September 22, 2018

গ্রাহকের ব্যাগ কেটে দেড় লাখ টাকা চুরি!

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জঃ  প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার সুযোগে গ্রাহকের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখাতে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর দুইটা ছত্রিশ মিনিটে এ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসা গ্রাহকের ব্যাগ কেটে টাকা চুরি করে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নির্বিকার ছিলেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ ব্যাংকের প্রধান ফটকের বাহিরে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, মঙ্গলবার দুপুরে নিতাইগঞ্জের গম এজেন্সী গাউসুল আজম এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার এইচ এম কোরবান দুই লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা জমা দিতে চাষাড়াস্থ সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার ১৭ নং কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান। এ সময় পিছন থেকে কেউ একজন কৌশলে তার ব্যাগ কেটে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী কোরবানসহ ব্যাংকের সকলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে চোরের পিছনে দৌঁড় দিলেও ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডসহ বাইরে থাকা পুলিশের অবহেলায় চোরদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে বুঝা যায়, চারজনের একটি সংঘবদ্ধ দল এই লৌহমর্ষক চুরিতে অংশ নেয়। একজন ব্যাগ কেটে টাকা নেয়, আর বাকী তিনজন পিছনে দাঁড়িয়ে পাহাড়া দেয়। চোর টাকা নিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাংকের গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য চেয়ারে বসে ঝিমাচ্ছিলেন। তার চোখের সামনে দিয়ে চোরের দল টাকা নিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় জনমনে। ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সেই সময়ে ব্যাংকে আসা সাধারণ গ্রাহকরা। তারা অভিযোগ করেন, যদি ব্যাংকের ভিতর থেকে টাকা চুরি হয়ে যায় তাহলে আমাদের টাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে!

মাসদাইরের মোঃ সোহাগের মালিকানাধীন হোসেনীয়া ফ্লাওয়ার মিল ও গাউসুল আজম এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার কোরবান টাইমস নারায়ণগঞ্জকে  কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার সুযোগে আমার এতো বড় সর্বনাশ হয়ে গেলো। এখন আমি মালিককে কি জবাব দিবো? আমি সামান্য বেতনে চাকরী করি। এতো টাকা আমি কি করে ফেরত দিবো সেই চিন্তা করেই আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় ব্যাংকের লোকজনও এই চোর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত।

এ বিষয়ে ব্যাংকের ডিজিএম নূর আহমেদ বলেন, এটা একটা দূর্ঘটনা। এর জন্য গ্রাহক নিজেই দায়ী। যে পর্যন্ত টাকা কাউন্টারে জমা না হবে সে পর্যন্ত টাকার দায় দায়িত্ব সম্পূর্ন গ্রাহকের নিজের। এক্ষেত্রে গ্রাহককে আরো সচেতন হতে হবে।

ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যের নাকের ডগা দিয়ে চোরের দল টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিরাপত্তায় ৬ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। এখানে ১০ জন পুলিশ দিলেও কোন কাজ হবে না। এই ব্যাংকের টাকা রাষ্ট্রের টাকা। এটা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমার না।

এব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, ঘটনাস্থলে দারোগা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকে দায়িত্বরত পুলিশের গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৩ মে ২০১৬

Related posts