November 14, 2018

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

420

ঢাকাঃ জঙ্গি তৎপরতা ও এর উত্থান রোধে ব্যাপক অভিযান-প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। জঙ্গি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কয়দিন ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারির পর উদ্বেগ আরো বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অফিস আদালত ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে জোরদার করা হয়েছে পুলিশি টহল। ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে এসএমএসের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারির পর জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দিন ধরে নগরীর বেশ কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ অভিভাবকই স্কুল শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত বাইরে অপেক্ষমাণ। এত দিন যেসব শিক্ষার্থী একাকী বাসায় ফিরত, অভিভাবকেরা এখন তাদেরকে আর একা ছাড়ছেন না।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তানদের আনা-নেয়ার জন্য পোশাকধারী পুলিশের সাথে সাদা পোশাকি নিরাপত্তারক্ষী দেয়া হয়েছে। সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েদের আনা-নেয়ার জন্য পুলিশ ডিউটি করছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তা টহলও জোরদার করা হয়েছে। ব্যাপকবলয় তৈরির কারণে মানুষ যেমন আশাবাদী হচ্ছে ঠিক তেমনি উল্টোটাও ঘটছে। কেউই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। স্কুল ছুটির পর দ্রুতই আঙিনা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি থানা ও সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে আকস্মিকভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। জঙ্গি হানার আশঙ্কায় পুলিশি এসব স্থাপনার গেটও লাগিয়ে দেয়া হয়। উচ্ছেদ করা হয় আশপাশ ফুটপাথের দোকান। পুলিশ থানা ও ফাঁড়ির আশপাশে সাধারণের গাড়ি পর্যন্ত দাঁড়াতে দেয়নি। এতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। পয়লা জুলাই গুলশানে হোলে আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকার স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি চলছে। বেশির ভাগ ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলেনি। তাদের সময় বাড়ানো হয়েছে। গুলশান বনানীর কূটনৈতিক জোনে নিদ্রি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। সন্ধ্যার পর সড়কে যানবাহন চলাচল কমে যায়। অভিজাত এই এলাকার হোটেল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস নেমেছে।

শুধু গুলশান বনানী নয়, আতঙ্ক দেখা দিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটগুলোতেও। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলো থেকে থানায় ও পত্রিকা অফিসে ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে ওমুক মার্কেটে হামলা হবে এমন কোনো সংবাদ পেয়েছেন কি না। গত সোমবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি কম্পিউটার মার্কেট থেকে একজন ব্যবসায়ী ফোন করে জানতে চান ওই মার্কেটে জঙ্গি হামলার কোনো তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে আছে কি না একটু খোঁজ নিয়ে জানান। কারণ এখানে গুজব উঠেছে এই মার্কেটে হামলা হতে পারে। আবার গুলশানের একটি অভিজাত শপিংমলে থাকা একজন ক্রেতার স্বামী ফোনে তাকে জানান, ‘এখনই বেরিয়ে এসো, ওই মার্কেটে হামলা হতে পারে’। স্বামীর কাছ থেকে ফোন পেয়ে ভয়ে তিনি দৌড়ে বেরিয়ে যান। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাস-ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যেও। তারা বাসে উঠলে পাশের সিটের লোকদের ভালোভাবে দেখে নিচ্ছেন। কারো কাছে ব্যাগ থাকলে আতঙ্কটা আরো বেড়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

Related posts