September 21, 2018

গুটিয়ে যাচ্ছে তৈমূর বলয়

রফিকুল ইসলাম রফিকঃ   ভাই ভাগিনা মুহুরী বডিগার্ড হেলপার ড্রাইভার পিএস এপিএস আর কিছু চাটুকার বাহিনীর লোকজন ছাড়াল তৈমূর আম খন্দকারের সাথে কেউ নই। নারায়ণগঞ্জে চারদিক গুটিয়েছে গেছে তৈমূর আলম বলয়। কথায় কথায় নেতাকর্মীদের সাথে অশোভন আচরন ও আর ফাপরবাজির কারনে নেতাকর্মীরা তার বলয় ছাড়ছেন। বিএনপির বারোটা বাজিয়ে তৈমূর আলম খন্দকার এখন নিজেই নিজেকে মজলুম জননেতা আখ্যা দিয়ে নিজেকে জনগনের পীর সাজার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, তৈমূর আলম খন্দকারের দুই সেনাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস ও এটিএম কামাল। এর মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস জেলা বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হলেন এটিএম কামাল। এখন দুজনই তৈমূর বলয় ছেড়েছেন। অনেক আগেই জান্নাতুল ফেরদৌস তৈমুরকে ত্যাগ করেছেন। গত বছর ৮ মাস কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে এটিএম কামালও তৈমূরের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। ওই সময় জান্নাতুল ফেরদৌসকে অন্য সব প্রার্থীরা সমর্থন করে সরে যান। কিন্তু বিএনপি কার্যালয়ে সভায় কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরে মিডিয়াতে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করে দেন তৈমূর। জান্নাতুল ফেরদৌস সেই থেকেই ক্ষুব্ধ তৈমুরের প্রতি। অন্যদিকে নানা কারণেন এটিএম কামালও তৈমূরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতিতেও তৈমূরের ধস। আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরও তৈমূরকে ত্যাগ করেছেন। শহর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও নেই তার সাথে। এর আগে তৈমূরের বাসাতেই তৈমূরকে ছেড়ে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহম্মেদ ও যুগ্ম সম্পাদক নরুল হক চৌধুরী দিপু উপরে উপরে তৈমূর পন্থী মনে হলেও কয়েক মাস পূর্বেও ভারতে জাকির খানের সঙ্গে কমিটি গঠন নিয়ে সাক্ষাত করেছিলেন হাসান আহম্মেদ। তৈমুরকে ত্যাগ করেছে শহর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাসেম শকু।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস এখন তৈমুরকে পাত্তা দিচ্ছেনা। যে কারনে কদিন পর পর তৈমুরের বাসায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মীদের নিয়ে মুহাম্মদ শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সভা করছেন। এর আগে থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু সুবিধা দিলেও পরবর্তীতে সেন্টুও সরে যান। আর যে কারনে সেন্টুকে অব্যাহতি দিয়েছেন তৈমূর আর শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাসকে শোকজ করলেও তৈমূরের শোকজকেও পাত্তা দিচ্ছেন তারা। আর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম অনেক আগে থেকেই তৈমূরের প্রতি ক্ষুব্দ। বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নুরউদ্দীনও আগের মত তৈমূরকে সঙ্গ দিচ্ছেন না। আর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক হিরন তো অনেক আগেই তৈমূরের বিরুদ্ধে জুতা ঝাড়– মিছিল করে কুশপুত্তলিকাদাহ করেছিলেন।

বন্দর কদমরসূল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মাজহারও তৈমুরকে ত্যাগ করেছেন। আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি এএম বদরুজ্জামান খান খসরু এক সময় তৈমুর বলয়ে থাকলেও এখন তৈমুর কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করায় খসরুর সাথে দুরত্ব। আর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবুকেও তৈমুর অব্যাহতি দিয়েছিলেন যে কারনে হাবুও তৈমুরের বিরুদ্ধে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক সফর আলীকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় সফর আলীও তৈমুর বলয়ে নেই। সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহামুদও তৈমুর বিরোধী।

সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান এখন তৈমুরকে তোয়াজ করেন না। আর সভাপতি খন্দকার আবু জাফর তো অনেক আগেই তৈমুরের বিরুদ্ধে। এছাড়াও জেলা যুবদল, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল, জেলা ছাত্রদল, মহানগর ছাত্রদল, জেলা কৃষকদল সহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতারাও তৈমুরের বলয়ে নেই। তবে মহানগর যুবদলে তার ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও মহানগর ছাত্রদলে তার ভাগিনা রশিদুর রহমান রশু থাকার কারনে একাংশের নেতাকর্মীরা তৈমুরের বলয়ে রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১০ মে ২০১৬

Related posts