September 21, 2018

গ্রেপ্তারের পর আপত্তিকর মেসেজ মুছে দিয়েছিল ফেরদৌস

ঢাকাঃ  টার্গেটকৃত ছাত্রীকে বাগে নিতে ফোনালাপ ও খুদেবার্তা প্রেরণ করতেন শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌস। আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের মোবাইলফোনের সেন্ট অপশনে এরকম অসংখ্য ক্ষুদেবার্তা ছিল। ছিল নানা পর্নোগ্রাফি। গ্রেপ্তারের পরপর এসব ক্ষুদেবার্তার অনেকগুলো সেন্ট অপশন থেকে মুছে ফেলেছেন। মুছে ফেলেন বেশ কয়েকটি পর্নোগ্রাফিও। জিজ্ঞাসাবাদে ফেরদৌস তা স্বীকার করেছেন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে।

২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক অপকর্মে লিপ্ত হন শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ ফেরদৌস। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে ক্যাম্পাসের অনেক ছাত্রীই তার বিষয়ে জানতেন। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফেরদৌস স্বীকার করেছেন ২০১৩ সাল থেকেই সুন্দরী ছাত্রীদের টার্গেট করে কৌশলে নির্যাতন করতেন তিনি। তার আগে অনেক ছাত্রীদের সঙ্গে বন্ধুতার সম্পর্ক ছিল। ফেরদৌস স্বীকার করেছেন ক্লাসের বাইরে ইন্টারনেটে সময় দিতেন তিনি। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে পর্নো আসক্তি তাকে পেয়ে বসে। এই আসক্তির কারণেই সুন্দরী ছাত্রীদের প্রতি দৃষ্টি পড়ে তার। নানা কৌশলে তাদের বাগে নিতে চেষ্টা করতেন ফেরদৌস। বন্ধুতা গড়ে উঠলে অশ্লীল ক্ষুদেবার্তা সেন্ট করতেন। বেশ কয়েক ছাত্রীর ফোনে পাওয়া গেছে তার প্রেরিত অশ্লীল ক্ষুদেবার্তা। সুইটহার্টসহ নানা শব্দে সম্বোধন করে লেখা এসব ক্ষুদেবার্তায় যৌন উত্তেজক নানা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার ফোনে এরকম অনেক ক্ষুদেবার্তা ও বেশ কিছু পর্নোগ্রাফি পাওয়া গেছে। কিন্তু গ্রেপ্তারের পরপর বেশকিছু মুছে ফেলা হয়েছে তার ফোন থেকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, একজন ছাত্রী জানিয়েছেন পান্থপথের ১৫২/২/জি/১-২ এর চার নম্বর ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক আলাপ শুরু করেন ফেরদৌস। বিবাহিত জীবনে নিজে অসুখী বলে জানান। এক পর্যায়ে পর্নোগ্রাফি দেখার প্রস্তাব করলে ওই ছাত্রী অসম্মতি জানান। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ফোনে একটি অশ্লীল ছবি সেন্ট করেন ফেরদৌস। গ্রেপ্তারের পর এরকম নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। শনিবার আদালতে এ বিষয়ে জবানবন্দি দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে দেয়া সাক্ষ্যগুলো লিপিবদ্ধ করছে পুলিশ। শিগগিরই তদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সামাজিকতার কারণে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই মামলা তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে আট ছাত্রী নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ক্লাসরুম থেকে টার্গেটকৃত ছাত্রীকে ডাকতেন তার অফিস কক্ষে। সেখান থেকেই শুরু হতো নানা কৌশল। নির্যাতন করেছেন অফিস কক্ষ ও ল্যাবে। এ সময় ল্যাবের দরজা বন্ধ করে দিতেন তিনি। ছাত্রীর সঙ্গে বন্ধুতা থাকলে কৌশলে নিয়ে যেতেন প্রান্থপথের বাসায়। এভাবেই দীর্ঘদিন থেকে অপকর্ম করছিলেন এই শিক্ষক। কোনো ছাত্রী প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতেন। সহকারী প্রক্টর হওয়ার কারণে তাকে ভয় পেতেন ছাত্রীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, এই মামলায় নির্যাতিতাদের সমাজিকতার কথা মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া তদন্তাধীন বিষয়েই তেমন কিছু বলা যাবে না। তবে যত শিগগির সম্ভব যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আদালতে এই মামলার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৯ মে ২০১৬

Related posts