September 20, 2018

গুলশান হামলার মূল হোতা ভারতে

ঢাকাঃ গুলশান হামলার মূল হোতা তামিম চৌধুরীসহ জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর অন্তত পাঁচ জন সদস্য ভারতে প্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ করছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে এই পাঁচ সন্দেহভাজনের তালিকা ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নুরুল হক মণ্ডল ওরফে নাইমকে ফেরত দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার পৃথক খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভারত সফরকালে গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠকে সন্দেহভাজন পাঁচ জেএমবি সদস্যের ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেই বৈঠকেই নাইমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গেল সপ্তাহেই র্যাব ৬৮ জন নিখোঁজ ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০১১ সাল থেকে নিখোঁজ এসব ব্যক্তির বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছর। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন অন্তত পাঁচজন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ। গুলশান হামলার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের মতো ভারতীয় রাজ্যগুলো সতর্ক রয়েছে। সে সতর্কতার মধ্যেই এবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গির তালিকা ভারতকে দেওয়া হল।

তালিকার পাঁচ সন্দেহভাজনের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরীর নাম। তাকে গুলশান হামলার হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী এবং আইএস-এর সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। খবরে বলা হয়, তামিম চৌধুরী আবু ইব্রাহিম আল হানিফ চৌধুরী নামেও পরিচিত। ২০১৬ সালে আইএসের কথিত ম্যাগাজিন দাবিক-এ তার একটি সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হয়েছিল। কানাডা থেকে তামিম ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসে।

আরেক সন্দেহভাজন জুনুন শিকদার। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জুনুনকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ার সময় ২০১৩ সালেও সে আটক হয়েছিলো। জুনুন জিহাদি সংগঠনটির সদস্য সংগ্রহের কাজ করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অবশ্য জামিন নিয়ে সে মালয়েশিয়ায় চলে যায়।

সন্দেহভাজন আরেকজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাজিবুল্লাহ আনসারি। সে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে মালয়েশিয়া গিয়েছিলো। গত বছর আইএসে যোগ দিতে ইরাকে যাওয়ার কথা জানিয়ে ভাইকে চিঠি লেখার পর চট্টগ্রাম পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়।

এটিএম তাজউদ্দিন নামের আরেক সন্দেহভাজন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অধ্যায়নরত অবস্থায় নিখোঁজ হন। চলতি মাসের শুরুর দিকে লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। আর গত এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি তথা সুজিত দেবনাথ।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সে দেশে গ্রেফতার সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নুরুল হক মণ্ডল ওরফে নাইমকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর কলকাতা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শাকিল গাজী ও করিম শেখ নামের দু্ই ব্যক্তি নিহত হন। এনআইএর দাবি অনুযায়ী তারাও জেএমবির সদস্য ছিলেন এবং বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন।মানব জমিন

Related posts