November 17, 2018

গৌতম হত্যাকান্ড : পুলিশ সুপারের বক্তব্য প্রত্যাখান তাঁর বাবার

satkhira
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর গৌতম হত্যা মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত কলেজ ছাত্র গৌতমের বাবা সদরের ঘোনা ইউপি সদস্য গনেশ চন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে ছেলে হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। ঘোনা ইউনিয়নের মহাদেবনগর গ্রামের নুর মোহাম্মদ মুক্ত, কবিরুল ইসলাম মিঠু, জামশেদ ও সাজু হোসেনসহ কয়েক যুবক চাঁদাবাজি করতো। তাদের বিভিন্ন অপরাধের জন্য আমি প্রতিবাদ করেছি সব সময়। এতে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। ১০ ডিসেম্বর পুলিশ চাঁদাবাজ জামশেদকে আটক করে। থানা থেকে ছাড়াতে আমার সহযোগিতা চাইলে রাজি হইনি। তিন দিন পর ১৩ ডিসেম্বর নুর মোহাম্মদ মুক্ত ও মাহমুদপুর গ্রামের আবদুর রহমান ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরা থানা থেকে মুক্ত হয় তারা। বাড়ি ফিরেই জামশেদ তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে জানায়, আমার যে টাকা খরচ হয়েছে তোর কাছ থেকে তার বেশি টাকা আদায় করে ছাড়বো।
গৌতমের বাবা গনেশ সরকার আরো বলেন, ওই রাতেই তার ছেলে গৌতমকে অপহরন করা হয়। পরদিন সকালে গৌতমের ফোন থেকে কল করে বলা হয়, ছেলেকে জীবিত পেতে দশ লাখ টাকা লাগবে। বিষয়টি থানা ও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে থানায় একটি জিডি করি। পরবর্তীতে ছেলেকে নিতে সীমান্তবর্তী বেড়ি বাঁধের উপর যেতে বলে। নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে যাননি। তবে পরে পুলিশসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ঘাতক শাহাদাত ও আলি আহমেদ শাওনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে কোমরপুর গেট থেকে সাজু হোসেন ও কালিগজ্ঞের পাইকাড়া গ্রাম থেকে নাজমুল হোসেন আটক করে পুলিশ। এ সময় তারা স্বীকার করে যে, ঘটনার রাতে মহসিনের বাড়িতে খাসির মাংস দিয়ে ভাত খায়। এ সময় শাহাদাত, শাওন, সাজু, নাজমুল, ওমর ফারুক, জামশেদ, মুক্ত ও মিঠুসহ ১১ জন ছিল। পরে তারা গৌতমকে হত্যা করে।

satkhira-goutam
পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদর থানার ওসি তদন্ত আলমগীর কবির ও এস আই আসাদুজ্জামান তার দেওয়া এজাহার থেকে জামশেদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরো কয়েকজনের নাম দিয়ে থানায় একটি সম্পূরক এজাহার দাখিল করেন। তিনি বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে যথার্থ কাজ করছে না। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তি পাবার পরও পুলিশ ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি নিজের ইচ্ছা মাফিক করিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অপরহরনকারীদের রেকর্ড করা ভয়েসে স্পষ্ট রয়েছে তারা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সুপার কিভাবে বলেন যে, গৌতমকে মাত্র ৫০ হাজার টাকার জন্য খুন করা হয়েছে। গ্রেফতার নাজমুল পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছে শাহাদাত গৌতমকে খুন করে। এসব জানার পরও পুলিশ সুপার কিভাবে বলেন, যে হাত-পা বাঁধা ও মুখে গুলের কোটা রাখা গৌতম গড়াতে গড়াতে পুকুরে পড়ে মারা গেছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এতে কি বুঝায় না যে পুলিশ এই হত্যাকান্ডটি ভিন্ন দিকে নিয়ে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করছে।
এ সময় ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান, ইউপি সদস্য রাবেয়া পারভিন, তাসলিমা খাতুন, নাজমিরা খাতুন, স্বপন ঘোষ, ভৈরব চন্দ্র, মোত্তাসিম বিল্লাহ নয়ন, রবিউল ইসলাম, আবুল বাসার, আবু সাঈদ মনোয়ার, আবদুল করিম, শাহীন রহমান নিজেই উপস্থিত ছিলেন।
গৌতমের বাবা গনেষ সরকার সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য প্রত্যাখান করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার মাহমুদপুর সীমান্ত আদর্শ কলেজের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র গৌতম সরকার অপহৃত হন। পরে চারদিন পর বাড়ীর পাশের একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধ ও মুখে গুলের কৌটা ঢুকানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহাদাত, নাজমুল, সাজু হোসেন, আলি আহমেদ শাওন, মহসিন কবির ও ফজিলা খাতুন গ্রেফতার হয়েছে।

Related posts