September 20, 2018

গুলিবিহীন অস্ত্র ধরিয়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা, বলছেন তাহমিদ

ষ্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের একজন তাহমিদ হাসিব খান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার হাতে একটি অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে জঙ্গিরা হাসনাত করিমের সঙ্গে তাকেও হলি আর্টিজানের ছাদে নিয়ে যায়। তবে ওই অস্ত্রে কোনো গুলি ছিল না। অন্যদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিন করিম বলেছেন, জঙ্গিরা সারারাত তাদের বন্দুকের সামনে রেখেছিল এবং তার স্বামী হামলাকারীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এদিকে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খান ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা, এ প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে। ওই দুজনের মধ্যে হাসনাত করিমের বেশকিছু গতিবিধির ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং তার অতীত কিছু কর্মকা-ে অনেকেই তাকে নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। হলি আর্টিজানের ছাদে জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের ২-৩টি স্থিরচিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের বক্তব্য থেকে বেশকিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে।

সূত্র জানিয়েছে, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর দিন সকালে ভারতীয় নাগরিক ডা. সত্যপ্রকাশসহ ৮ জনের সামনে থেকেই জঙ্গিরা হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে ছাদে নিয়ে যায়। ডা. সত্যপ্রকাশ আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বলেছেন, ওই দুজনকে অস্ত্রের মুখেই ছাদে নিয়ে গিয়েছিল জঙ্গিরা। কিন্তু কেন তাদের ছাদে নিয়ে যাওয়া হলো? তাদের ছাদে নিয়ে জঙ্গিরা কী বোঝাতে চেয়েছিল? নাকি তারা স্বেচ্ছায় ছাদে গিয়েছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নানামুখী তদন্ত চালাচ্ছেন কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তাহমিদ হাসিব খান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার হাতে একটি অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে জঙ্গিরা হাসনাত করিমের সঙ্গে তাকেও হলি আর্টিজানের ছাদে নিয়ে যায়। তবে ওই অস্ত্রে কোনো গুলি ছিল না। গুলিবিহীন অস্ত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে ছাদে নিয়ে যায় জঙ্গিরা।

আর যে ৮ জনের সামনে থেকে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের মধ্যে তাহমিদের দুই বান্ধবীও ছিলেন। তারাও তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, বন্দুকের মুখেই দুজনকে ছাদে নেওয়া হয়। ৮ জনের মধ্যে হাসনাত করিমের স্ত্রী ও সন্তানও ছিল। পুলিশ রিমান্ডে হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের দেওয়া জবানবন্দি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখছে তদন্ত কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া হামলার আগে জঙ্গিদের সঙ্গে এ দুই সন্দেহভাজনের কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গি হামলার দিন সকাল থেকে হলি আর্টিজানে প্রবেশ পর্যন্ত এ দুই সন্দেহভাজন কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, তাদের সেলফোনে যেসব কল ইনকামিং ও আউটগোয়িং হয়েছে, তারা কারাÑ এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্রগুলো বলছে, কমান্ডো অভিযানে হলি আর্টিজান থেকে ৩২ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ৯ জন ইতোমধ্যে সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের কারো কারো জবানবন্দিতে হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের বিষয়ও উঠে এসেছে। এ ছাড়া জিম্মি হওয়ার পর থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত ২১ জনের কে কী অবস্থায় হলি আর্টিজানে ছিলেন সে বিষয়ও উঠে এসেছে।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে হাসনাত করিমের স্ত্রী শারমিন করিম বলেছেন, ওই রাতে রেস্তোরাঁয় উপস্থিত থাকার একমাত্র কারণ আমার মেয়ের ১৩তম জন্মদিন উদযাপন। সন্তানরা হাসনাতের জীবন, তিনি কখনই আমাদের কোনো তির মধ্যে ফেলতে পারেন না। আমরা হাসনাতের পরিবার, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে হামলাকারীরা সেটার সুবিধা নিতে চেয়েছিল। তারা জানত, তিনি কখনই আমাদের ছেড়ে যাবেন না। সে কারণেই তারা সে রাতে অনেক কিছু করতে তাকেই বেছে নেয় এবং তাকে সেদিন মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সারারাত আমাদের বন্দুকের সামনে রেখেছিল এবং আমার স্বামী হামলাকারীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাদের নির্দেশ মতো কাজ না করলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তারা তার কাছ থেকে আইডি ও মোবাইল ফোন নিয়ে তারপর ইন্টারনেট ব্যবহার করেছিল।

Related posts