September 21, 2018

চট্টগ্রামের উইকেট কি ঢাকায় সম্ভব?

উইকেট

প্রতিপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলার উইকেটে ভুগতে হয়েছে মুশফিকুর রহিমদেরও। এমনকি ভোগান্তির স্রেফ একটি খণ্ডচিত্রকেই কেউ ম্যাচ ভাগ্য নির্ধারণী বলে রায় দিয়ে ফেললেও দোষ দেওয়ার নেই তাকে!

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশ অফস্পিনার গ্যারেথ বেটির যে ডেলিভারিতে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক আউট হয়েছেন, সেটিই স্বাগতিক দলের ভোগান্তির সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমাণ হয়ে আছে। স্পিনারের বল হঠাৎ বেশি লাফিয়ে উঠলে ব্যাটসম্যানেরও করার খুব কিছু থাকে না। করার ছিল না মুশফিকেরও। ওই সময়ে উইকেট তাঁর অসমান বাউন্সের নমুনা না দেখালে অধিনায়কও ৩৯ রানে ফিরে যান না। সাব্বির রহমান আর তাঁর ষষ্ঠ উইকেট পার্টনারশিপও ৮৭ রানে থামে না। এবং এর ফলে ২৮৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকেও হয়তো শেষ দিনের সকালের হতাশায় গুমরে কাঁদতে হতো না।

অথচ ২২ রানে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে আসা মুশফিকের মুখে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র খেদ ছিল না। তাই বলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা অযৌক্তিকও নয়। সেটি খুব স্বাভাবিকও। স্পিন পেশি ফুলিয়ে নামা বাংলাদেশের স্পিনাররা যে একেবারে প্রথম দিন থেকেই টার্ন পেয়েছেন। তাই হুট করে বেশি লাফিয়ে ওঠা বলে নিজের আউট হওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনায় মনোযোগী না হয়ে বিষয়টি বৃহত্তর ক্যানভাসেই দেখার চেষ্টা করেছেন টেস্ট অধিনায়ক। ‘মনের মতো’ উইকেট পাওয়ার তুষ্টির কথা বলে দিতেও তাই দ্বিধা করেননি মুশফিক। চট্টগ্রামের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেছিলেন, ‘এখানে বাবু ভাই অসাধারণ এক উইকেট বানিয়েছেন। আমি যত টেস্ট ম্যাচ খেলেছি, আমার মনে হয় এই প্রথম কোনো কিউরেটরের কাছ থেকে এমন উইকেট পেলাম, যেটি আমাদের জন্য সহায়কও ছিল। আমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই উইকেটই আমরা এখানে পেয়েছি।’

মিরপুরে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টেও নিশ্চয়ই একই রকম উইকেটের প্রত্যাশা থাকবে স্বাগতিক শিবিরের। কারণ দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড দেখেই পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা যে স্পিন ফাঁদেই আরেকবার ইংলিশদের টুঁটি চেপে ধরতে চায় বাংলাদেশ। পেসারদের ওপর আপাতত ভরসা করারও কোনো কারণ নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডের পর চট্টগ্রাম টেস্টও খেলা অভিজ্ঞ শফিউল ইসলামকে বিশ্রামে পাঠিয়ে নেওয়া হয়েছে শুভাশিষ রায়কে। ১৪ জনের দলকে ১৫ জনের বানিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনকেও, যাঁর অফস্পিনও খুব কার্যকরী। যেটিকে চট্টগ্রামে দুজন পেসার খেলানোর নীতি থেকে সরে আসার সম্ভাব্য বার্তা বলেও মনে করতে পারে কেউ কেউ। কিন্তু গামিনি ডি সিলভা কি পারবেন চট্টগ্রামের কিউরেটরের মতো করে স্বাগতিক দলের চাহিদা পূরণ করতে?

প্রশ্নটা সংগত কারণেই উঠছে। এ জন্যই যে দুই জায়গার উইকেটের মাটির ভিন্নতা রয়েছে। মিরপুরের উইকেট যেখানে তৈরি করা হয়েছে কালো মাটি দিয়ে, সেখানে চট্টগ্রামের মাটি বাদামি রঙের। মাটির তারতম্যের কারণে মিরপুরের উইকেটের ক্র্যাক বা ফাটলগুলো হয় ছোট ছোট। অথচ চট্টগ্রামের উইকেটে বিশাল বিশাল ফাটলই দেখেছেন ক্রিকেটাররা। যে জন্য যথেচ্ছ টার্নও পেয়েছেন স্পিনাররা। মিরপুরেও প্রথম দিন থেকেই টার্ন করাতে গেলে তিন দিন পর উইকেটের অবস্থা ভালো থাকবে কি না, তা নিয়েও আছে সংশয়। আর ফাটল ছোট ছোট হলে উইকেটে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও মিরপুরে চট্টগ্রামের মতো কিছু করার বিপক্ষে যাচ্ছে। তাই মুশফিকরা ঢাকায়ও ‘মনের মতো’ উইকেট পেতে চলেছেন, সেটি নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। লঙ্কান কিউরেটর গামিনির ‘মুনশিয়ানা’র পরীক্ষাটা তাই এখানেই। যদিও সেই পরীক্ষায় তাঁর পাস করার সম্ভাবনাও ধরে রাখছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘চট্টগ্রামে যেমন উইকেটে খেলে এসেছে, ঢাকায়ও তেমন উইকেটের চাহিদাই থাকার কথা দলের। মিরপুরেও একই রকম উইকেট পাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ সেই সঙ্গে অবশ্য তাঁকে এটিও বলে রাখতে হলো যে ‘চট্টগ্রাম আর মিরপুরের উইকেটের মাটি অবশ্য ভিন্ন। তা ছাড়া চট্টগ্রামের তুলনায় মিরপুরের উইকেটের বাউন্সও বেশি।’

Related posts