September 18, 2018

ঘরেই রাখতে পারেন যেসব গাছ

গাছ

এই যান্ত্রিক জনবহুল শহুরে কোলাহলে আটকে গেছে আমাদের জীবন। জীবনকে সজীব সতেজ রাখবেন সেই ফুসরত কোথায়? কিন্তু মানুষকে সবুজের সংস্পর্শে থাকা উচিত। এতে মন ও শরীর প্রশান্ত হয়। ঘরের কোণে একটা অংশজুড়ে রাখতে পারেন ছোট ছোট গাছ। তাতে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনও আনন্দে থাকবে।

সব রকমের গাছ ঘরের গুমোট পরিবেশে বেড়ে ওঠে না। তাই গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে মাথায় রাখতে হবে কোন কোন গাছ কম আলো ও বাতাসে বেড়ে ওঠে। ঘরের যে অংশে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসে সেই অংশে গাছ রাখুন। শোবার ঘরে গাছ না রাখাই ভালো বা রাখলেও ছোট গাছ রাখা উচিত। কারণ রাতে গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়ায় ঘরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

ঘরে রাখার জন্য যেসব গাছ উপযোগী তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের পাতাবাহার, মানিপ্ল্যান্ট, ক্যাকটাস, আইল্যান্ড স্টার, গ্রিন লিফ, বাঁশ পাতা, চাইনিজ পাম, সিলভার কুইন, ফাইকাস, এরিকা পাম, সাদা কচু, ডেজার্ট রোজ ইত্যাদি। অর্কিডের মধ্যে রয়েছে ডেন্ডোরিয়াম, মোকারা, অনসিডিয়াম, ক্যাটালগ অর্কিড।

সুন্দর ও সুস্থভাবে গাছের বেড়ে ওঠার জন্য পরিচর্যা দরকার। সাধারণ কিছু যত্নের নিয়ম মেনে চললেই গাছগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠবে। সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন-

গাছ কেনার সময় ডাল-পাতা ভালোভাবে দেখে সুস্থতা যাচাই করে কিনুন। ছোট চারা গাছ কেনাই ভালো। নার্সারিগুলোতে সার মেশানো মাটি কিনতে পাওয়া যায়। এই মাটি ব্যাবহার করলে পরবর্তীতে আলাদা করে সার মেশাতে হয় না। সপ্তাহে অন্তত একদিন সকালের নরম রোদে রাখুন। তবে কড়া আলোয় না রাখাই ভালো, এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। ৮-১০ দিনে একবার মাটি আলগা করে দিন। গাছের গোড়ার এক জায়গায় পানি না ঢেলে পানি ছড়িয়ে ঢালুন, কিছু পানি পাতার উপরেও ছড়িয়ে দিন। মরে যাওয়া পাতা ছিঁড়ে ফেলুন। মাসে একবার কীটনাশক স্প্রে করতে পারেন।

গাছের টব পরিবর্তন করার সময় খেয়াল রাখেন শিকড় যেন না ছেঁড়ে। টবে যেন পানি না জমে খেয়াল রাখুন। সপ্তাহের একদিন পরিচর্যার জন্য সময় রাখুন। এ ছাড়া ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন রকমের টব ব্যাবহার করা যেতে পারে। বাজারে মাটি ছাড়াও সিরামিকস, কাঁচসহ নানা রকমের মেটেরিয়ালসহ ডিজাইনের টব পাওয়া যায়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু নার্সারি রয়েছে। আগারগাঁওয়ের নার্সারিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি গাছ। এ ছাড়া ফার্মগেটের খামারবাড়ি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিপরীতে, ঢাকা কলেজের সামনে, কমলাপুরের টিটিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় নার্সারি রয়েছে। একবার ঘুরে আসবেন নাকি।

Related posts