September 21, 2018

গুলশানের আবাসিক হোটেলে ভারতীয়দের অবৈধ ব্যবসা

ঢাকাঃ রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের আবাসিক হোটেলে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে রাহুল সঞ্জয় জুনজুনওয়ালা নামে ভারতীয় এক নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে হোটেলে মেলার আয়োজন ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির অপরাধে সম্প্রতি তাকে আটক করে মূসক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

গুলশানের সিক্স সিজন হোটেলে রাহুল অবৈধ এ ব্যবসা পরিচালনার করে আসছিলেন। তিনি ভারতের মুম্বাইয়ের অদিবাসী।

সিক্স সিজন হোটেলের প্রায় ৪০০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে রাহুল গড়ে তোলেন এ অবৈধ ব্যবসার কারবার। ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য ৪ দিনের মেলার ঘোষণা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও থ্রি-পিস বিক্রির মধ্য দিয়ে অবৈধ এ ব্যবসা শুরু করা হয়। প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপির পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে হোটেলে ডিসপ্লে করেন রাহুল। অভিজাত এলাকায় উঁচু শ্রেণির ক্রেতাদের কাছে বিক্রির মধ্য দিয়ে জমে ওঠে এ অবৈধ ব্যবসা। কিন্তু বিপত্তি ঘটে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) গোয়েন্দাদের অভিযানে। সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে চোরাই পথে আনা এ সব পণ্য সামগ্রিসহ জুনজুনওয়ালাকে আটক করা হয়।

ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এ ভারতীয় নাগরিক। ব্যবসা শুরুর আগে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কোনো দফতরের অনুমতি নেননি তিনি।

জুনজুনওয়ালা সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে এসেছেন। ভারত থেকে বিক্রির উদ্দেশে পণ্যগুলো চোরাই পথে এনেছেন তিনি।

জানা গেছে, ২২ জুন আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ৬টি কাপড়ের ব্যাগে করে পণ্যগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসেন জুনজুনওয়ালা। এরপর এ পণ্য স্থলপথে আসে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে। পরে হোটেল কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিক সিক্স সিজনে গড়ে তোলেন অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

বিষয়টি নিয়ে মূসক গোয়েন্দার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত থেকে এ সব পণ্য সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া পণ্য বিক্রি করে কীভাবে ও কোন পদ্ধতিতে ভারতে অর্থ স্থানান্তর করা হচ্ছে তার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পরেননি আটক ভারতীয় নাগরিক। সুতরাং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মুদ্রা পাচারের বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সুকৌশলে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভারতে পাচারের মাধ্যমে প্রযোজ্য শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছিলেন আটক ভারতীয় নাগরিক।

বিষয়টি নিয়ে মূসক গোয়েন্দার অতিরিক্ত মহাপরিচালক বেলাল চৌধুরী জানান, আটক ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। তার বিরুদ্ধে চোরাচালানির অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ পণ্য বিক্রি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহযোগিতা করার অপরাধে সিক্স সিজন হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছি আমরা। একই সঙ্গে এত পণ্য শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে চোরাই পথে কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা তদন্ত করতে ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Related posts