November 19, 2018

গোটা বিশ্বে ১০ মিলিয়ন মানুষ রাষ্ট্রহীন

রাষ্ট্রহীন

জাতীয়তা সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভাসমান মানুষদের দুর্ভোগের যেন কোনো ইয়ত্তা নেই। স্থায়ী ঠিকানার সন্ধানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে এখন পর্যন্ত নৌকাডুবি কিংবা সীমান্তরক্ষীদের হাতে প্রাণ দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এদের সংখ্যাটা অগণিত। নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকায় সব ধরনের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এরা। এমনকি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতন-নিপীড়ন হয়রানিরও শিকার হচ্ছে এসব কূলহারা মানুষগুলো।
এমতাবস্থায় গোটা দুনিয়ায় রাষ্ট্রহীন বা ভাসমান মানুষদের মোট সংখ্যা প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড ন্যাশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর)।
সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ রাষ্ট্রহীন। তারা কোনো দেশেরই নাগরিক নন।
শনিবার (২১ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রহীনতা দূরীকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মশালায় ইউএনএইচসিআর এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিনা লুংডেল বলেন, ‘জাতীয়তা সনদ বা পরিচয়পত্র না থাকায় শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হন অনেকে। রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সমস্যাগুলো সচরাচর দেখা যায় না। যেসব আইন ও নীতিমালার ফলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তার নাগরিক অধিকার হারায়, তা অনুসন্ধান করে মানুষের দুর্ভোগ ও বৈষম্য লাঘবে এবং রাষ্ট্র্রহীনতার ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে গণমাধ্যম।’
বিদ্যমান পরিস্থিতির সমাধানে এবং নতুন ঘটনার উত্থান প্রতিরোধে জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্র্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষায় সকলেরই সমর্থন দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দিদশা কাটিয়ে গত বছরের আগস্টে স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেলো ছিটমহলবাসীরা। বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহল বিনিময় কার্যকরের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হল উভয় দেশের ভাসমান মানুষদের। এর মধ্যে দিয়ে বিলীন হয়ে গেল এ দুটি দেশের ছিটমহল নামের বন্দিশালাগুলোর। মুক্তি মিললো এসব বন্দিশালায় দুঃসহ জীবন কাটানো প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের।
এ ইতিহাস সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব আর মানবতার ইতিহাস। ৬৮ বছর ধরে যাদের কোনো রাষ্ট্র ছিল না, ছিল না পরিচয়, সবাই যাদের চিনতো ছিটবাসী হিসেবে। এখন থেকে এই মানুষগুলো তাদের জাতীয়তার পরিচয় পাবেন। নাগরিকত্বের পরিচয় দেবেন গর্বে বুক ফুলিয়ে।
একইভাবে বাংলাদেশে-মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাষ্ট্রহীনতার সমস্যা দীর্ঘ দিনের। যা এখনো সমাধান হয়নি। পাশাপাশি গোটা ইউরোপজুড়ে এ ধরনের অভিবাসী সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিগত সময়গুলোতে আত্মরক্ষায় সাগরপাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে গিয়ে সমুদ্রগর্ভে প্রাণ দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

Related posts