September 26, 2018

‘গ্রেনেড আহত শেখ হাসিনাকে দেখতে যাননি খালেদা’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার পর সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আহত বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে এক মিনিটের জন্যও দেখতে আসেননি। কোন ধরনের সমবেদনাও জানাননি। উল্টো অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনার ব্যাগেই নাকি গ্রেনেড ছিল। তিনি বলেন, সরকারি দলের অসহযোগীতার কারণে ওই সময় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারি নাই।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গ্রেনেড হামলার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মঙ্গলবার অসমাপ্ত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা বলেন।

জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলায় আহত সুরঞ্জিত বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার শরীরে এমআরআই পরীক্ষা (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) করাতে পারবো না। প্রয়াত ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এমআরআই করাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচানোর জন্য মেয়র হানিফের নেতৃত্বে মানবঢাল তৈরি করা হয়েছিল। তার এই সাহসী পদক্ষেপ আমরা কখনই ভুলবো না।

ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা বর্ননা করে প্রত্যক্ষদর্শী এই সাক্ষী বলেন, গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর প্রথমে আমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভারতের অ্যাপোলো হাসাপাতালে উন্নত চিকিৎসা নেই। আমার সঙ্গে সেখানে প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, বর্তমান মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও ওবায়দুল কাদের চিকিৎসা নেন। তিনি বলেন, আমার শরীরে ২৬টি স্প্রিন্টার ছিল। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছিলেন, এগুলো বের করতে হলে কাঁটাছেড়া হবে। এরপর আর স্প্রিন্টার বের করা হয়নি। গ্রেনেডের আঘাতে সে সময় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডানপাশের কানটি স্তব্ধ হয়ে যায়।

গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, এটাকে না বললে কোন ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলবো। ওইদিন সরকারের পক্ষ থেকে কেউ অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। বরং মামলার আলামত নষ্ট করা হয়েছিল।

জবানবন্দি শেষে তাকে পলাতক আসামি তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মো. হানিফসহ অন্যান্যদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা জেরা করেন।

বৃহস্পতিবার অসমাপ্ত জেরা শেষ করার জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার প্রধান কৌসলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, ফাতেমা রেজা, শ্যামল সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আশরাফ-উল আলম, চৈতণ্য সরকার, খলিলুর রহমান, নিজামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবনে বসে এ হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেখানে হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে পরবর্তীতে পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এ ছাড়া জোট সরকারের শিক্ষাউপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় জঙ্গিদের নিয়ে বৈঠক করেছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশে সুপরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র জনতার ওপর সমরাস্ত্র দিয়ে জঙ্গি হামলা করা হয়েছিল। এটি ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। দেশ ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছিল।

মামলার আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি সংগঠন হুজির নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts