November 21, 2018

গ্যাস সংকটে চালু হচ্ছে না ২শ’ গার্মেন্ট

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রায় ৫ বছর আগে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩০কোটি টাকা  বিনিয়োগ করে একটি গার্মেন্টস কারখান গড়ে তোলেন ব্যবসায়ী রাশেদ। কিন্তু গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছেনা ভি-নিটওয়্যারএন্ড কম্পোজিট নামের ঐ শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য কেনা যন্ত্রপাতি এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী রাশেদ জানান, নিজের ১৫কোটি টাকা এবং ব্যাংক ঋণ ১৫কোটি টাকা দিয়ে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়। এরই মধ্যে ব্যাংকের ১৫কোটি টাকা পাচ বছরে বেড়ে ২০ কোটি টাকা হয়েছে । কিন্তু গ্যাস সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছে কারাখানাটি।

রাশদ মাহমুদের মতো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘মুনলাক্স নিট গার্মেন্টস লিমিটেডের’ পরিচালক আবুল কাশেম মোল্লা জানান, পুঁজি বেশি না থাকায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ লাইনে ১৩০ মেশিনের এই কারখানাটি স্থাপন করেছেন তিনি। গ্যাস সংযোগের আবেদন করেছেন পাঁচ বছর আগে, কিন্তু আজও মেলেনি। ইলেকট্রিক ব্রয়লার দিয়ে কারখানাটি আংশিক চালু করা গেলেও পণ্য উৎপাদন হচ্ছে না তেমন। ফলে প্রতিমাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ করে কি আমরা পাপ করেছি। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে গার্মেন্টস কারখানা করে সেটি এখন আমার গলার টাকা হয়ে গেছে। আমাদের চোখের পানি দেখারও কেউ নেই।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ২শ গার্মেন্টস শুধু গ্যাস সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ৩কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে এখন অনিশ্চয়তায় রয়েছে ব্যবসায়ীরা।  বিভিন্ন মহলে তদবির করেও মিলছেনা গ্যাস সংযোগ।  গার্মেন্টস মালিকরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সব ধরনের মেশিনারিজ এনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার পরও গ্যাস সংযোগের অভাবে চালু করতে পারছেন না কারখানা।

সূত্র জানায়, শুধু মাত্র ৬৬ গার্মেন্টস কারখানায় বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩২০ কোটি টাকার। এছাড়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে দেশের গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারে কাজ করছে দুই বিদেশি ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। কারখানা ভবনের মান ভালো না হওয়ায় তারা কারখানা স্থানান্তরের সুপারিশ করে। এ জন্য ৬১ গার্মেন্টস কারখানার মালিক গ্যাসের লাইন ট্রান্সফারের আবেদন জানান তিতাসে। কিন্তু এসব কারখানার গ্যাস লাইন আজ অবধিও স্থানান্তর করা হয়নি। ফলে এ কারখানাগুলোও প্রায় বন্ধ। এ কারণে এই ৬১ কারখানারও প্রায় ১ হাজার ২২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন আটকে আছে।

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত গ্যাস প্রয়োজন এ রকম গার্মেন্টস রয়েছে ৭২টি। এসব কারখানা মালিক গ্যাসের লোড বাড়ানোর আবেদন করেছেন তিতাসে পাঁচ বছর আগে। কিন্তু এখনও সাড়া মিলছে না। এই ৭২ গার্মেন্টস কারখানায়ও বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার। গ্যাস সঙ্কটে এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগও এখন বাধাগ্রস্থ। সুতরাং গ্যাস সঙ্কটের কারণে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ২০০ গার্মেন্টসে চার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে রয়েছে।

গার্মেন্টস কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ, গ্যাসের লোড বৃদ্ধি ও লাইন স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান একটি গন মাধ্যমকে বলেন, কিছু শিল্পপ্রধান এলাকায় গ্যাস সঙ্কট রয়েছে। এ সঙ্কট দূর করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তাছাড়া নতুন গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসের লোড বৃদ্ধির আবেদনগুলো পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করছি সমস্যা দূর করা যাবে।

কিন্তু শিল্প মালিকরা তিতাসের এমডির এই বক্তব্যের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না বিজিএমই এ।  এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সকালের বলেন, গার্মেন্টস খাতে গ্যাস সঙ্কট দূর করার জন্য আমরা দফায় দফায় তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি। তিতাসের এমডি বা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তারা সমাধানের আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। তিনি বলেন, অনেক উদ্যোক্তা গার্মেন্টসে বিনিয়োগ করে কেবল গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার কারণে দেউলিয়া হওয়ার পথে।

বিজিএমইএ সভাপতি  সিদ্দিকুর রহমান বলেন বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সব ধরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরও ২শ’ কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। তবে যে সংখ্যা দেয়া হয়েছে তা কেবল বিজিএমইএ’র সদস্যভূক্ত প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অন্যান্য কারখানা যুক্ত হলে সংখ্যা আরো বাড়বে। বলে তিনি জানান।

জ্বালানী উপদেষ্টা  উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে জ্বালানি নিশ্চয়তা পেতে বিশেষ অর্থনৈতিক অ লে (এসইজেড) শিল্প স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে আপনারা এসইজেডে শিল্প স্থাপন করুন। সেখানে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ সবধরনের সেবা সরবরাহ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেব।

ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, বিভিন্ন স্থানে অন্তত দুই হাজার শিল্প-কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ না পাওয়ার কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু করতে পারছে না, তিনি এ ধরনের কারখানাগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংযোগ প্রদান করার আহবান জানান। বর্তমানে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। অথচ গ্যাসের বিল নেয়া হচ্ছে পূর্ণ চাপের মতো। তাই ইকোনোমিক্যাল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি মেজারমেন্ট (ইপিএম) পদ্ধতি চালু করা দরকার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সম্প্রতি বলেছেন, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের নতুন গ্যাস সংযোগ পেতে এবং এই খাতে চলমান সংকট কাটাতে আরো দুই বছর সময় লাগবে । তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার জ্বালানি খাতের জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী  নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩২০ কোটি ঘনফুট। গত সাত বছরে গ্যাসের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হলেও চাহিদা তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। যে কারণে বর্তমানে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ৫০ কোটি ঘনফুট। ২০২১ সালের মধ্যে ৫৭টি অনুসন্ধান কূপ খনন, ৪৩টি উন্নয়ন কূপ খনন এবং ২০টি কূপের মেরামত করার পরিকল্পনা আছে। এসব কূপ থেকে আনুমানিক ১৭৮ থেকে ১২৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সাল নাগাদ ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সমান এলএনজি আমদানি করা হবে। এ ছাড়া মহেশখালী ও পায়রায় স্থলভাগে ২০২২ সাল নাগাদ ২০০ কোটি ঘনফুট ক্ষমতার দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের আরো কিছু খবর………।।

সাজুর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে রাজিবের পরিবার

এখনও পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল আরামবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পুলিশ ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত ১৪ মামলা আসামী শাহজাহান সরকার সাজু কে। প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে ঘুরাফেরা করে এলাকার নিরীহ মানুষ হুমকী প্রদান করলেও আইনশৃংখলা বাহিনী সাজুকে গ্রেফতার না করাতে উক্ত এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ৩১ মে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে মারারারির ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চিত্তরঞ্জন এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে রাজিব বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত “ক” অ লে  একটি সিআর মামলা দায়ের করেন কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজুর বিরুদ্ধে। যার নং ১৬। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান,শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজু বিরুদ্ধে মামলা করে পুরোটাই নিরাপত্তা হীনতার মাঝে দিন কাটছে দরিদ্র রাজিবের পরিবারের সদস্যরা। ভয়ংকর সন্ত্রাসী সাজুর এভাবে এলাকাতে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে অথচ আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে দেখেও না দেখার ভান করে আসছে। সাজুর মত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কেনইবা তারা গ্রেফতার করছেনা তা আমাদের বোধগম্য হয়না।

গোদনাইলের শীর্ষ সন্ত্রাসী র‌্যাব ও পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামী সাজুর বিরুদ্ধে যে সকল মামলা চলমান রয়েছে তা হল, গত ১৮/৫/১৬ইং তারিখে সাজুর ছোড়া গুলিতে আহত মোস্তফা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার নং ২১, কুমিল্লা থেকে মেয়ে এনে ফুর্তি করার সময় পুলিশ সাজুর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। সে বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন যার নং ১৭ (৮/৪/১৬ইং), আরামবাগের বাসিন্দা এস.এম. মনির হোসেন বাদী হয়ে গত ১৪/২/১৬ইং তারিখে সাজুর বিরুদ্ধে একটি চাদাবাজি মামলা করেন যার নং ২৭, একটি মারামারি মামলায় আরামবাগের বাসিন্দা শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগম বাদী হয়ে গত ১০/৩/১৫ইং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন যার নং ১৬, চিত্তরঞ্জন এলাকায় একটি গোলাগুলির ঘটনায় এলাকার সেলিমের মাতা মহিমা খাতুন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন যার নং ২৫, র‌্যাব-১১ সন্ত্রাসী সাজুকে দু’টি বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার করে পরে র‌্যাব-১১’র ডি.এ.ডি নুরুল কবির ( সেনা) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন যার নং ৮ (৫/৫/১৫ইং),আরামবাগের বাসিন্দা সাংবাদিক হাজী সিরাজকে মারধর করার ঘটনায় সিরাজ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং ১৮ (১০/৬/১৪ইং),বি বাড়িয়ার আশুগঞ্জে একটি কন্টেইনার ভর্তি গার্মেন্টসের ফেব্রীক্স ডাকাতির ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসী সাজুর বিরুদ্ধে শিল্পপতি আবদুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয় যার নং ৪ (৫/৬/১১ইং)। এছাড়াও আরো বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাসী সাজুর বিরুদ্ধে অজানা আরো অনেক মামলা রয়েছে।

সাজু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আরামবাগ এলাকাবাসি। তাদের দাবী যে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে থানায় ১৪ টি মামলা রয়েছে সে সন্ত্রাসী অস্ত্র ও বাহিনী নিয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আরামবাগ বাসীদের মাঝে। এখন বেশ বড় করে তাহলে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় লালিত পালিত আইনশৃংখলা বাহিনী কি করেন। সেটাই এখন সিদ্ধিরগঞ্জ তথা গোদনাইল বাসীর প্রশ্ন।

সন্ত্রাসী সাজু এলাকাতে ছিনতাই,ডাকাতি,চাদাবাজি,হামলা,জবরদখল,মাদক ব্যবসা করিয়ে থাকে। গার্মেন্টসে চাকুরীরত মেয়ে ও মহিলাও সন্ত্রাসী সাজু বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।যার ফলে বেশীর ভাগ সময়েই এলাকার সাধারন মানুষকে আতংকে দিন কাটাতে হয়। এলাকাবাসির দাবী গত ১৮ মে সন্ত্রাসী সাজু বাহিনীর গুলিতে মোস্তফা আহত হয়। অথচ আইনশৃংখলা বাহিনী এখনও সেই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যদি সাজুর কাছে থাকা অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার না হয় তাহলে ভবিষ্যতে উক্ত এলাকাতে বড় ধরনের ক্ষতির কারন হতে পারে।
এলাকাবাসি দাবী সাজু বাহিনীর প্রধান সাজুকে অতিদ্রুত গ্রেফতার বা ক্রস ফায়ারে দেয়ার জন্য পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১১’র অধিনায়কের হস্তক্ষেপ কামনা করছে গোদনাইল বাসী।

শেষ ঠিকানা মিলল

কবরস্থানের নিজস্ব জমি নেই তাই পাশের গ্রামের কযরস্থানে কবর দিতে হতো স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের। আর ধনাঢ্য ব্যক্তির পারিবারিক কবরস্থানেই হতো শেষ ঠিকানা। এ নিয়ে বিগত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন সুফল না মেলায় এক প্রকার হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে বসবাস করছিলেন নারায়ণগঞ্জের  রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া এলাকার ৫ শতাধিক  মুসলিম পরিবার । একই গ্রামের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা পূর্বাচল উপশহরের ২নং সেক্টর। উন্নয়নের ছোঁয়ার আশায় বিগত ৪৫ বছরেও ওয়াক্ফকৃত জমি না থাকায় কবরস্থান বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয় কোন মুসলিম মারা গেলে নিজ বারান্দা ভেঙ্গে কিংবা কারো উঠানে, এমনকি নিজের গোয়ালঘরে কবর দিতে বাধ্য হয়েছে।  এ নিয়ে স্থানীয় জনগণ অনেকের কাছে ধর্না দিয়েও সুফল পায়নি। সম্প্রতি গোয়াল পাড়া এলাকার আলী মিয়ার ছেলে আল আমিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার জানাজায় উপস্থিত মুসলিমদের কাছে একটি গোরস্থানের জমি দানের আবেদন জানানো হয়।

এ আবেদনে সারা দেন স্থানীয় চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু , শিক্ষক ও ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন,মুক্তিযোদ্ধা মোন্তাজদ্দিন,অপর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী,  জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা কবির হোসেন, মানিক আলী হাজী, হাজী এন্তাজদ্দিন, হাজী ফজলু মিয়া।  তাদের ব্যক্তিগত অর্থ ও গ্রামবাসীর সহায়তায় অবশেষে ১৪ শতক জমির ব্যবস্থা  হলে একটি কবরস্থানের নিশ্চয়তা পান গোয়ালপাড়াবাসী। এদিকে জমি দান করায়  দাতা সদস্যদের জন্য বিশেষ মোনাজাত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রামবাসী। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ সদর  ইউপি চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূইয়া রানু জানান, কবরস্থানের দাবী গোয়ালপাড়া বাসীর দীর্ঘদিনের । জমিদাতা না পাওয়াতে কবরস্থানের ব্যবস্থা এতদিন হয়নি। তবে এখন জমি পাওয়াতে এই সমস্যাটি আর থাকবে

ঈদকে ঘিরে বাড়ছে অবৈধ রিকশা

আসন্ন রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারও শহরে অত্যাধিক হারে বেড়ে গেছে অবৈধ রিক্সার সংখ্যা। এসব অবৈধ রিক্সার কারনে শহরের প্রধাণ প্রধাণ সড়কগুলোতে নিয়মিত দেখা দিচ্ছে যানজট। আর এসব যানজটে পরে নাকাল হতে হচ্ছে নারায়নগঞ্জবাসীকে। তাদের মূল্যবান কর্মঘন্টার অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। আর এ জন্য রোজা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এসব সাধারণ মানুষ।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, রোজা ও ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই গ্রাম থেকে কর্মহীন মানুষ দলে দলে শহরের দিকে ছুটে আসে কিছু বাড়তি উপার্জনের আশায়। এসব কর্মহীন মানুষ জীবিকা হিসেবে বেছে নেয় রিক্সা চালানোকে। বাড়তি এতোগুলো চালকের জন্য বৈধ রিক্সা না থাকায় সারাবছর গ্যারেজে পরে থাকা ভাঙ্গাচোরা রিক্সাগুলোকে মেরামত করে রাস্তায় নামিয়ে দেয় মালিকরা। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত রিক্সার কারনে শহরে তৈরী হয় দীর্ঘ যানজটের। ভোগান্তিতে পরতে হয় কর্মজীবী সাধারণ মানুষকে। চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত যেতে যেখানে কয়েক মিনিট লাগার কথা সেখানে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় আধঘন্টা সময়। তাছাড়া এসব অদক্ষ চালকদের কারনে প্রায়ই ঘটে নানা দূর্ঘটনা। তাই এসব ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে  ট্রাফিক বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি অবৈধ রিক্সা প্রতিরোধের আহবান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এসব মানুষ।

যানজটে আটকে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কবীর হোসেন বলেন, দিনের বেলায় শহরে ট্রাক ঢুকে না। যাত্রীবাহী বাসও মেট্রো হল ঘুরে ষ্ট্যান্ডে যায়। তারপরেও বিবি রোডে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। আর এই যানজটের মূল কারন অবৈধ রিক্সা। ব্যাংকের মোড় থেকে ২নং রেল গেইট পর্যন্ত যতদুর চোখ যায় শুধুই রিক্সা চোখে পরে। এসব রিক্সার বেশীরভাগেরই কোন প্লেট নেই। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দিব্যি চলাচল করছে এই রিক্সাগুলো কিন্তু তারা কোন প্রকার ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। সব দেখে শুনে মনে হয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সব কিছু ঘটছে।
এ সময় অপর এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জৈষ্ঠের প্রচন্ড রোদের মধ্যে এভাবে অকারনে বসে থাকতে কার ভালো লাগে? তাছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হয় একটা নির্দিষ্ট সময় হাতে নিয়ে। কিন্তু এই যানজটের কারনে সে সময় তারা ঠিক রাখতে পারেন না। এ জন্য কর্মস্থলে মালিকপক্ষের বকুনি শুনতে হয়। এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরে যে পরিমান বৈধ রিক্সা রয়েছে তার প্রায় চারগুন রয়েছে অবৈধ রিক্সা। এগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করার কথা তারা অজানা কারনে চোখ বন্ধ করে রয়েছে। তাদের চোখ খুলে দিতে হবে।

ধলেশরী তীরে বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের গোপচর এলাকায় ধলেশ^রী নদীর দখল করে ১৫টি ইটভাটার সামনের তৈরী বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৩০ মে থেকে টানা ৪ দিন ধরে দু’টি ভেকুর সাহায্যে বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদ ও ভরাটকৃত বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর তীর দখলমুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৯টি ইটভাটার সামনের বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একে এম আরিফউদ্দিন, উপ পরিচালক গোলাম মোস্তফা ও সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। এছাড়া বিপুল পরিমাণ আনসার সদস্য এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে গোপচর এলাকায় ধলেশ^রী নদী দখলে ১৫-২০টি ইটভাটার মালিক বাঁশের পাইলিং স্থাপন করেছিলেন। গত ৩০ মে থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে দু’টি ভেকুর সাহায্যে বাশের পাইলিংসহ ভরাটকৃত প্রায় ৬০ লাখ ঘনফুট উত্তোলন করা হয়। বৃহস্পতিবার গোপচরে ধলেশ^রী নদীর পূর্ব পাড়ে ৭টি ও পশ্চিম পাড়ে ২টি ইটভাটার সামনের বাশের পাইলিং উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ দিনে আরো প্রায় ৬টি ইটভাটার সামনের বাশের পাইলিং ও ভরাটকৃত বালু উত্তোলন করা হয়েছে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।

বাড়বে ডিমের দাম

ইতিমধ্যে দেশী মুরগীর ডিমের দাম ৫০ এর কোঠা ছুইছুই। গত বুধবারের বাজার শেষে ২টাকা হালিতে দাম বেড়ে ৪৮ এর কোঠায় পৌছেছে। তবে এ ক’দিনে তা ৫০ এর কোঠায় পৌছাবে এমনটাই দাবি বিক্রেতাদের। তবে দেশী মুরগীর ডিমের তুলনায় কমার আশঙ্কা করেছে দেশী হাসের ডিমের। যা ইতোমধ্যে ৩৬ থেকে ৩৮ এ উঠানামা করছে। সেই তুলনায় লাল ডিমের দামও বাড়বে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। গত কয়েকদিনের তুলনায় হালি প্রতি ২ থেকে ৩টাকা বেড়ে ৩২টাকায় পৌছে গেছে। তবে কক মুরগীর ডিম ২টাকা কমে ৩০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকালে সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবু বাজার ঘুরে এমনটাই বিক্রিতে দেখা গেছে দোকানদারদের।
ডিম বিক্রেতা মো.সাব্বির আলী জানান, মাত্র একদিনের ব্যবধানে লাল মুরগীর ডিমের দাম ২ থেকে ৩টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। যা ১০০ পিছ ডিমে বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আগে যেখানে ১০০ পিছ ডিম বিক্রি হতো ৭০০ টাকায় এখন তা ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজায় দেশি ডিমের দাম আরো বাড়তে পারে। এছাড়াও দেশী হাসের ডিম বর্ষ মৌসুম হওয়ার কারণে কম থাকার আশঙ্কা তার।

এদিকে ডিমের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে মাংসের বাজার। গত এক সপ্তাহে মাংসের বাজের দাম স্বাভাবিক রয়েছে দাবি বিক্রেতাদের। তবে রাজধানী ঢাকার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ দিগুবাবু বাজারে গরুর মাংসের কেজি প্রতি ২০ টাকা বেশি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। ঢাকায় গরুর মাংস ৪২০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও নারায়ণগঞ্জের বাজারে ৪৪০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাসীর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। যা গত একমাস ধরে একই দামে বিক্রি করছেন বলে বিক্রেতাদের দাবি।

মাটন মিট প্রজেক্ট এর বিক্রেতা মো. আবুল হোসেন জানান,‘রোজায় খাসীর মাংসের দাম বাড়ে না। তখন খাসীর মাংসের চাহিদা অনেক কম থাকে। তাই দাম না কমলেও স্বাভাবিক থাকবে।
বাদলের গরু মাংসের দোকানের বিক্রেতা মোশারফ হোসেন জানান,‘ঢাকা থেকে গরুর মাংস বিক্রি করার জন্য ৪২০ টাকা বলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা গাই গরুর মাংস বিক্রি করে তাদের জন্য এটা হলে লাভ আছে। কিন্তু যারা ষাড় গরুর মাংস বিক্রি করে তাদের জন্য এটা সম্ভব না। কারণ গাই গরুর দামের তুলনায় ষাড় গরুর দাম অনেক বেশি। সেই তুলনায় আমরা মাত্র ২০ টাকা বেশি নিচ্ছি ক্রেতাদের কাছ থেকে। কিন্তু আমাদের তুলনা করে যদি অন্যন্য দোকানে বিক্রি করে তাহলে তারা গাই গরুর মাংস ৩৮০ টাকা বিক্রি করা উচিত। তবে রোজায় গরুর মাংসের দাম এমটাই থাকবে আশা করা যাচ্ছে।

অন্য দিকে রোজা আসার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে ফার্মের মুরগীর দাম বেড়ে ১৭০ টাকা কেজিতে পরিনত হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় মুরুগীর দাম না বাড়ার আশঙ্কা বিক্রেতাদের। এর বেশি দাম বাড়লে ক্রেতা মুরগীর প্রতি চাহিদা কমে যাবে। এদিকে দেশী মুরগীর হালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা আর কক মুরুগীর মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা হালি।

আত্মগোপনের দেড় বছর পর না’গঞ্জ আদালতে তৈমূর

প্রায় দেড় বছর পর নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। গত ২০১৫ সালের ৯জানুয়ারি নিতাইগঞ্জে মিছিল করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলায় তিনি আসামী হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসলেও তিনি আদালতপাড়ায় এতদিন আসেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আইন সমিতির ভবনের ৪র্থ তলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার।

প্রধান অতিথি তৈমূর আলম খন্দকার আলোচনা সভায় বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। তার আদর্শ বাস্তবায়নে সকলকে কাজ করতে হবে। গত বছরের ৯ জানুয়ারি আমি আত্মগোপনে চলে যাই। আমার বিরুদ্ধে মামলার জামিনের পরিস্থিতি কি সেটা আপনারা সবাই জানেন। এতদিন আদালতে আসতে পারিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন তৈমূর আলম খন্দকার আদালতে ফিরে আসায় অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মত। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কজন জানিয়েছেন, আমাদের নেতা তৈমূর আলম খন্দকার আসবেন এটা আগে থেকে সবাইকে জানানো হয়নি। আমরা প্রধান অতিথির উপস্থিতির বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম। কারন স্যারের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। কিন্তু তৈমুর আলম আসা সমিতির ৪র্থ তলায় আইনজীবীদের সমাগম ঘটে। যেখানে স্থান সংকট সৃষ্টি হয়। অনেক আইনজীবী বাইরে অবস্থান করেছিলেন। আমরা ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, জেলা শহীদ জিয়া আইনজীবী সংসদ ও জেলা জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের যৌথ উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুইয়া। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট নবী হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার পারভেজ আহম্মেদ, সিনিয়র আইনজীবী  অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া, অ্যাডভোকেট রফিক আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ মোল্লা, জেলা ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন আহম্মেদ, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভুইয়া, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খান খোকা, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দীন সরকার, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান হান্টু, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান শাহিন, অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম  মোল্লা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, শহীদ জিয়া আইনজীবী সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এসএম গালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম ওমর ফারুন নয়ন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল, যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, অ্যাডভোকেট আলী হোসেন, আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া,অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজা ও অ্যাডভোকেট শারমীন আক্তার, জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন মাহামুদ মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাসেল প্রধান সহ কয়েকশ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভরাডুবির ব্যর্থতার স্বীকার তৈমূরের

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সবশেষ তথা ২০১৫-২০১৬ বছরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ঘটে। ওই নির্বাচনে ১৭টি পদের মধ্যে সভাপতি, সেক্রেটারী সহ ১৩টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলীত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, আপ্যায়ন সম্পাদক ও ৩টি কার্যকরী সদস্য পদে বিএনপি বিজয় লাভ করে।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর ওই নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেছেন, আইনজীবী সমিতির বিগত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, এ বছরের মত কখনই নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির এমনটি হয়নি। এ ধরনের কোন রেজাল্ট হয়নি। এর দায় দায়িত্ব আমারো রয়েছে। এর ব্যার্থতা আমারো রয়েছে। অতীতে বিএনপিই এ বারকে সেবা দিয়েছিল। বিএনপি আরো সেবা দিবে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৯ জানুয়ারি আমি আত্মগোপনে চলে যাই। আমার বিরুদ্ধে মামলার জামিনের পরিস্থিতি কি সেটা আপনারা সবাই জানেন। এতদিন আদালতে আসতে পারিনি। নিজের এ জায়গায় আসতে আমি উদগ্রীব ছিলাম। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে প্রতিটি ইট বালুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। আমার উৎপত্তি নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতি থেকে। সৃষ্টিকর্তা আমার জন্মের পুর্বে আমার ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। গুলি খেয়েও মরিনি। দু:সময়ে তারেক রহমানের মামলা পরিচালনায় গিয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই আমি যেনো সময়ের প্রয়োজনে সঠিক ভুমিকায় থাকতে পারি।

তৈমূর বলেন, আপন লোক আঘাত দেয় বেশি। যুগ যুগ ধরে এটা চলে আসছে। মাসুদউদ্দীনের মাধ্যমে তারেক রহমানের কোমর ভাঙ্গা হয়েছিল। মীর জাফরের ছেলে মীর মীরন সিরাজদ্দৌলাকে ছুরি মেরেছিল। সিরাজদ্দৌলার লাশ নিয়ে নেচেছিল। আপনজন আপনাকে আঘাত দিবে না সেটা আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আইন সমিতির ভবনের ৪র্থ তলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার।

বিএনপির রাজনীতিতে হঠাৎ না’গঞ্জের ডজন নেতার দিকে

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের ডজনখানেক নেতার দিকে হঠাৎ করে দৃষ্টি দিয়েছে হাই কমান্ড। এসব নেতাদের নতুন করে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের একাধিক সূত্র। ইতোমধ্যে এসব নেতাদের জন্য আলাদা প্রোফাইলও তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার খোঁজ খবর নেওয়া একাধিক নেতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা এ নিয়ে কিছুটা শংকিতও রয়েছে। হঠাৎ করে এ তৎপরতা সেটাও তারা বুঝে উঠতে পারছে না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুইজন নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ও নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলার সভাপতি মোশাররফ হোসেন, রূপগঞ্জের সভাপতি গোলাম ফারুক খোকন, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, মহানগর যুবদল আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, যুগ্ম আহবায়ক রেজা রিপন, মহানগরের তিনজন যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা, রশিদুর রহমান রশো ও শাহেদ আহমেদ।

এসব নেতাদের একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের সম্পর্কে কর্মী ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেওয়ার খবর জেনেছেন। তাদেরকে নেতৃত্বে আনলে কী হতে পারে, কারা অসন্তোষ হবে, দলের ভবিষ্যত কী ধরনের হতে পারে এ সম্পর্কিত প্রশ্নও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসব নিয়ে তাদের কয়েকজন বিচলিত হলেও আবার অনেকের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছাস। কারণ তাদের ধারণা এবার হয়তো পজেটিভ কোন ফলাফল গেলে তারা ভবিষ্যতের নেতা বনে যেতে পারেন।

এসব নেতাদের মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাশেম শকুর বিপক্ষে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা নেতিবাচক মন্তব্য ও আওয়ামী লীগ ঘেঁষা দাবী করলেও হাই কমান্ড সেটা আমলে নেয়নি। বরং ২০০৩ সালে পৌরসভা ও ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থন না দিলেও ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় শকু কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সে খবরও উঠে এসেছে। এছাড়া বিগত তথা ২০০৯ সালের আগের জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শওকত হাশেম শকুকে বিএনপি করার অপরাধে ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত পলাতক ও পরে কারাভোগ সহ চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার মামলায় চার্জশীটভুক্তের বিষয়টি হাই কমান্ড বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কারণ ওই মামলা হতে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা পার পেলেও শকুকে চার্জশীটভুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০১২ ও ২০১৩ সালে শকুকে একাধিকবার গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের প্রমাণও পেয়েছে হাই কমান্ড।

নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও কর্মসূচী সচল রাখার একজন নেতৃত্বদানকারী হিসেবেও অভিহিত করেছে ওই টিমটি। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বিএনপি নেতাদের অনেক মামলা বিনা পয়সায় জামিন ও আইনী সহায়তার দেওয়ার খবরও আছে।

এছাড়া ২০১৫ সালের জানুয়ারীর পর থেকে আন্দোলনের পর কর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়ার ইতিবাচক দিক রয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়ার দিকে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে আছে গোলাম ফারুক খোকনের নাম।

ছাত্রদলের সামগ্রিক কর্মসূচী পালন ও কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে মামলা নিয়েও পলাতক থেকে হাসপাতাল থেকে ছুটে আসার খবর রয়েছে রেজা রিপনের পক্ষে। এছাড়া স্মার্ট রাজনীতিক হিসেবে এগিয়ে আছেন মাসুকুল ইসলাম রাজীব। সহিংশতার মামলায় কারাভোগ করে এগিয়ে আছেন আশা ও রশো। এছাড়া বিগত দিনে অনেক আন্দোলন করায় নাম রয়েছে শাহেদেরও। যুবদলের নিয়মিত কর্মসূচী পালন করায় জেলা যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও মহানগরের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নাম আছে। বিগত আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরকে আলোচনায় রাখায় ওই সময়েই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মোবাইলে খোরশেদকে ফোন করে দিক নির্দেশনা দেন।

সংবাদ না করার জন্য জাতীয় পার্টির নেতার অনুরোধ

এদিকে মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে  নিজেকে রুপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দাবি করে এম এ হাসান সংবাদিকদের সংবাদ না প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়াও অভিযুক্ত বিউটি আক্তার কুট্টিকে আত্মীয় সম্পর্কে বোন হিসাবে দাবি করেন তিনি। তাছাড়া শিক্ষক ফারুক আহমেদের সঙ্গে বিউটির বাকবিতন্ডার ঘটনা স্বীকার করলেও লাঞ্ছনার বিষয় অস্বীকার করেন তিনি। এসময় তিনি শিক্ষককে জামায়াতে ইসলামের কর্মী দাবি করেন।
এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাসানকে নিজের খালাতো ভাই হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন অভিযুক্ত মেম্বার বিউটি আক্তার কুট্টি। তিনি জানান, এমএ হাসান বিভিন্ন সময় তাদের মামলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য সহযোগিতা করেন।

প্রধান শিক্ষক জামায়াতের কর্মী বলেছি কিন্তু জুতা পেটা করি নাই

অভিযুক্ত কায়েতপাড়া ইউয়িনের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে সংরক্ষতি নারী মেম্বার বিউটি আক্তার কুট্টি জুতাপেটার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘ওই শিক্ষক একজন জামায়াতে ইসলামের কর্মী। তিনি অবৈধভাবে স্কুলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ১২০ টাকার স্কুলের বেতন ১৬০ টাকা করেছেন এবং ৫ম শ্রেণীর ২৫০ টাকার বেতন ৫০০ টাকা করেছেন। এনিয়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করলে তার প্রেক্ষিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করি। তার পরবর্তীতে ওই দিন স্কুলের বেতন ও কোচিং ফি এর জন্য ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী বর্ষা নামে আমরা নাতনীকে বের করে দেয়। এ নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। যার প্রেক্ষিতে আমি ওই শিক্ষকে জুতাপেটা করবো বলি। তবে আমি তাকে জুতাপেটা করি নাই।’
বিউটি আক্তার কুট্টি আরো বলেন, ‘আমার কোন টাকার অভাব নেই। তাহলে আমি কেন আমার নাতনীকে বিনা বেতনে পড়াতে বলবো। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুলের বেতন কমানোর জন্য অনুরোধ করি। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীদের পিকনিকের কথা বলে মানববন্ধনের জন্য নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও কিছু বলে নিয়ে যায়নি।’

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার প্রতিবেদন

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘এমন একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান করে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা আগামী রোববার তদন্ত রির্পোট জমা দিবেন।
তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি পাঁচ দিনেও

রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার পর্যন্ত ট্রেনিংয়ে থাকায় ও আগামী ৪ জুন বন্দর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্ব পালনের কারণে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় কোন তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। নির্বাচনের পরে এ নিয়ে তদন্ত করা হবে।’

প্রসঙ্গত গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দির পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করানো হয়।

প্রেম না ভিন্ন ঘটনা!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১০ শ্রেনীর এক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে কথিত প্রেমিক ও তার সহযোগীরা তারাব পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকা থেকে তাকে সিএনজিতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীর পরিবার।
অপহৃতার ভাই মোবারক হোসেন জানান, তারা ময়মনসিংহের ইশ^রগঞ্জ উপজেলার কাজীর বাহেরা গ্রামের বাসিন্দা। তার চাকুরির সুবাদে পরিবার নিয়ে তারা যাত্রামুড়া এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস সহ তার বোন সালমা আক্তার(১৫) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেনীতে পড়াশোনা করছে। এদিকে স্কুলে আসা যাওয়ায় পথে যাত্রামুড়া এলাকার মোজা মিয়ার বখাটে ছেলে রাব্বি তাকে প্রায়ই প্রেম নিবেদনসহ কু-প্রস্তাব দিতো। এই ব্যাপারে সে তার ভাইকে জানালে ভাই মোবারক বিষয়টি রাব্বির পরিবারকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে যাত্রামুড়া কবরস্থান এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে করে রাব্বির নেতৃত্বে তার সহযোগীরা সালমা আক্তারতে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরনের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীর ভাই মোবারক হোসেন।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সে উদ্ধার হলেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা প্রেমঘটিত না অপহরন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২ জুন ২০১৬

Related posts