September 21, 2018

গ্রেপ্তার নিয়ে চাপে পুলিশ!

ঢাকাঃ  জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে গণগ্রেপ্তারের কারণে নানামুখী চাপে রয়েছে পুলিশ। জঙ্গিবিরোধী অভিযান নামে দেশব্যাপী এ অভিযান চললেও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেপ্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। এর কয়েকগুণ বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিভিন্ন মামলার আসামি ও কথিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের। এতে অভিযানের শুরু থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহল থেকে। বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে গণহারে তাদের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করা হচ্ছে প্রথম থেকেই। বিএনপির দাবি, অভিযানের প্রথম ৩ দিনে তাদের ২ হাজার ১০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গণগ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তিনি অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যাকে ‘হিউজ নাম্বার’ উল্লেখ করে এর কারণ সম্পর্কে অবহিত হতে চেয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল অভিযানে গ্রেপ্তারের পুরো তথ্য গণমাধ্যমকে সরবরাহ করেনি পুলিশ সদরদপ্তর। শুধুমাত্র জঙ্গি গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল চার দিনে অভিযানে ১১,৬৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার করা হয় ১৪৫ জনকে। পঞ্চম দিনের হিসাব অনুযায়ী সন্দেহভাজন জঙ্গির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬তে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এত বেশি গ্রেপ্তারের কারণে বহির্বিশ্বে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।

যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন,

পুলিশের এই অভিযানের কোনো ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নেই। ‘টার্গেট কিলিং’, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,

‘এছাড়া অন্যান্য সময় সারা দেশে গড়ে বিভিন্ন অভিযোগে ২ হাজার আটক বা গ্রেপ্তার হয়। সুতরাং সেই বিবেচনায় সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যার সঙ্গে তেমন একটা তারতম্য নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘোষণা দিয়ে জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। জঙ্গি ধরতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বা অন্যান্য মামলার আসামিদের ধরা বা সংখ্যা বাড়াতে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়। খোদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের অনেক কর্মকর্তাই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুপ্তহত্যাকারীদের ধরতেই মূলত এই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযানে একজন গুপ্তহত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করতে না পারা মানে পুরো অভিযানই ব্যর্থ। সংশ্লিষ্টরা বলেন, একের পর এক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেলেও গুপ্তহত্যাকারীদের ধরতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘোষণা দিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে যে তাদের ধরা যাবে না তা আগেই অনুমেয় ছিল।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাত দিনের বিশেষ অভিযানের প্রথম ৫ দিনে ১৬৬ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে ১২৮ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবির সদস্য। বাকিদের মধ্যে ৯ জন হিযবুত তাহরীর, ৬ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, ৭ জন জাগ্রত মুসলিম জনতা- জেজেএমবি, ২ জন হরকাতুল জিহাদ-হুজি, ৪ জন আল্লাহর দল ও বাকি ১০ জন অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। তবে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি সদস্যদের মধ্যে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে এমন কেউ নেই। এসব মামলায় পুলিশ কোনো জঙ্গি সদস্যকে সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্টও দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো উচিত ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে। পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, কাউন্টার টেরোরিজম, আন্ডার কাভার অভিযান ইত্যাদিভাবে জঙ্গিদের বিষয়ে বিশদ খোঁজখবর সংগ্রহ করতে হবে। এর পরেই অভিযান চালানো উচিত ছিল। তা না করে ঘোষণা দিয়ে যে অভিযান করা হচ্ছে তাতে প্রকৃত জঙ্গিদের গ্রেপ্তার কখনোই সম্ভব হয় না।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অভিযান সম্পর্কে গতকাল কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের আগেই গত ৬ই জুন থেকে ১৩ই জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, অবৈধ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। ১৩ই জুন সেই অভিযান শেষ হয়ে যাওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অন্যান্য নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানানো হয়নি। যদিও ১০ই জুনের আগে প্রথম চার দিনের অভিযান সম্পর্কে কোনো তথ্যই জানায়নি পুলিশ সদর দপ্তর। এমনকি অভিযানের প্রথম চারদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জঙ্গি এবং অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পৃথক সংখ্যা দেয়া হলেও গতকাল কেবলমাত্র সারা দেশে ২১ জঙ্গি গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২১ জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন জেএমবি, ১ জন হিযবুত তাহরীর, ২ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এবং ১ জন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। পুলিশ জানায়, ঢাকা রেঞ্জের নারায়ণগঞ্জ জেলা ১ জন হরকাতুল জিহাদ (হুজি), টাঙ্গাইল জেলা ১ জন জেএমবি, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ময়মনসিংহ জেলা ১ জন জেএমবি, শেরপুর জেলা ১ জন জেএমবি, রাজশাহী রেঞ্জের রাজশাহী জেলা ১ জন জেএমবি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা ১ জন জেএমবি, নওগাঁ জেলা ২ জন জেএমবি, বগুড়া জেলা ৩ জন জেএমবি, খুলনা রেঞ্জের সাতক্ষীরা জেলা ১ জন জেএমবি, রংপুর রেঞ্জের রংপুর জেলা ১ জন জেএমবি, দিনাজপুর জেলা ১ জন জেএমবি, গাইবান্ধা জেলা ১ জন জেএমবি, পঞ্চগড় জেলা ১ জন জেএমবি, নীলফামারী জেলা ১ জন জেএমবি, ঠাকুরগাঁও জেলা ১ জন জেএমবি, বরিশাল রেঞ্জের বরগুনা জেলা ২ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এবং ডিএমপি, ঢাকা ১ জন হিযবুত তাহরীর সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, ৪টি ককটেল, ৫০০ গ্রাম গান পাউডার, ৫টি পেট্রলবোমা এবং ১০টি উগ্রপন্থি বই উদ্ধার করেছে।

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান, দিনাজপুরে জেএমবি’র একজন সদস্যসহ ৭৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে ওমর ফারুক (৩৫) নামে একজন জেএমবি সদস্য এবং একজন জামায়াত ও একজন শিবিরের সদস্য। অন্যরা সবাই বিভিন্ন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৩ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৯ জুয়াড়িসহ ১২ জনকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁর রানীনগর ও পত্নীতলা উপজেলা থেকে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগি ডা. খায়রুল আলম মন্টু ও আরো ২ জন জেএমবি সদস্যসহ ৭২ জনকে গ্রেপ্তার ও তাদের কাছ থেকে ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, যশোরে জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মীসহ মোট ৯৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর অভিযানে যশোরের ৯টি থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। যশোরের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জামায়াত-শিবিরকর্মীসহ মোট ৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চৌগাছা থানায় ১১, কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৯, শার্শা থানায় ৮, ঝিকরগাছা থানায় ২৪, বেনাপোল থানায় ৯, কেশবপুর থানায় ৪, মণিরামপুর থানায় ৯, অভয়নগর থানায় ৭ ও বাঘারপাড়া থানায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে জানান, মানিকগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াত-শিবিরে ৭ জন নেতাকর্মী আটক হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ধামইরহাটে ৪ জামা’আতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)’র সুরা সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ধামইরহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, থানা পুলিশের নেতৃত্বে গতকাল রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের হযরতপুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে মঈন (৪৮), খেলনা গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে ওসমান আলী (৫২), জোতওসমান গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে আ. গোফ্‌ফার (৪৩) ও জয়পুরহাট সদরের হানাইল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৫) সহ মোট ৪ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃতরা ২০১৫ সালের নাশকতা মামলার আসামি ও তাদের জেএমবি সদস্য হিসাবে দাবি করেন ওসি মশিউর রহমান। আটককৃতদের নওগাঁ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী ধরতে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছেন পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সদর, রায়পুর, রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। এনিয়ে গত ৬ দিনে এ জেলায় গ্রেপ্তার হলো ১৮৯ জন। এর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মী ও বিএনপির ৬ কর্মী রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মহানগর ও জেলা পুলিশ ১১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) ৪৭ জনকে এবং জেলা পুলিশ ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের সাতজন নেতাকর্মী রয়েছেন।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, পুলিশি অভিযানে নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ ৪৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে এবং গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করায় আটক করা হয়েছে।

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানের ৬ষ্ঠ দিনে মো. সহির উদ্দিন (৪৭) নামে ১ জন জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার বেতগাড়া গ্রামে তার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডোমার থানা পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, উল্লাপাড়া থানা পুলিশ গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সর্বহারা দলের নেতাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড় জেলায় এক জেএমবি সদস্যসহ বিভিন্ন মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলার হাকিমপুর মৌমারী এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে রেজাউল ইসলাম সুজন (২২) নামের এক জেএমবি সমর্থককে আটক করা হয়। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে আটকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬০ জনে।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানের ৬ষ্ঠ দিনে জামায়াত-শিবেরের নেতাকর্মীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬ থানায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, কুড়িগ্রামে পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানের ৬ষ্ঠ দিনে জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রোমানসহ ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ছাত্র নেতা রোমানকে ১৫১ ধারায় আটক করে নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ৫৬ জন এজাহারভুক্ত নিয়মিত মামলার আসামি।

চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোলে এক জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হলো-উপজেলার পীরপুর গ্রামের রইসুদ্দিনের ছেলে শহরত জামান (৪৪)।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ৬ দিনে নীলফামারীতে ১০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানের ষষ্ঠতম দিনে রাজশাহীতে এক জেএমবি সদস্যসহ ৯৮ জনকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত মহানগরীর চারটি থানা এলাকায় এবং জেলার নয়টি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বাগেরহাট থেকে প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে পুলিশ ৯টি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৫ কর্মী ও বিভিন্ন মামলায় ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জেএমবি সদস্যসহ ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত-শিবিরকর্মী রয়েছে ৪ জন। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রংপুরের ৮ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নাশকতা, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া থেকে সংবাদদাতা জানান, বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন জেএমবি সদ্যস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সাড়ে ৫টা) বিএনপি, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ অন্য গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।

উৎসঃ  মানব জমিন

Related posts