ষা নীতিমালার খসড়াও করা হয়েছে। চিকিৎসা ফি ৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় আমার ১০০ দিনে ৩২ হাজার ৯১৯ জন রোগী বেশি সেবা পেয়েছেন।

মেয়র বলেন, ১০০ দিনে কর আদায় হয়েছে ৫৫ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি। ট্রেড লাইসেন্স খাতে আদায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি। এস্টেট খাতে আদায় ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বেশি। সব মিলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে ৪৮ কোটি ৭০ লাখ ১৮ হাজার ৭১০ টাকা। তিনি জানান, ১০০ দিনে উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প ও বিবিধ খাতে পরিশোধ করা হয়েছে ১৭৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৬০ টাকা। আমি সাধারণ তহবিল, এডিবি, জাইকাসহ বিভিন্ন খাতে ৭১২টি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ৬ মাসের মধ্যে নগরীর ১৬টি মোড় এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহমদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts