October 20, 2018

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী রুটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে<<পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন গন্তব্যে

ঢাকাঃ  স্বাভাবিক কর্মদিবস, কিন্তু নগরীর সবচেয়ে বড় উড়াল সড়কে যানবাহন নেই বললেই চলে। বরং দীর্ঘ পথ মানুষ চলছে পায়ে হেঁটে। গন্তব্য কর্মস্থল। সকাল বেলা এক বিড়ম্বনা। এমন দুর্ভোগের দেখা গেলো মেয়র হানিফ উড়াল সড়কে।

কেবল উড়াল সড়ক নয়, নিচের অংশেও যানবাহনের অভাবে একইভাবে হেঁটেই যাত্রাবাড়ী ও আশেপাশের এলাকার মানুষদের কর্মস্থলে আসতে হয়েছে হেঁটে। তাদের এই দু্র্ভোগের কারণ পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘট।

সোমবার সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিবহণ শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে আজ সকাল থেকে সায়েদাবাদ থেকে স্বল্প ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে ওই রুটে চলাচলকারী অফিসগামী মানুষ কর্মস্থলে যেতে গাড়ি পাচ্ছেন না।

যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ডেমরা, জুরাইন, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর, কদমতলী, চিটাগাং রোডের লাখ লাখ যাত্রীর এই দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন বা পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কেবল স্বল্পপাল্লা নয়, দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে চলাচলকারী যাত্রীরাও আছেন ভোগান্তিতে। কোনও বাস ছাড়ছে না বা ঢাকার দিকে আসছেও না।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল ফজল। তিনি বলেন, ‘শনিরআখড়া থেকে বাস না পেয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত হেঁটে এসেছি। এখানে এসেও দেখি কোনো বাস নেই। আঘা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা কোনোটাই পাচ্ছি না। এখন মনে হয় মতিঝিল পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হবে।’

আবুল ফজল বলেন, ‘সকাল বেলা অফিস যাওয়ার সময় এই দুর্ভোগ সহ্য হয় না ভাই। আমাদের কি দেখার কেউ নেই?’

জুরাইন বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ বাসের অপেক্ষায় থাকা সিফাত জাহান জানান, সকাল থেকেই বাসের দেখা নেই। অনেকক্ষণ পরপর দুই একটি বাস আসলেও তাতে উঠে পড়ার জন্য প্রতিযোগিতা লাগে। ফলে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারীদের বাসে ওঠা মুশকিল।

কর্মস্থল, স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাস না পেয়ে যাত্রীদেরকে মতিঝিল ও গুলিস্তানের অভিমুখে হাঁটতে দেখা গেছে। উড়াল সড়কে পায়ে হাঁটার জন্য আলাদা করে কোনো পথ না থাকলেও সড়কের প্রান্ত ঘেঁষে সারি বেঁধে হাঁটতে দেখা গেছে তাদের। এমন দৃশ্য দেখা গেছে উড়াল সড়কের নিচেও।

Related posts