September 21, 2018

গুলশান মহড়া বড়দের রক্তাক্ত নাটক!

আবু জাফর মাহমুদ
আবার বিশ্বের সংবাদ শিরোনাম বাংলাদেশ।গুলশান এখন বঙ্গভবনের চেয়ে প্রাধান্যে এসেছে  আলোচনায়।সবার নজর যখন গুলশানে তখন বাংলাদেশে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ সাজানোর কাঠামো গুছাতে ব্যস্ত অন্যেরা।লেকের পাশে আকর্ষণীয় খোলা ছাদের রেস্তোরাঁ Holey Artisan Bakery cafe লুটেরা ধনীদের বিলাসী আড্ডা।বিদেশী ও স্থানীয় ধনাঢ্যদের ফুর্তির সাথে ভোজনের এক উল্লেখযোগ্য আপন ঘর।তাতেই তারা বিশ্বমানের প্রচারযোগ্য আক্রমণ চালালো শুক্রবারে।রমজানের আখেরী জুম্মার দিনে।শবে কদরের দিনে।শবে কদরের রাত আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন।

এরাতকে হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ট বলেছেন জগতের স্রষ্টা নিজেই।বাংলাদেশী মুসলমান সমাজকে ঈমান রক্ষার চেয়ে এই দিন রাত নিশ্চয়ই অন্যমণযোগে বা শয়তানের সাথে ধর্মনিরপেক্ষ জীবন যাপনে অর্থাৎ আল্লাহর এবাদত থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার লক্ষ্য কাজে লেগেছে।তাই বলতে পারি, দিন বাছাইতেও পরিকল্পনাকারীদের মুন্সিয়ানার কৃতিত্ব অপরিসীম। আল্লাহর এবাদত থেকে অন্যদিকে মনোযোগ পরবর্তনের জন্যে করা হয়েছে মোক্ষম ইস্যু।

আক্রমণে টার্গেট করা হয়েছে মুসলমানের ইমেজ, বদনামটাও চাপিয়ে দেয়া হয়েছে মুসলমানের কাঁধে। চাতুর্যটা বেশ  মজার। আমেরিকায় কদিন আগে গে ক্লাবে গণহত্যার টেরর হরর সৃষ্টি করানোর পর তাতেও প্রচার দেয়া হয়েছে এই হত্যা  ইসলামধর্মে নিষিদ্ধ কাজ বন্ধ করার লক্ষ্যে।অবশ্য আসল কথা ধীরে ধীরে বের হয়েই এসেছে।তাতে ইসলামের কোন সম্পর্ক ছিলোনা।বাংলাদেশে কি হচ্ছে?গুলশানে নাটকীয় লোমহর্ষক ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরের দৃশ্যে কি আসছে?  বলা যাচ্ছে, কারা আরো জেঁকে বসবেন এই বাংলায়, তাই হবে বাঙালি দালাল,প্রজা, চৌকিদারদের দেখার বিষয়।বাংলাদেশ সরকারকে এই খেলায় খুব আত্নবিশ্বাসী দেখা যাচ্ছে।খুশী খুশী মনে হচ্ছে।সাবাস্‌ স্বাধীনতার চেতনার সরকার!

গুলশানে কি কি ঘটেছে তার সংবাদ ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া গেছে তাদের নিরন্তর পরিশ্রমের ফলে।ঘটনার বিবরণ  নিয়ে সময় আমরা নেবোনা।ঘটনার পেছনে কারা থাকতে পারে?ঘটনার ফলে লাভবান হচ্ছে কারা?সে দিকে আমাদের নজর  ফিরাবো অন্যান্যদের সাথে মত বিনিময়ের জন্যে।বিশ্ববিখ্যাত গণমাধ্যমগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো ঘটনার লাইভ দেখানোর জন্যে।তাও হয়েছে ঠিকঠাক মতো।তারা জানাতে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ভালোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।দেশ,দেশের সরকার ধর্মনিরপেক্ষ হলেও উগ্র ইসলামী মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের সাহস অনেক বেড়ে গেছে।এই প্রচারণার ধারাবাহিকতা সুদূরপ্রসারী। ভৌগোলিক গুরুত্বে সামরিক অগ্রধিকারে বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারছে কি নিজের স্বকীয়তায়?গুলশান ঘটনা কিসের ঈঙ্গিত দেয়?দেশ কি আমরা চালাই,নাকি আমাদেরকে সামনে রেখে মহামিত্ররা চালায়?

বৈশ্বিক সংবাদ মাধ্যমের মালিকরা কি চান?কাদের হয়ে তারা এই সংবাদের মোড় ঘুরান?যারা ঘটনার পরিকল্পনাকারী আর যারা প্রচারের দায়িত্ব নেন,ডিল হয় তাদের মধ্যে।তা সাধারণদের মাথায় ধরবেনা।বাংলাদেশী সাধারণ মানুষের সন্তান তো আমরা,নিজেরা তারচেয়েও সাধারণ।আমাদের চৌদ্ধ পুরুষ গোলাম ছিলো,আমরাও গোলাম।আমরা আমাদের বংশধর দেরকে আরো গোলাম করে দিয়ে যাচ্ছি।পিলখানা, গুলশান একের পর এক।এভাবেই সিরিয়াল।
এশিয়া-প্যাসিপিক অঞ্চলে পাকিস্তান থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসে কান্ডারীহীন নৌকা মার্কা স্বাধীন বাংলাদেশ মানচিত্রে নাম লেখানোর পর থেকে নিজ সন্তানদের জীবন বলি দেয়ার অন্যতম বিশ্বকেন্দ্র হয়ে চলেছে।এখানে বিশ্বমানের বীরের জন্ম হয় অগণিত।নিজেকে চিনবার আগে,বুঝবার,জানবার আগে হত্যার শিকার হয়ে বিদায় হয়ে যায় এই মহাবীররা।একে একে অথবা একত্রিত করে  নির্মূলে পাঠানো হয়  ঘাতকের আঘাতে আঘাতে।

নিজেরকথা,আমার নিজ দেশের কথা দেশবাসীর কথা ভাবছিলাম। চোখের সামনে তখন রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের দাপটে  সন্ত্রাসীদের পরাজিত এবং নির্মূল হওয়ার সংবাদ।সাজানো যুদ্ধের নাটকের মতো মনে হয়েছে।যেমন সিনেমা করার জন্যে ঘটনা চিত্রায়িত হয়।বাংলাদেশীরা নিজেদের মধ্যে তূলনামূলক পারস্পরিক সহমর্মিতায় এগিয়ে থাকলেও বিদেশী ক্ষমতাধরদের দালালি, চাটুকারিতা ও আতিথিয়তায় অতুলনীয় সম্ভ্রান্ত।এদেশে গরীবরা  ধর্মভীরু।ধনীরা অসৎ উপায় পছন্দ করে।এই ধনীদের সাথে ভারত-পাকিস্তানী ধনীদের চরিত্র-চেতনায় মিল আছে। রাজনীতিকরাও একই ধারার বাকপটু।

পাকিস্তানের দিকে নাক উঁচু করলেই নাক বরাবর পাকিস্তানি সিপাহিদের গুলি এসে যায়।চীনের দিকে তাকানোও হয়না তাদের।এজন্যে বাকি আছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ মুসলমান-বিদ্বেষী শাসক এবং মহাশাসকদের জন্যে তসলিমা।তসলিমা আরবী শব্দ।তসলিমা অর্থ শান্তি।এখানে তারা শান্তি মতে সামাজিক ঐতিহ্যকে দলন করতে পারেন।বাংলার রাজনৈতিক নেতা সেনাঅফিসার শিক্ষিত অধ্যাপক,ছাত্রনেতা,ব্যবসায়ী, যৌন আবেদনময়ী রমণীরাই বাংলাদেশকে তার ঐতিহ্য থেকে দূরে সরাতে দায়িত্ব পালন করছেন।কারো কাছে এই দায়িত্ব চাকরি, কারো কাছে ব্যবসা,কারো কাছে হিসেব-নিকেশ। কেউ কেউ পরাজিত অপদার্থ জেনারেল নন্দলালের সুরে বলেন,প্রতিবেশীর ইচ্ছের বাহিরে বাংলাদেশের কি করার আছে?তার চেয়ে সহজে জীবন বাঁচানোই সৈনিকের বাহাদুরি।

বাংলাদেশে আই এস ইস্যু নিয়ে এমনিতেই বাতাস গরম।তাই তা  নিয়ে এই প্রবন্ধে আলাপে যাচ্ছিনা।তবে স্থানীয় বাংলাদেশী রাজনীতির সাথে গুলশান রক্তপাতের কোন সম্পর্ক থাকার নমুনা সন্ধান করা ঠিক হবেনা।স্থানীয় রাজনীতি গত কবছরের ছকেই চলছে বলেই এখনো দেখা যায়।

পাকিস্তান-আফগানিস্তানে শতভাগ অবস্থান নিরাপদ না থাকার সম্ভাবনায় মহাশক্তি আমেরিকা বাংলাদেশকে আর কেবল মাত্র ভারতীয় অঙ্গরাজ্যরূপে দেখে দেখে সময় যাপন করবে? ভারত নিজেকে  নিরাপদ ভাবছে বাংলাদেশে সরকারের সব স্তরে নিজেদের লোক দিতে পারায়।তারপরেও ভারত কেনো ইজরাইলের পথকে নিজের পথ ভাবছে বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে?সেটাইতো কথা।এই কথা বুঝলেতো  সমস্যার ভেতরে আর জট থাকেনা।

(লেখক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চেয়ারম্যান,কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ)(ইহা লেখকের একান্ত ব্যক্তি গতমত, প্রকাশক বা সম্পাদক দায়ী নহে)

Related posts